বন্ধ হয়ে যাওয়া মোরাম খাদান ফের চালুর দাবিতে খড়গপুর মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ খাদান শ্রমিকরা

336
বন্ধ হয়ে যাওয়া মোরাম খাদান ফের চালুর দাবিতে খড়গপুর মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ খাদান শ্রমিকরা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: খড়গপুর গ্রামীণ অংশের হরিয়াতাড়া অঞ্চলে বন্ধ থাকা মোরাম খাদান গুলি চালু করার দাবি নিয়ে খড়গপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দিলেন খাদান শ্রমিকরা। হরিয়াতাড়া ও তার আশেপাশের গ্রামগুলি যেমন গেড়িয়াশুলি, শাকপাড়া, ধাদকি ইত্যাদি প্রায় ২৫টি গ্রামের শ’পাঁচেক মানুষ সোমবার বেলা ১২টা নাগাদ মহকুমা অফিসে জমায়েত হন। তাঁরা জানান যে, ‘এই খাদানের ওপরই তাঁদের জীবন জীবিকা নির্ভর করে। গত প্রায় ১সপ্তাহ ধরে ওই এলাকার খাদান গুলি বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা ফলে প্রচন্ড অসুবিধারমধ্যে পড়েছেন তাঁরা।

উল্লেখ্য গত ৩১শে জানুয়ারি খড়গপুর গ্রামীন থানার এই হরিয়াতাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মাকড়বিন্দা এলাকায় একটি মোরাম ভর্তি ডাম্পারের তলায় পিষ্ট হয়েছিল হরিয়াতাড়া ও গেড়িয়াশুলির দুই তরুণ বন্ধু লক্ষীকান্ত সহিস ও ভবসিন্ধু মহাত। ভবসিন্ধুর বিয়ের পাকা কথার আগের দিন ভাবি শ্বশুরবাড়ির লোকেদের আপ্যায়নের জন্য নেকড়াশুলির হাট থেকে বাজার করে বাইকে ফিরছিলেন ২জন। তখুনি সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া মোরাম খাদান ফের চালুর দাবিতে খড়গপুর মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ খাদান শ্রমিকরা 2

উত্তেজিত গ্রামবাসীরা ডাম্পারে আগুন লাগিয়ে দেন। এমনিতেই মোরাম গাড়ির দাপটে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় গ্রামগুলির মানুষরা। রাস্তাঘাটের বারোটা বাজানোর পাশাপাশি নিত্য দিনের দুর্ঘটনা ঘটেই চলছিল। সেই ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত হয় দুই তরতাজা যুবকের মৃত্যুর ঘটনা। সেদিন থেকেই এলাকার সমস্ত খাদানে মোরাম তোলা বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।

এদিকে এই ঘটনায় খাদান মালিকরা তো বিপদে পড়েইছেন সঙ্গে মাথায় বাজ পড়েছে শ্রমিকদের। করোনা কাল কাটিয়ে সবে মাত্র মাস তিনেক হল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় মোরাম ভরা বা কাটার মত কাজ শুরু হয়েছিল। নতুন করে খাদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফের রোজগার হারাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি প্রশাসন উদ্যোগ নিন এই সমস্যা থেকে কী করে বেরিয়ে ফের খাদান চালু করা যায়।

প্রশাসন এখন খাদান চালুর জন্য জোর জবরদস্তি বা গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে রাজি করা এই দুইয়ের কোনও পথেই যেতে রাজি নয় কারন ঘাড়ের ওপর ভোট। এই সময় পাবলিক চটানো যাবেনা। খাদান মালিকদের বক্তব্য, তাঁরা আইনসম্মত ভাবে মোরাম তুলছেন। সরকারকে রয়্যালটি দিচ্ছেন তবে কেন খাদান বন্ধ হবে? মালিকদের বক্তব্য, রাস্তা খারাপ হলে গ্রামবাসীরা খাদান মালিকদের দিকে আঙুল তুলছেন কিন্তু তাঁরা যেহেতু সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছেন তাহলে সরকার ভালো করে রাস্তা বানাক।

যদিও গ্রামবাসীরা দাবি করেছেন, আইনি খাদান মালিকরা রয়্যালটি দিচ্ছেন হয়ত কিন্তু মোরাম তুলছেন রয়্যালটির পরিমাণের চাইতে একশ গুন বেশি আর সেই কারণে গাড়িগুলি ওভারলোড হচ্ছে এবং রাস্তা খারাপ হচ্ছে। গ্রামবাসীরা বলছেন এই সঠিক পরিমান মালবহন হচ্ছে কী হচ্ছেনা এটা দেখার দায়িত্ব ভূমি রাজস্ব দপ্তর ও পুলিশের। এখানে এই দুই দপ্তরের সঙ্গে খাদান মালিকদের নিবিড় সংযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রামবাসীরা খাদান খুলতে দিতে রাজি নয়।