লকডাউনের ব্যস্ততার মধ্যেই বড় সাফল্য খড়গপুর পুলিশের, ১০দিনের মাথায় গ্রেপ্তার ৫ এটিএম লুটেরা, উদ্ধার ৪লক্ষ টাকা

4201
লকডাউনের ব্যস্ততার মধ্যেই বড় সাফল্য খড়গপুর পুলিশের, ১০দিনের মাথায় গ্রেপ্তার ৫ এটিএম লুটেরা, উদ্ধার ৪লক্ষ টাকা 1
লকডাউনের ব্যস্ততার মধ্যেই বড় সাফল্য খড়গপুর পুলিশের, ১০দিনের মাথায় গ্রেপ্তার ৫ এটিএম লুটেরা, উদ্ধার ৪লক্ষ টাকা 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: লকডাউনের চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যেই নজির বিহীন সাফল্য খড়গপুর পুলিশের। খড়গপুর শহরের একটি এটিএম গ্যাস কাটার দিয়ে কেটে প্রায় ৭লক্ষ টাকা লুট করে চৌপাট দেওয়া ৫ দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে লুট হওয়া টাকার বেশ কিছুটা অংশ। গ্রেপ্তার হওয়া ৫ জনের মধ্যে ৪ জনই খড়গপুর শহরের বাসিন্দা যার মধ্যে একজনের এটিএমের ১কোটি টাকা হাপিস করার পুরানো রেকর্ড রয়েছে। শনিবার এদেরকে আদালতে পেশ করার পর নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য ঘটনাটি ঘটেছিল হত ২০ মে রাতে অর্থাৎ আমফান ঘূর্ণিঝড় হওয়ার ঠিক আগের দিন। খড়গপুর শহরের পুরাতন বাজার ও কৌশল্যার মধ্যবর্তী এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ অফিসের কাছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমের ভল্ট গ্যাসকাটার দিয়ে কেটে ৭লক্ষ ৮৮হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে পালায় দুষ্কৃতীরা। তদন্তে নেমে পুলিশ দুটি বিষয় লক্ষ্য করেছিল। প্রথমত ওই এটিএমের সিসিটিভি অকেজো ছিল আর দ্বিতীয়ত মাত্র একদিন আগেই ওই এটিএমে টাকা ভরা হয়েছিল।

লকডাউনের ব্যস্ততার মধ্যেই বড় সাফল্য খড়গপুর পুলিশের, ১০দিনের মাথায় গ্রেপ্তার ৫ এটিএম লুটেরা, উদ্ধার ৪লক্ষ টাকা 3

পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় দুষ্কৃতীকারিদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে এই এটিএম সম্পৰ্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। যেহেতু ওই এটিএমটির কোনও সিসিটিভি ফুটেজ ছিলনা তাই পুলিশের কাছে কাজটা কঠিন ছিল কিন্তু পুলিশ তার নিজস্ব সোর্স ও প্রযুক্তির ব্যবহার করে তদন্তে অগ্রসর হয়। ওইদিন রাত ১২ টার পর ঘটনাস্থলে সক্রিয় থাকা মোবাইলগুলির তালিকা যোগাড় করে এবং পাশাপাশি নিজস্ব সোর্স ব্যবহার করে খড়গপুর পুলিশের এসডিপিও সুকোমল কান্তি দাসের নেতৃত্বে একটি দল ২৯মে রাতে ঝাড়গ্রাম জেলার সরডিহা এলাকার ডালকাটি গ্রাম থেকে সমীর মাহাত বলে একজনকে গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে পাওয়া যায় নগদ ১লক্ষ টাকা।

সমীর তার একটি হুন্ডাই এইওন চারচাকাও পরে উদ্ধার হয় যা সে জামবনীর এক আত্মীয় বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল। এই গাড়িতে করেই সে ঝাড়গ্রাম থেকে খড়গপুর গিয়েছিল ঘটনার দিন। সমীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ সন্ধান পায় খড়গপুর শহরের আরামবাটির বাসিন্দা সোমনাথ চ্যাটার্জির। পুলিশের এক কর্তার বক্তব্য, সোমনাথই হল সেই কিং পিন যার সমস্ত এটিএমের অবস্থান নখদর্পনে ছিল কারন ইতিপূর্বেই খড়গপুর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল বিভিন্ন এটিএমের জন্য নিয়ে যাওয়া এক কোটি টাকা হাপিস করে দেওয়ার অভিযোগে। এরপরই একে একে আরামবাটি থেকেই গ্রেপ্তার হয় আখিলেশ যাদব, রাজু সোরেন আর শহরের ছোট আয়মার বাসিন্দা রাকেশ বেরা ওরফে কালা।

পুলিশ এদের কাছ থেকে মোট ৩লক্ষ ১৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে। শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ” লকডাউন বলবৎ করার পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় পুলিশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে হচ্ছে। তারই মধ্যে এত বড় একটা ডাকাতির ঘটনার কিনারা করতে পারা নিশ্চিত ভাবেই বড় কাজ। আমি এই সাফল্যের জন্য আমার খড়্গপুরের সহকর্মীদের অভিনন্দন জানাই।”