শ্মশানে পুড়ছে স্ত্রী, করোনা আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যু হাসপাতালে, কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ৩ মৃত্যু দেখল খড়গপুর

2542
শ্মশানে পুড়ছে স্ত্রী, করোনা আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যু হাসপাতালে, কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ৩ মৃত্যু দেখল খড়গপুর 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: মা কে শ্মশানে দাহ করার সময় ছেলে খবর পেল বাবারও মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে দুই মৃত্যু বেসামাল করে দিয়েছে পরিবারকে। পরিবার জানতেই পারেনি করোনা ঢুকে বসে আছে ঘরের ভেতর। খড়গপুর শহরের ১০নম্বর ওয়ার্ডে ১ ভগবানপুরের মাত্র ১২ ঘন্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে প্রতিবেশীদের।
সোমবার ভোর তিনটা নাগাদ মৃত্যু হয়েছে মায়ের, বছর ষাটেকের ওই বৃদ্ধার যকৃতে জল জমে গিয়েছিল এমনটাই জানিয়েছিল পরিবার। রবিবার তাঁকে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। হালকা জ্বরের উপসর্গ আর পেট ব্যথা। ঘটনা হচ্ছে শনিবারই এই হাসপাতালে আনা হয়েছে মহিলার স্বামীকেও।

৬৭ বছরের বৃদ্ধ প্রবল শ্বাসকষ্ট আর জ্বরে ভুগছিলেন। শ্বাসকষ্ট প্রবল হলে পরিবারের লোকেরা তাঁকে প্রথমে খড়গপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। খড়গপুর মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবস্থা খারাপ দেখে পাঠিয়ে দেয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে। পরিবারের এক সদস্য জানান, “যেহেতু বাবা আগেই মেদিনীপুর মেডিক্যালে তাই মাকেও পরের দিন ওখানেই নিয়ে যাই কারন তা নাহলে আমাদের দু’দিকে দৌড়াতে হবে।” স্বামী স্ত্রী দুজনেই একই হাসপাতালে ভর্তি। পরিবারের সদস্যরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল চত্বরেই।

শ্মশানে পুড়ছে স্ত্রী, করোনা আক্রান্ত স্বামীর মৃত্যু হাসপাতালে, কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে ৩ মৃত্যু দেখল খড়গপুর 2

মহিলা অবশ্য ধকল নিতে পারেননি। ভর্তি হওয়ার ১৮ ঘন্টার মধ্যেই সোমবার ভোর ৩টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। সোমবার মৃত দেহ আনতে আনতে বেলা গড়িয়ে যায়। সন্ধ্যা নাগাদ পরিবারের লোকেরা দেহ নিয়ে চলে আসে খড়গপুরে। শেষকৃত্যের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার পর দেহ শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ কার্য শুরু করার পরই অনেক রাতে খবর আসে বৃদ্ধেরও মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বৃদ্ধ জ্বর ও শ্বাসকষ্টর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তাই শুরুতেই করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্ৰহ করা হয়। রবিবার পেরিয়ে সোমবার রাতে খবর আসে বৃদ্ধ পজিটিভ। মঙ্গলবার সকালে পরিবার এবার বৃদ্ধের মৃতদেহ আনতে গিয়ে জানতে পারে যে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন।
বৃদ্ধা পজিটিভ বা নেগেটিভ ছিলেন জানার উপায় নেই কারন তাঁর পরীক্ষা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় নমুনা নেওয়ার কথা। জানা গেছে বৃদ্ধের যেহেতু করোনার নমুনা নেওয়া হয়েছিল তাই কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করছিলেন ফলাফল আসার জন্য কিন্তু সেই ফলাফল আসে সোমবার রাতে। মাঝখানে কোনও ভুল বোঝাবুঝি থেকে মহিলার দেহ দিয়ে দেওয়া হয় পরিবারকে। ফলে বোঝার উপায় হয়নি তিনি পজিটিভ ছিলেন কিনা। বৃদ্ধের মৃতদেহ আর দেওয়া হয়নি পরিবারকে। প্রশাসনের তরফেই খড়গপুর মন্দিরতলার বৈদ্যুতিক চুল্লিতে তাঁর দেহ দাহ করা হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে সোমবারই বিকালে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে যখন বৃদ্ধ মারা যান প্রায় সেই সময়েই শালবনী করোনা হাসপাতালে মৃত্যু হয় খড়গপুর শহরের পুরানো বাজার নিবাসী এক বছর ৪৫য়ের ব্যক্তি। এই ব্যক্তি ছিলেন খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষী ছিলেন। প্রায় ১৫দিন আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে শালবনীতে গিয়ে ছিলেন তিনি। খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের মেডিকেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা ধরে পড়ে তাঁর। ফলে সেই সময় ওয়ার্ড সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল যা স্যানেটাইজ করার পর ফের চালু করা হয়।

শহরে কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে এই তিনটি মৃত্যুর মধ্যে ২টি করোনা নিশ্চিত হওয়ায় এ পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃত্যু হল। প্রথম মৃত্যু হয়েছিল ২৯শে মে মেদিনীপুর শহরের লাগোয়া ৬০নম্বর জাতীয় সড়কের বাইপাসে তৎকালীন অধিগৃহীত একটি বেসরকারি হাসপাতালে। শহরের পাঁচ বেড়িয়া এলাকার এক ৪৭ বছর বয়সী ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। অর্থাৎ প্রায় ৭৫ দিনের ব্যবধানে ৯ জন ব্যক্তির মৃত্যু হল করোনা উপসর্গ নিয়ে। যদিও এরমধ্যে বেশিরভাগই কো-মর্বিডিটি জনিত মৃত্যু বলে জানিয়েছে প্রশাসন।