খড়গপুরে ৫৮ জনের গ্রেপ্তার দিয়েই লকডাউনের মহড়া শুরু, শুক্রবার রুদ্র মূর্তিতেই পুলিশ

353
খড়গপুরে ৫৮ জনের গ্রেপ্তার দিয়েই লকডাউনের মহড়া শুরু, শুক্রবার রুদ্র মূর্তিতেই পুলিশ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের ঘোষিত লকডাউনেই খড়গপুর শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ বুঝিয়ে দিল শুক্রবার থেকে আরও কড়া হতে চলেছে পুলিশ। রাজ্য সরকারের ঘোষনার বাইরে গিয়ে বাকি ৫দিন খড়গপুর শহরে যে সাড়ে ১৮ঘন্টার লকডাউন আগামী অন্তত ১৪দিনের জন্য বলবৎ হতে চলেছে সেখানে কোনও ভাবেই রেয়াৎ করা হচ্ছেনা বলেই জানিয়ে দিলেন খড়গপুরের মহকুমা শাসক বৈভব চৌধুরী।

বৈভব জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার এবং শনিবার যেমন সরকার ঘোষিত পূর্ন লকডাউন হচ্ছে পাশাপাশি বাকি দিন গুলোতে সকাল ৬টা থেকে বেলা ১০টা এবং বিকাল ৩টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা বাদ দিলে বাকি সময় খড়গপুর শহরে লকডাউন হচ্ছে। জেলাশাসক অনুমতি দিয়েছেন খড়গপুর মহকুমা টাস্ক ফোর্সের ওই সুপারিশে। অতএব লকডাউন কঠিন ভাবেই বলবৎ করা হচ্ছে।”

খড়গপুরে ৫৮ জনের গ্রেপ্তার দিয়েই লকডাউনের মহড়া শুরু, শুক্রবার রুদ্র মূর্তিতেই পুলিশ 2

বৈভব আরও বলেছেন, “কেউ বলেছেন ওই সময়ে দোকান পাট খুলতে অসুবিধা হবে। আমরা বলছি আমাদের কিছু করার নেই। হয় আপনরা ওই সময় খুলতে অভ্যস্থ হবেন নতুবা বন্ধ রাখবেন। কিন্তু বাকি সময়ে অর্থাৎ লক ডাউনের সময় আমরা কোনো নিয়মভঙ্গ বরদাস্ত করবনা।”
এদিকে বৃহস্পতিবার সরকারি ঘোষনার সপ্তাহে দু’দিন লকডাউনে সাড়া দিয়েছেন শহরের ৯০ শতাংশ মানুষ। আশ্চর্য জনক ভাবেই মানুষ জন নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাওয়া আরেক লকডাউনকে যেন মান্যতা দিয়েছেন।

শহরের উত্তর থেকে দক্ষিন, পূর্ব থেকে পশ্চিম সত্যি সত্যি খাঁ খাঁ করেছে শহরের রাস্তা ঘাট। এই লকডাউন বলবৎ করতে পুলিশকে খুব বেশি কসরৎ করতে হয়নি। বাকি যে বে-আদপ ১০ শতাংশ জনতা খরিদা, ইন্দা, ঝাপেটাপুর কিংবা কৌশল্যায় জটলা করে আড্ডা বাজি চালানোর মশকরা করার চেষ্টা করেছে তাদের সবক শিখিয়ে পুলিশ। কলার ধরে টেনে গাড়িতে তুলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৮ জন কে।

পুলিশের পরিকল্পনা ছিল বৃহস্পতিবার বিকালে শহরে দু’ধরনের ‘চেতাবনী’ দেওয়ার প্রথমত লিফলেট আর মাইক প্রচার করে শুক্রবার থেকে লক ডাউনের বিষয়টি শহর বাসীকে জানিয়ে দেওয়া আর কয়েকটা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শহরের কয়েকটা এলাকায় লাঠি হাতে সরাসরি জটলা সরাতে বলপ্রয়োগ করার যা কিনা লিফলেট বা মাইকের চাইতেও বেশি কাজ করত। এ জন্য শহরের বিভিন্ন বাজার এলাকায় পুলিশের নিজস্ব লোককে বলাই ছিল লোকজন জমলেই শুধু একটা ফোন করে দিতে। ১০মিনিটে তুখোড় অপারেশন দেখাবে পুলিশ। ব্যাপক লাঠি চালানো আর শ’খানেক গ্রেপ্তার করতে পারলেই প্রচারটা আপনা আপনি হয়ে যেত কিন্ত বাদ সাধল অঝোর ঝরে বৃষ্টি।

তবে পুলিশ বেশি দিন পরিকল্পনা ডিউ রাখবেনা জানিয়ে দিয়ে খড়গপুর পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা প্রস্তুত লকডাউন বলবৎ করতে এখন দেখার জনতা প্রস্তুত কী না। লক ডাউনের শুরুতে পুলিশ যেমন কড়া হয়েছিল এবার তারও চেয়ে কড়া হবে পুলিশ। কারন পুলিশ এবং শহরবাসী দুজনেই বুঝে গেছে লক ডাউন কতটা দরকার। সুতরাং এর বাইরে যারা থাকছে তাদের জন্য একটু বেশি কড়া হলে শহরের আশীর্বাদই পাবে পুলিশ।”