খড়গপুর কলাইকুণ্ডায় (AIR FORCE) গুলিবিদ্ধ হয়ে মাত্র ২২ বছরের জওয়ানের অস্বাভাবিক মৃত্যু

1361
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: খড়গপুর কলাই কুণ্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে (IAF)গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ২২বছরের জওয়ানের। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে বায়ুসেনা। জানা গেছে মৃত জওয়ানের নাম সুমিত কুমার। ২২বছরের ওই জওয়ানের বাড়ি হরিয়ানার ভিওয়ানি শহর লাগোয়া পটুয়াস নামক এলাকায়। মাত্র দেড় বছর আগে বায়ুসেনার চাকরিতে নিযুক্ত হন তিনি। বর্তমানে সুরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তিনি। কী ভাবে ওই জওয়ান গুলিবিদ্ধ হলেন তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে তাঁর নিজের সার্ভিস রাইফেলের ইনসাস থেকেই যে গুলি ছুটেছিল সেটা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Advertisement

পুলিশের একটি সূত্র মারফৎ জানা গেছে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি জানা গেছে রবিবার মাঝ রাতের পর ইংরেজি মতে সোমবার রাত আড়াইটা নাগাদ যখন বায়ু ঘাঁটিতে প্রহরারত ওই জওয়ানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁর সহকর্মীরা। ততক্ষনে অবশ্য প্রচুর রক্ত বেরিয়ে গেছিল ওই জওয়ানের দেহ থেকে। ঘটনাটি ঘটে কলাইকুণ্ডা বায়ুঘাঁটির (Kalikunda Air Base)ভেতরে থাকা হাসপাতালের কাছাকাছি অংশে। জওয়ানকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর সঙ্গি জওয়ানরা তাঁর দেহ ওই হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

Advertisement
Advertisement

জানা গেছে এশিয়ার এই বৃহত্তম বায়ু ঘাঁটির বিশাল চৌহদ্দি পাহারা দিতে হয় এই নিরাপত্তা রক্ষীদের। ফলে এক জনের চাইতে অন্য জনের দূরত্ব বেশ কিছুটা হয়ে থাকে। যে কারনে ঘটনার সময় ওই জওয়ানের কাছাকাছি কেউ না থাকায় কী করে এই ঘটনা ঘটল তা জানা যায়নি। গুলি চলেছে জওয়ানের একদম বুকের বাঁ অংশে কালো বৃত্তের ওপর কেন্দ্রে থাকা বৃন্তটির ওপর, ঠিক যার নিচেই হৃৎপিণ্ডের অবস্থান। গুলি সেই হৃৎপিণ্ড ফুঁড়ে বগলের তলায় পাঁজরের অংশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেছে।

বুকের ওই অংশে গান পাউডারের অস্তিত্ব মিলেছে ফলে বুঝতে হয়না যে ব্ল্যাংক পয়েন্ট রেঞ্জ থেকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা টি ঘটেছে।কিন্তু ওই জওয়ান কী আত্মহত্যা করেছেন নাকি দুর্ঘটনা নাকি খুনের ঘটনা তা এখনও পরিষ্কার নয়। যুবক মানসিক ভাবে বিধস্ত ছিলেন, অবসাদে ভুগছিলেন এমন কোনও সূত্র এখনও অবধি তা নিশ্চিত করেনি। খড়গপুর পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “তদন্ত খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে যা দিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেতে হবে, তাঁর সঙ্গি সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এবং কথা বলতে হবে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে, যাচাই করতে হবে যুবকের মোবাইল ফোনটিও। তারপরই জানা যেতে পারে প্রকৃত ঘটনা। আমরা আপাতত সেটাই করছি।”

ইতিমধ্যে সোমবার দুপুরের পর ওই জওয়ানের পরিবার সদস্যদের কয়েকজন হরিয়ানা থেকে বিমান যোগে কলকাতা হয়ে খড়গপুর পৌঁছেছেন। ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিক প্রক্রিয়া সেরে সোমবার রাতেই ফের বিমান যোগেই তাঁরা দেহ নিয়ে ফিরে যাবেন এমনই পরিকল্পনা রয়েছে।