স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মারপিট থেকে সঙ্ঘর্ষ ছড়ালো খড়গপুরে! মিশল রাজনীতি, আহত ৫, গ্রেপ্তার ৯

621
স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মারপিট থেকে সঙ্ঘর্ষ ছড়ালো খড়গপুরে! মিশল রাজনীতি, আহত ৫, গ্রেপ্তার ৯ 1

স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মারপিট থেকে সঙ্ঘর্ষ ছড়ালো খড়গপুরে! মিশল রাজনীতি, আহত ৫, গ্রেপ্তার ৯ 2নিজস্ব সংবাদদাতা: স্কুল চত্বরের লড়াইয়ের ঢেউ এসে পড়ল পাড়ার অভ্যন্তরে যা শেষ অবধি ক্লাব ছড়িয়ে গড়ালো রাজনীতির ময়দানেও। ব্যাপক সংঘর্ষে আহত হলেন ৫জন যার মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর এবং একজন আশঙ্কাজনক। বুধবার রাতের ঘটনায় এখনও অবধি গ্রেপ্তার ৯জন। বাঁশ, লাঠি, হকি স্টিকের পাশাপাশি ব্যবহার হল টাঙ্গি, তরোয়ালের মত ধারালো অস্ত্রও। গন্ডগোলে অংশ নেওয়া এবং প্ররোচনার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে খুঁজছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে খড়গপুর পৌর এলাকার ৩৫ এবং ৩৩নম্বর ওয়ার্ড অধ্যুষিত রবীন্দ্রপল্লী এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এই সংঘর্ষের উৎস ছিল হিজলি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় যেখানে দু’দল ছাত্র কোনও এক ছাত্রী সম্পর্কিত ঘটনায় পরস্পর মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ওই ভিডিওতে দেখা যায় একটি ছাত্রকে মাটিতে ফেলে ঘিরে ধরে কয়েকজন ছাত্র মারধর করছে। যদিও জানা গেছে ভাইরাল হওয়া এই অংশটিই মারপিটের একমাত্র চিত্র নয়। তার আগে ও পরেও ওই ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সামগ্রিক ভাবে ছাত্রদের এই মারপিটের ঘটনায় ওই ছাত্রীর দাদা সহ তিনজন আহত হয়েছিল যদিও সেই আঘাত ততটা গুরুতর ছিলনা।

স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মারপিট থেকে সঙ্ঘর্ষ ছড়ালো খড়গপুরে! মিশল রাজনীতি, আহত ৫, গ্রেপ্তার ৯ 3

এই সংঘর্ষের রেশ ধরেই বিষয়টি আলোচনার জন্য রবীন্দ্রপল্লী এলাকার দুটি প্রান্তের বেশকিছু যুবক একটি ক্লাবে আলোচনায় বসেন। ঘটনা চক্রে আলোচকদের মধ্যে কিছু যুবক ও ব্যক্তি ছিলেন যাঁরা আবার তৃনমূল ও সিপিআই এই দুটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক। অভিযোগ আলোচনা চলাকালীন উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। শুরু হয়ে যায় উত্তেজনা পূর্ন বাদানুবাদ এবং হাতাহাতি। এই হাতাহাতির সময় লোকবলে কম থাকা গোষ্ঠীর অংশটি তুলনামূলক বেশি মার খেয়ে যায়। আলোচনা অমীমাংসিত রেখেই চলে যায় তারা। এরপর ফিরে আসে আরও লোকবল এবং লাঠিসোটা নিয়ে। রাত্রি ৯টা নাগাদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রবীন্দ্রপল্লী এলাকা।

একই পাড়ার মধ্যে দুটি ভাগে বিভক্ত যুবরা পরস্পর পরস্পরের সংগে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেয়। লাঠি, বাঁশ, হকিস্টিক, টাঙ্গি, তরোয়াল, তির ধনুক, ইট পাটকেল নিয়ে পরস্পর তৈরি হয়। যদিও এই দুটি মুলবাহিনীর সঙ্ঘর্ষ পুলিশের তৎপরতায় হয়ে উঠতে পারেনি। যদি হত তাহলে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যেত। কিন্তু বিচ্ছিন্ন ভাবে কোথাও কোথাও একপক্ষ অন্যপক্ষকে মারধর করে যাতে দু’পক্ষের মধ্যে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিবৃত্ত করতে আসা মহিলা সমেত বেশ কয়েকজন আহত হন। এই আহতদের মধ্যে ২জনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তাঁদের মাথায় ধারালো একাধিক চোট রয়েছে। এছাড়াও আহত হয় বেশ কয়েকজন। সব মিলিয়ে ৫জনের জোরালো আঘাত রয়েছে। এঁদের প্রত্যেকেই খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় যারমধ্যে একজনকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর মস্তিষ্কের ভেতর কার অংশ বাইরে চলে আসে।

ইতিমধ্যে খবর পেয়ে পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী রবীন্দ্রপল্লী এলাকায় চলে আসে। ব্যাপক অভিযান ও তল্লাশি চালানো হয় অভিযুক্তদের খোঁজে। মোট ৯জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুপক্ষেরই মূল কয়েকজন অভিযুক্ত এখনও ধরা পড়েনি বলেই পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকা থমথমে। দুটি রাজনৈতিক দলই জানিয়েছেন এটি পাড়া গত সমস্যা। দুটি দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলেও এটি রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়।