ফের করোনা ঝাঁপালো মেদিনীপুরেই! খড়গপুরেও করোনাবান, জেলা জুড় দাপটে সংক্রমন

1389
ফের করোনা ঝাঁপালো মেদিনীপুরেই! খড়গপুরেও করোনাবান, জেলা জুড় দাপটে সংক্রমন 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: মেদিনীপুর ও খড়গপুর শহরে অব্যাহত করোনা সংক্রমন। জেলার অন্যান্য এলাকাতেও কমবেশী সংক্রমন বহাল রয়েছে। ১৯শে অক্টোবরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ১২৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং পুনরায় পরীক্ষা করে আরও ৮ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব থেকে গেছে বলে জানা গেছে।
এদিন আরটি/পিসিআর রিপোর্টে ৬৮ জন, আ্যন্টিজেন পরীক্ষায় ৫১জন এবং ট্রুন্যাট পরীক্ষায় ৯জনের শরীরে নতুন করোনা জীবাণুর অস্তিত্ব মিলেছে। এই ৬৮ জনের মধ্যে ৩২ জনই মেদিনীপুর শহরের বাকি ৫জন মেদিনীপুর সদর ব্লকের গ্রামীন এলাকায়। অর্থাৎ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি শুধু মেদিনীপুর শহরে। তাও এটি কেবলমাত্র আরটি/পিসিআর রিপোর্ট মোতাবেক। এই হিসাবের মধ্যে ৬০(আ্যন্টিজেন এবং ট্রুন্যাট) আক্রান্ত যুক্ত হলে সংখ্যাটা হেরফের হতে পারে।

আরটি/পিসিআর রিপোর্ট মোতাবেক এদিন মেদিনীপুর শহরে ৮টি পারিবারিক সংক্রমনের ঘটনা ঘটেছে যাতে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১৫জন। এরমধ্যে একই পরিবারে সর্বাধিক ৩জন আক্রান্ত হয়েছেন শরৎপল্লী এলাকায়। এখানে ৭০ বছরের বৃদ্ধা, ১৩ বছরের কিশোরী এবং ৪৬বছরের এক পুরুষ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। শরৎপল্লীতে আলাদা করে আক্রান্ত এক ৬২ বছরের বৃদ্ধও। সুভাষনগর এলাকায় ৬৫ ও ৫০বছরের দম্পত্তি আক্রান্ত হয়েছেন। একই ভাবে কেরানিতলা এলাকায় ৬৪এবং ৫৬ বছরের দম্পত্তি আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। তোড়াপাড়া এলাকাতেও ৪৯ ও ৪২ বছরের দম্পত্তি আক্রান্ত। বাসন্তীতলায় ৮৭ বছরের বৃদ্ধ ও তাঁর ২৯বছরের পুত্রবধূ আক্রান্ত।

ফের করোনা ঝাঁপালো মেদিনীপুরেই! খড়গপুরেও করোনাবান, জেলা জুড় দাপটে সংক্রমন 2

মেদিনীপুর শহরের বাকি পারিবারিক সংক্রমনের ক্ষেত্রে তাঁদের সঠিক অবস্থান উল্লেখ করা নেই। যেমন একই পরিবারের ৫৫ এবং ৩৮ বছরের পুরুষ ও মহিলা। অন্য একটি পরিবারের ৬৩ বছরের মায়ের সঙ্গে আক্রান্ত ৪২ বছরের পুত্র। আবার আরেকটি পরিবারের ৫৫ ও ৩৫ বছরের ২ মহিলা আক্রান্ত। এছাড়াও আক্রান্ত ৯ বছরের বালিকা, ৫২ বছরের এক মহিলা এবং পুরুষ, ২২বছরের যুবক ও ৩১ বছরের গৃহবধূ, ২৮ ও ৪০ বছরের যুবক, ৫৬ ও ৬৮ বছরের মহিলার কোনও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি যদিও এঁরা মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা।
ঠিকানা উল্লেখ হয়েছে এমন পরিবার পিছু একজন আক্রান্ত হয়েছেন মির্জাবাজার (৬৪, পুরুষ), গোলকুয়া চক (৬৮, পুরুষ), হাতারমাঠ (৬১, পুরুষ), রাঙামাটি ( ৩৯ ও ০৬, পুরুষ), রামকৃষ্ণনগর, ধর্মা (২৯, পুরুষ)।

আরও পড়ুন -  বিহারে ৩০দিনেই ধ্বসে গেল ২৬৪ কোটি টাকার সেতু, নীতিশের পোষা ইঁদুরও ওই টাকার মদ খায়, কটাক্ষ তেজস্বীর

মেদিনীপুর শহর থেকে দুরে মালিয়াড়াতে একই পরিবারের চার সদস্য আক্রান্ত। এঁরা হলেন ৬৭ বছরের বৃদ্ধ, ২৭ বছরের যুবক, ৪০ বছরের গৃহবধূ এবং ৬ বছরের শিশুকন্যা। ইশিরপুরে আক্রান্ত ৪৩বছরের পুরুষ ব্যক্তি।
আরটি/পিসিআর রিপোর্ট মোতাবেক খড়গপুর শহরে এদিন আক্রান্ত হয়েছে ১৬ জন। এরমধ্যে নিমপুরা মালঞ্চ এলাকায় একই পরিবারের তিনজন আক্রান্ত। এঁরা হলেন ৪৮ বছরের পুরুষ ও ৩৫ ও ২৫ বছরের ২মহিলা। ইন্দায় পৃথক দুই পরিবারে আক্রান্ত হয়েছেন ২৬ বছরের যুবতী এবং ৬৬ বছরের বৃদ্ধ, ইন্দা আনন্দনগরে ৬৬ বছরের বৃদ্ধা ও ৬ বছরের শিশুকন্যা। ঝুলি সোনামূখীতে আক্রান্ত ৫২ বছরের পুরুষ এবং আইআইটি ক্যাম্পাস লাগোয়া স্টেট ব্যাংকের আবাসন এলাকায় ৪০ বছরের যুবক আক্রান্ত। খড়গপুরে ৪১ বছরের আরও এক পুরুষ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন -  বিপর্যয়ের দেওয়াল ভেঙে হাজার হাজার শ্রমিকের ভিড় বাড়ি ফেরার জন্য, উত্তর প্রদেশে ধুয়ে মুছে গেল লকডাউন

আইআইটি ক্যাম্পাস হাসপাতালের সংগৃহিত নমুনা থেকে ক্যাম্পাসের ভেতরে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ জন। ৩৭ বছরের গৃহবধূ ও ৪ বছরের শিশুকন্যা। ২৮ বছরের ২ যুবক। তালবাগিচা এলাকায় আক্রান্ত ৫৩ বছরের পুরুষ ব্যক্তি। গ্রামীন খড়গপুরের সাঁকোয়া চকতুড়িয়াতে ৫২ বছরের এক পুরুষ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন।
১৯ অক্টোবরের আরটি/পিসিআর রিপোর্ট মোতাবেক ৬০, ৩৪ ও ৩৭ বছরের তিন পুরুষ ব্যক্তি দাসপুরে আক্রান্ত। কীর্তিবাসপুরে ৪২ ও ৩৭ বছরের দম্পত্তি আক্রান্ত। এছাড়া ঘাটাল মহকুমায় কোনও আক্রান্ত নেই। ডেবরা থানার বাবুয়াপাটনা এবং পিংলার সাঙ্গাড় এলাকায় ৬৫ ও ৬০ বছরের ২বৃদ্ধ আক্রান্ত।