খড়গপুর ফের লকডাউনের পথে, ১৫ দিনের জন্য শহরে ঝাঁপ বন্ধ চাইছে পুলিশ

296
খড়গপুর ফের লকডাউনের পথে, ১৫ দিনের জন্য শহরে ঝাঁপ বন্ধ চাইছে পুলিশ 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: বিরাম বিহীন সংক্রমনের মুখে দাঁড়িয়ে ফের খড়গপুর শহরে লকডাউন চালু হোক চাইছে পুলিশ। লাগাতার বেড়ে চলা করোনার মুখে দাঁড়িয়েও বে-তামিজ জনতাকে সবক শেখাতে হলে লকডাউনের বিকল্প নেই এমনটাই মনে করছে খড়গপুর প্রশাসনও। তাই পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষে শহরের বাস্তব অবস্থা জানিয়ে একটি তথ্য সম্বলিত সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে জেলাশাসকের দরবারে । যদি সেই সুপারিশ জেলা গ্রহন করে তবে আগামী সোম অথবা মঙ্গলবার থেকে ফের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে শহরের অন্ততঃ ১৫ দিনের জন্য।

ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি শহরের নতুন করেই লকডাউন শুরু হয়ে গেছে। কলকাতা ছাড়াও লকডাউন ঘোষনা হয়েছে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি , কোচবিহার ,মালদা, রায়গঞ্জ শহরে। প্রথমে ৭দিন ও পরে ফের ৫দিনের জন্য লকডাউন বলবৎ করা হয়েছে ওই শহরগুলিতে। এবার কী তবে সেই পথেই হাঁটতে চলেছে খড়গপুর?
জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব বলছে খড়গপুর শহরে ১৭ জুলাইয়ের হিসাব অনুযায়ী রেল এবং পৌর এলাকা মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সরকারের হিসাব অনুযায়ী ৬৮ জন যার মধ্যে পৌর এলাকার ৩৯ জন রয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী রেল ও সালুয়া ইএফআর মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ই জুলাইয়ের হিসাবে ১২৮ জন দেখানো হচ্ছে।

এরমধ্যে ব্যারাকপুর থেকে আসা প্রশিক্ষন রত রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান ও প্রশিক্ষকদের দেখানো হয়েছে। এই জওয়ান ও প্রশিক্ষকদের ৯৯ জন আক্রান্তকে বাদ দিলে ২৯ জন খড়গপুর শহরের রেল এলাকার বাসিন্দা। ১৭জুলাই পৌর এলাকার মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯ জন অর্থাৎ রেল সহ পৌর এলাকার আক্রান্ত দাঁড়াল ৬৮ জনে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী পৌর এলাকায় সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ জন। অন্যদিকে রেলের ২চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মী ও আরপিএফ জওয়ানদের ধরলে অন্তত: ১৮ জন সক্রিয় করোনা আক্রান্ত রয়েছেন। সব মিলিয়ে খড়গপুর শহরের সক্রিয় কোভিড রোগী রয়েছেন ২৫ জন। রেল এবং পৌরএলাকা মিলে মোট ৬ জনের মৃত্যু দেখানো হচ্ছে জেলার তালিকায়।

আরও পড়ুন -  সব একশ টাকার নোটেরই নম্বর একই! চাঞ্চল্য জলপাইগুড়িতে

এই পরিস্থিতিতে শহরে করোনার লাগাম ধরতে খড়গপুরে ফের লকডাউন চাইছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। প্রশাসন চাইছে অন্ততঃ ১৫ দিনের জন্য টানা লকডাউন করা দরকার। খড়গপুর মহকুমা পুলিশের এক কর্তা ‘দ্য খড়গপুর পোষ্ট’কে জানিয়েছেন, ‘ শহরের বর্তমান অবস্থার নিরিখে মানুষের বেপরোয়া মনোভাবের বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি। মাস্ক না পরা, কারনে অকারনে বাইরে বেরুনো, আড্ডা, জটলা বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে লকডাউন ঘোষনা ছাড়া উপায় নেই।”

আরও পড়ুন -  সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা যাবেনা দুঃস্থ মানুষদের ত্রান দেওয়ার ছবি

জানা গেছে খড়গপুরের মহকুমা শাসক বৈভব চৌধুরী, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী সামসুদ্দিন আহমেদ সহ পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা শুক্রবারই বিষয়টি নিয়ে একটি আলোচনা সেরে ফেলেছেন। ৫ লাখি শহরের শতাধিক বস্তি এলাকা আর মিশ্র জনজাতির ঘনত্ব করোনা আবহে সংক্রমনের যে বাতাবরন তৈরি করেছে তা থেকে বাঁচতে হলে যে ফের লকডাউন লাগু করা জরুরি তেমনই একটি খসড়া সম্বলিত সুপারিশ পাঠানো হবে অতিরিক্ত জেলা শাসকের মারফৎ জেলাশাসক রশ্মি কমলের কাছে। সিলমোহর পড়লেই ফের ঝাঁপ বন্ধ হবে শহরের।

আরও পড়ুন -  ক্রান্তিকালের মনীষা-১১ ।। অনিন্দিতা মাইতি নন্দী

এমনিতেই অঘোষিত ভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ বাজার গুলির ওপর নিয়ন্ত্রন আরোপ করেছে। সরকারি ঘোষনায় সন্ধ্যা ৭ টা অবধি দোকানপাট চালু থাকার কথা বলা হলেও মাইকিং করে কোথাও বিকাল ৫টাতেই তা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। বেশকিছু এলাকায় বেলা ১১টা অবধি দোকান খোলা রাখতে বলা হয়েছে। এসবই হচ্ছে অলিখিত, আইনের বাইরে। এবার পুলিশ সরাসরি সরকারি নির্দেশ চাইছে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে।

‘আমরা চাইছি সকাল ১০টার মধ্যে সবজি বাজার বন্ধ হয়ে যাক আর বেলা ২টার মধ্যে মুদি দোকান, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির বিপনন বন্ধ করে দিতে। মানুষের বাইরে বেরুনো নিয়ন্ত্রন করতে। বাকিটা জেলার হাতে। জেলার সম্মতি পেলেই পুলিশ কঠোর ভাবে লকডাউন বলবৎ করতে রাস্তায় নামবে।” বললেন এক আধিকারিক।

খড়গপুর ফের লকডাউনের পথে, ১৫ দিনের জন্য শহরে ঝাঁপ বন্ধ চাইছে পুলিশ 2