পজিটিভ রোগিকে ফিরিয়ে দিল আয়ুশ, বাড়িতে ফেরার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু! খড়গপুরের ঘটনায় হতভম্ব পরিবার

1235
পজিটিভ রোগিকে ফিরিয়ে দিল আয়ুশ, বাড়িতে ফেরার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু! খড়গপুরের ঘটনায় হতভম্ব পরিবার 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: চিকিৎসকরাই যদি বুঝতে না পারেন রোগির অবস্থা কী রকম বাড়ির লোকেরা বুঝবেন কী করে? কেস হিস্ট্রি বলছে কয়েকদিন ধরে ছাড়েনি জ্বর। প্রাথমিক ভাবে যে চিকিৎসক দেখেছিলেন তিনি বলছেন, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল। চিকিৎসা শাস্ত্র বলছে অক্সিজেনের মাত্রা নিজে থেকে কমতে থাকাটা বিপদের লক্ষন। এধরনের রোগিকে কৃত্তিম অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা আছে এমন জায়গাতেই রাখাটাই বাঞ্চনীয় তা স্বত্ত্বেও একজন করোনা পজিটিভ রোগিকে ভর্তি না নিয়ে ছেড়ে দিল আয়ুশ হাসপাতাল আর তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই প্রান হারালেন সেই রোগি। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে খড়গপুর গ্রামীন থানার অন্তর্গত চকগনেশ গ্রামে।

জকপুর রেলস্টেশন থেকে কিছুটা দুরেই চকগনেশ গ্রাম। সেই গ্রামের একটি বর্ধিষ্ণু পরিবারের গৃহকর্তা মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি কিছুদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন জ্বরে ভুগে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে স্থানীয় গ্রামীন চিকিৎসককে দেখানো হয়েছিল কিন্তু জ্বর কিছুতেই ভাল হচ্ছিলনা। এরপরই তাঁকে খড়গপুর শহরের একজন ফিজিশিয়ানকে দেখানো হয়। ওই ফিজিশিয়ান তাঁর নানা শারীরিক পরীক্ষার করেন। এরপর পালস্ অক্সিমিটারে তাঁর অক্সিজেন মেপে দেখেন যে রক্তে অক্সিজেনের পরিমান কম রয়েছে। অভিজ্ঞ ওই চিকিৎসক রোগির পরিবারকে পরামর্শ দেন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

পজিটিভ রোগিকে ফিরিয়ে দিল আয়ুশ, বাড়িতে ফেরার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু! খড়গপুরের ঘটনায় হতভম্ব পরিবার 2

সেইমত শুক্রবারই ওই ব্যক্তিকে নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর আ্যন্টিজেন পরীক্ষা করান। রেজাল্ট পজিটিভ আসে। সাথে সাথেই তাঁকে মৃদু উপসর্গ যুক্তদের চিকিৎসার জন্য আয়ুশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আয়ুশ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করেন। তাঁরা দেখেন জ্বর ছাড়া রোগির অন্য কোনও উপসর্গ নেই। তাঁরা রোগিকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন এবং হোম আইসোলেশনে থাকতে বলেন।

আরও পড়ুন -  শুরু হয়ে গেল শুভেন্দুকে সরানোর প্রক্রিয়া, ছেঁটে ফেলা হল ফেডারেশনের দায়িত্ব থেকে

বাড়ির লোক ওই ব্যক্তিকে ফেরৎ নিয়ে চলে আসেন বাড়িতে। বাড়িতে কী ভাবে থাকতে হবে তাঁর পরামর্শ দেন, জ্বরের জন্য ওষুধ দেন। পরের দিন, শনিবার দুপুরে রোগির প্রবল শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, দমবন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়। পরিবারের লোকেরা তাঁকে দ্রুত খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসেন সেফ হোমে রাখার জন্য। কিন্তু খড়গপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারেন করোনার জোরালো উপসর্গ শুরু হয়েছে ওই ব্যক্তির। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে রোগিকে অক্সিজেন যুক্ত আ্যম্বুলেন্স করে তাঁকে শালবনী হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু ৫০কিলোমিটার রাস্তার ধকল নিতে পারেননি ওই ব্যক্তি, হাসপাতালে ঢোকার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর।

আরও পড়ুন -  সাধ্যের মধ্যে শ্রদ্ধার দান বাড়িয়ে দিলেন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার করনিকরা

এখন প্রশ্ন হল এই মৃত্যুর দায় কার? উপসর্গহীন, মৃদু উপসর্গ চিহ্নিত করার কথা কার? বলা হচ্ছে যে ব্যাক্তির শুধুই করোনা পজিটিভ কিন্তু জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, পেট খারাপ ইত্যাদি কিছুই নেই তিনি উপসর্গহীন। যে ব্যক্তির খুব সামান্য জ্বর কিংবা কাশি অথবা দুটোই আছে তিনি মৃদু উপসর্গযুক্ত কিন্তু যে ব্যক্তি টানা কয়েকদিন জ্বরে ভুগেছেন এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে তাঁর উপসর্গকে কী বলা হবে? যাঁর অক্সিজেনের মাত্রা একবার কমতে শুরু করেছে তাঁর অক্সিজেন তো আবারও কমতে পারে।

আরও পড়ুন -  দুর্নীতির অভিযোগে ৭৬১ জন রেশন ডিলারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত রাজ্যের

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়াটা প্রমান করে রোগির ভাইরাল লোড বেশি আছে। এই ধরনের রোগিকে নেগেটিভ না হওয়া অবধি কৃত্তিম অক্সিজেন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এমন জায়গাতে রাখতেই হবে। এরকম একজন রোগিকে বাড়ি পাঠানো উচিৎ হয়নি। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হবে।