ঘাতক বছরে চলে গেলেন আরও এক খড়গপুর রত্ন! ৫০ বছর শহরকে পরিষেবা দিয়ে প্রয়াত ডাঃ এ.কে. মাইতি

1762
ঘাতক বছরে চলে গেলেন আরও এক খড়গপুর রত্ন! ৫০ বছর শহরকে পরিষেবা দিয়ে প্রয়াত ডাঃ এ.কে. মাইতি 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হলেন খড়গপুর শহরের প্রবীণ চিকিৎসক ডাক্তার অশোক কুমার মাইতি যিনি সারা শহরে এ কে মাইতি নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার ৭৭ বছর বয়সে তাঁর জীবনাবসান হয়েছে বলেই জানা গেছে। তাঁর প্রয়ানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মধ্য খড়গপুর বিশেষ করে খরিদা, মালঞ্চ ভগবানপুর, সুভাসপল্লী এলাকায়। স্ত্রী, দুই পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি নাতনি ছাড়াও রেখে গেছেন তাঁর অসংখ্য গুণমুগ্ধ অনুগ্রাহীকে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে ডাঃ এ.কে মাইতি বেশ কিছুদিন ধরেই স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে হাওড়ার একটি নামি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসা চলা কালীন কোভিডে আক্রান্ত হন তিনি। তারপরই তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পক্ষকাল চিকিৎসার পর কোভিড মুক্ত হয়ে যান তিনি কিন্তু প্রলম্বিত চিকিৎসার ধকল সামলে উঠতে পারেননি তিনি। মঙ্গলবার হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।

ঘাতক বছরে চলে গেলেন আরও এক খড়গপুর রত্ন! ৫০ বছর শহরকে পরিষেবা দিয়ে প্রয়াত ডাঃ এ.কে. মাইতি 2

সাতের দশকের খড়গপুর শহরে যখন সাবেক স্টেট জেনারেল বা অধুনা মহকুমা হাসপাতাল তৈরি হয়নি তখন এই শহরে চিকিৎসক হাতে গোনা। চিকিৎসার জন্য মানুষ হয় কলকাতা নয় মেদিনীপুর মুখি। সেই সময় মধ্য খড়গপুরে প্র্যাকটিস শুরু করেন ডাঃ মাইতি। তৎকালীন এমবিবিএস এবং এমডি ডাক্তারবাবু চিকিৎসাকে শুধু পেশা নয়, মানবসেবার অঙ্গ হিসাবেও বেছে নিয়েছেন। রাতে ভিতে নিজের বাড়ির দরজা তো খোলাই ছিল সঙ্গে প্রয়োজন পড়লে যেতেন কলে। রেল ধর্মঘটের সময় পুলিশ আর সিআরপিএফের ভয়ে আত্মগোপনে থাকা ধর্মঘটি নেতৃত্বরা অসুস্থ হলে গোপনে চিকিৎসা করেছেন বলে জানা যায়। মানবসেবার এই ধারা বহন করেছেন যতদিন সক্ষম ছিলেন।

সদ্য করোনা সংক্রমনের দাপট কাটিয়ে উঠেছে খড়গপুর শহর। মাত্র কয়েকমাস আগে সংক্রমনের ভয়াবহ দাপটে যখন গোটা শহর ভয়ে কুঁকড়ে আছে। ঝাঁপ বন্ধ অনেক চিকিৎসকের তখনও নির্ভীক ভাবে চালিয়ে গেছেন চিকিৎসা। শুধু তাই নয় করোনা কালে তাঁর খরিদা এলাকায় চালু হয়েছিল একটি কমিউনিটি কিচেন যেখানে তিনি দরাজ হস্তে সাহায্য করে গেছেন।

স্থানীয় সমাজ সেবী শ্যামল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘কোনো রোগীকে ফেরত পাঠাতেন না তিনি। সে যে কোনো রোগের জন্যই আসুক না কেন। করোনাকালে লকডাউনের সময়ে যখন অন্য ডাক্তারেরা চেম্বার বন্ধ রেখেছিল কিন্তু ডা:এ.কে.মাইতি নিয়মিত তার বাড়িতে রোগীদের চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন নির্ভয়ে। আমাদের খুব কাছের লোক ছিলেন। আমরা যখনই যেরকম আবদার নিয়ে গেছি, চেষ্টা করেছেন তা পূরণ করার। লকডাউনের সময়ে আমাদের কমিউনিটি কিচেন চালানোর জন্য এককথায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমাদের ক্লাবের এবং অন্যান্য সংগঠনের সামাজিক অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করতেন, এবং সাহায্য করতেন সেইসব অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।”

ডাঃ মাইতির দুই কৃতি সন্তানও চিকিৎসার পেশায় দেশের বাইরে নিযুক্ত আছেন বলে জানা গেছে। ২০২০ খড়গপুর শহর থেকে একে একে কৃতি মানুষদের কেড়ে নিয়েছে যার তালিকায় রয়ে গেলেন ডাঃ মাইতিও। মাত্র কয়েক মাস আগে দুই চিকিৎসকের প্রয়ানের পর বছর শেষের মুখে আরও এক যন্ত্রনা দিয়ে গেল এই ঘাতক বছর।