করোনা পিছু ছাড়ছেনা মেদিনীপুর শহরের, কিছুটা কমল খড়গপুর আর ঘাটাল! পারিবারিক সংক্রমনই ভাবাচ্ছে জেলাকে

1349
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: আগষ্টে চেপে ধরা করোনা সংক্রমন থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেনা মেদিনীপুর শহর। মাঝে মধ্যে একটু স্তিমিত হয়েই ফের স্বমহিমায় প্রকট হচ্ছে করোনা। উৎসবের মরশুমেও তার খামতি ঘটেনি। এই মরশুমে পরীক্ষার হার কিছুটা কমলে জেলার অন্য এলাকায় আক্রান্তের হার কিছুটা কম হলেও মেদিনীপুর শহরে কিন্ত আক্রান্তের হার বেড়েছে বই কমেনি। এই নভেম্বর মাসের প্রথম ২দিনের আরটি/পিসিআর পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যাচ্ছে জেলার মোট আক্রান্তের আশি ভাগেরও বেশি রয়েছেন মেদিনীপুর শহর জুড়েই। এই দুদিনে মেদিনীপুর শহরের ঠিক পেছনেই খড়গপুর শহর রয়েছে ঠিকই কিন্তু দুই শহরের মধ্যে দূরত্ব অনেকটাই বেশি।

Advertisement

এই দুদিন অর্থাৎ ১লা এবং ২রা নভেম্বর মেদিনীপুর শহরের উদ্বেগ বাড়িয়েছে পারিবারিক সংক্রমন। দুদিনে শহরে ৩০ জনের কাছাকছি আক্রান্ত হয়েছেন যার মধ্যে ১৫জনই পারিবারিক ভাবে সংক্রমিত। যেমন রবিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী শরৎপল্লীতে একই পরিবারের ৬০ বছরের বৃদ্ধ ও ২৪ বছরের যুবক আক্রান্ত। কুইকোটায় আক্রান্ত ৫৩ ও ৫০ বছরের মহিলা। অন্যদিকে বিধাননগরে ৩৫ বছরের মা ও ৪বছরের শিশু কন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে সোমবারের রিপোর্ট অনুযায়ী সুভাষ নগরে একই পরিবারের ৪জন আক্রান্ত। এক ৬০ বছরের বৃদ্ধ ছাড়াও ওই পরিবারের ৪৮, ২৯ ও ২৫বছরের তিন মহিলা আক্রান্ত হয়েছেন।
একই ভাবে তাঁতিগেড়িয়াতে একই পরিবারের ৫৮ ও ২৪ বছরের মহিলা এবং ৩৩বছরের যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। বল্লভপুরে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৬ ও ৪৮ বছরের দম্পত্তি। বিচ্ছিন্নভাবে আক্রান্ত হয়েছেন কুইকোটার ৩২ বছরের যুবক, সিপাহীবাজারের ২৫ বছরের যুবক, মাহাতাবপুরের ৬৩ বছরের বৃদ্ধ। হাঁসপুকুর ও হবিবপুরে ৩৩ ও ২০বছরের যুবক আক্রান্ত।

Advertisement
Advertisement

শহরের নজরগঞ্জ ও ধর্মাতে ৫০ এবং ৫৮ বছরের গৃহবধূ আক্রান্ত হয়েছেন। বিদ্যাসাগরপল্লীতে ৪৫ বছরের পুরুষ ব্যক্তি এবং রাঙামাটিতে ১৮ বছরের কিশোর আক্রান্ত হয়েছেন। রাঙামাটিতে অন্য পরিবারে আক্রান্ত ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। শহর লাগোয়া যমুনাবালিতে ৩০ বছরের যুবক আক্রান্ত। শহরে বাস করেন অথচ নির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখিত হয়নি এমন ৫০, ৪৫, ২৯, ৩৩, ৩৪, বছরের পুরুষরা আক্রান্ত হয়েছেন। মেদিনীপুর সদর মহকুমার গোয়ালতোড়ের অহরার ও আমলাশুলিতে ৩৮ ও ২৭ বছরের যুবক আক্রান্ত। কেশপুরের আনন্দপুরে আক্রান্ত ৪৫বছরের গৃহবধূ।

এই দুদিনে খড়গপুর শহরের সাঁজোয়ালে ৫৬ বছরের প্রৌঢ় ও ২৩বছরের যুবকের শরীরে করোনা জীবাণু মিলেছে। সাউথ ইন্দায় একই পরিবারের ৪৬ বছরের মহিলা আর ৩৭ ও ২০ বছরের যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ইন্দা বামুনপাড়ায় ৩২ বছরের যুবক, সিপাইডাঙ্গা, সাউথ ইন্দায় ২৫বছরের যুবক, সুভাসপল্লীতে ২৬বছরের যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। রবীন্দ্রপল্লীতে ৪১বছরের মহিলা, নিমপুরায় ৮০ বছরের বৃদ্ধা এবং পুরিগেটে ৩০বছরের যুবক আক্রান্ত।

খড়গপুরের শহরতলি বা গ্রামীন অংশে কলাইকুণ্ডায় আক্রান্ত একই পরিবারের ৯৪ বছরের বৃদ্ধা ও ১৫বছরের কিশোর। সালুয়া পুরানো বস্তিতে ৩৫ বছরের যুবক এবং খাটরাঙাতে ২৩বছরের যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। চাঙ্গুয়াল গঙ্গারামপুরে ৫৬বছরের প্রৌঢ়া আক্রান্ত হয়েছেন। ঠিকানা পাওয়া যায়নি খড়গপুরের এমন এক ২৯বছরের যুবকও আক্রান্ত হয়েছেন।
খড়গপুর মহকুমার সবংয়ে ২৪ বছরের যুবকের দেহে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বেলদায় ১২বছরের কিশোরী আক্রান্ত।

এবার ঘাটাল মহকুমা। ঘাটালের চন্দ্রকোনা কালিকাপুরে একই পরিবারের ৪জন আক্রান্ত। এঁদের মধ্যে ২৯বছরের যুবক, ১০বছরের বালক এবং ৩৬ ও ৬৮ বছরের বৃদ্ধা রয়েছেন। চন্দ্রকোনার মুইদাতে ২৫বছরের যুবক আক্রান্ত।
ঘাটালের পানিচন্ডতে ৬৬বছরের বৃদ্ধা, কুমারচকে ৫৩ বছরের পুরুষ ও কুশপাতায় ৩৫বছরের যুবক আক্রান্ত। দাসপুরের ফরিদপুর নিশ্চিন্তপুরে ৩১ বছরের যুবক, চাইপাট নহলায় ৬০বছরের বৃদ্ধ এবং খুকুড়দহের জগন্নাথপুরে ৫৩ বছরের পুরুষ আক্রান্ত। দাসপুরের চন্দনপুর বাসুদেবপুরে ৪৯বছরের পুরুষ আক্রান্ত হয়েছেন। বিষ্ণুপুর খড়দায় ৪৩ ও ৩৮ বছরের দম্পত্তি আক্রান্ত।