পুজো কাটতেই করোনা সংক্রমন বাড়তে শুরু খড়গপুরে, মেদিনীপুরের ভাগ্য ঝুলে অমীমাংসে, ঘাটালে বহাল রইল করোনা

2956
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২৪ ঘন্টায় লম্বা লাফে সংক্রমনে ফের জেলার শীর্ষে চলে এলে খড়গপুর। মঙ্গলবার আরটি/পিসিআর রিপোর্টে মাত্র ৯ জনের আক্রান্তের সন্ধান মিলেছিল খড়গপুর শহরে আর বুধবার সেই আরটি/পিসিআর রিপোর্ট জানাচ্ছে খড়গপুর শহর ও শহরতলি মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩১ জন। প্রায় এই কারনে বলা যে হিজলি গ্রামীন হাসপাতালে সংগৃহিত নমুনা থেকে প্রাপ্ত ৮ করোনা পজিটিভ রোগির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখ হয়নি। যদিও অতীতের রিপোর্ট বলছে এখানে যাঁরা নমুনা প্রদান করেন তার ৯৯.৯৯% ই খড়গপুর শহর ও শহরতলির।

Advertisement

২৮শে অক্টোবরের রিপোর্টে খড়গপুর শহরের সোনামুখী ঝুলি এলাকা থেকে সর্বাধিক সংক্রমনের খবর এসেছে। একই পরিবারের ৩৪ বছরের যুবক ও ১১বছরের বালক ছাড়াও ৩৫ বছরের এক যুবক ও ১৯ বছরের এক যুবতী আক্রান্ত হয়েছেন ওই এলাকায়। পরের জোড়া আক্রমনের ঘটনা ঘটেছে শহরের শ্রীকৃষ্ণপুরে। আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ বছরের মা এবং ১২বছরের ছেলে। এদিনের রিপোর্টে নিমপুরা এলাকাতেও ভাল সংক্রমনের লক্ষন পাওয়া গেছে। এখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ বছরের যুবক ও ৫৫বছরের প্রৌঢ়। নিমপুরা সুষমাপল্লীতে আগের দিন ২জন আক্রান্ত হয়েছিলেন, এদিন আক্রান্ত ১৩বছরের বালক।

Advertisement
Advertisement

শহরের ইন্দা ইঙ্গিত ক্লাব সংলগ্ন ৬০ বছরের বৃদ্ধ এবং সারদাপল্লী এলাকায় ৫৩ বছরের পুরুষ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। পাঁচবেড়িয়াতে আক্রান্ত ৬৪ বছরের বৃদ্ধ। পুরিগেট এলাকায় ৩৭বছরের যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। সাঁজোয়াল ও কৌশল্যায় ৩২ এবং ৪০ বছরের যুবক আক্রান্ত হয়েছেন। তালবাগিচায় ও ছোট আয়মায় ৪৭ ও ৩৪ বছরের গৃহবধূ আক্রান্ত হয়েছেন। রেল আবাসনের নিউ ডেভেলপমেন্টে ৫১ এবং সাউথ সাইডে ৫৮ বছরের দুই রেল কর্মচারী আক্রান্ত।

আগেই উল্লেখ্য যে, হিজলি গ্রামীন হাসপাতালে নমুনা প্রদানকারী ৮ আক্রান্তের সুনির্দিষ্ট ঠিকানা পাওয়া যায়নি। এঁদের মধ্যে ৬৪ বছরের দুই বৃদ্ধ, ৬৭ বছরের আরেক বৃদ্ধ, ৫২ ও ৪২ বছরের দুই পুরুষ, ২৯বছরের যুবক ছাড়াও ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধা ও ২০ বছরের যুবতী আক্রান্ত হয়েছেন। শহর থেকে দুরে জকপুরের বড়াডিহাতে ৬৯ ও ৬০ বছরের বৃদ্ধ দম্পত্তি, সালুয়া বাজারে ৩০ বছরের যুবক এবং প্রেমবাজার সংলগ্ন পূর্ব পাথরিতে ৪৯ বছরের পুরুষ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন।

মেদিনীপুর শহর ও শহরতলিতে এদিন মাত্র ৩ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। এঁদের ঠিকানা উল্লেখিত হয়নি যদিও এঁরা ৩৫ বছরের যুবক এবং ৩০ ও ২৭ বছরের দুই যুবতী। কিন্তু মনে রাখা দরকার শহরে মোট ৪০ জনের অমীমাংসিত ফল এসেছে যার থেকে পরের দিন অর্থাৎ ২৯ তারিখ বড়সড় পজিটিভ আসার সম্ভবনা রয়েছে।
এদিন ডেবরা থানার দুর্লভচক, ভাঙাবাঁধ এলাকায় ৩৫ বছরের গৃহবধূ ও তাঁর ৬ বছরের শিশুপুত্র আক্রান্ত হয়েছেন। বালিচকের দলুচকে আক্রান্ত ৪৫ বছরের পুরুষ ব্যক্তি। গড়বেতার আমলাগোড়ায় ৩৮ বছরের ও গড়াবেতাতে ৫০ বছরের দুই পুরুষ ব্যক্তি আক্রান্ত।

এবার ঘাটাল মহকুমার রিপোর্ট। আরটি/পিসিআর রিপোর্ট মোতাবেক মহকুমার তিনটি থানা এলাকায় আক্রান্ত ১৫ জন। ক্ষীরপাইয়ের লক্ষীপুরের মৌলা এবং বগছড়িতে ৬০বছরের বৃদ্ধ ও ৩২ বছরের যুবক আক্রান্ত। বসনছড়ার যদুপুরে ২৯ বছরের যুবক ও ক্ষীরপাইতে ১৯বছরের তরুণী আক্রান্ত। দাসপুর ২ ব্লকে পলাশপাইয়ের আজুরিয়া ২৬ বছরের যুবক, দুধকোমরার মাগুরিয়াতে ৩৫ বছরের যুবক, চাঁইপাটের মদপুকুরে ২২বছরের যুবক এবং গোছাতির কেলেগোদায় ৫২ বছরের পুরুষ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন।

ঘাটালের রথীপুর এলাকার বলরামগড়ে ৩৫ বছরের যুবক এবং ৫বছরের শিশুপুত্র আক্রান্ত হয়েছেন। ইড়পালায় ২১ বছরের যুবতী এবং কোন্নগরে ৩৬ বছরের গৃহবধূ আক্রান্ত হয়েছেন। দাসপুর ১ ব্লকের সরবেড়িয়া রামচন্দ্রপুরে একই পরিবারের ৭৫ ও ৬২ বছরের দুই বৃদ্ধ আক্রান্ত। ধরমপুরের রঘুনাথপুরে আক্রান্ত ৩৪ বছরের গৃহবধূ।