Homeএখন খবর৬ মাসের স্ত্রীকে রেখে আত্মহত্যা ২৯ বছরের রেল কর্মীর! হতবাক খড়গপুর

৬ মাসের স্ত্রীকে রেখে আত্মহত্যা ২৯ বছরের রেল কর্মীর! হতবাক খড়গপুর

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাত্র ৬ মাস হয়েছে বিয়ের, চাকরি করতেন কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন রেলের ওয়ার্কশপে, স্ত্রী নিজেও সরকারি চাকুরে তারপরেও আত্মহত্যা করলেন এক ২৯ বছরের যুবক। খড়গপুর পৌরসভার ৩৩নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় হতবাক হয়ে গিয়েছেন পাড়া প্রতিবেশীরা। মঙ্গলবার ওই যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পাড়া প্রতিবেশীরা ছুটেছিলেন খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে। তাঁদের ধারনা ছিল তখনও বেঁচে আছেন যুবক। যদি সব কিছু ঠিক হয়ে যায়! কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করে। হতাশায় ভেঙে পড়েন সবাই।

জানা গেছে মৃত যুবকের নাম কিরন কুমার মন্ডল। মন্ডল কারখানায় ওয়াগন শপে কাজ করতেন। তাঁর আসল বাড়ি দক্ষিন ২৪পরগনার রায়দিঘি থানার পুরন্দরপুর গ্রামে। চাকরি পাওয়ার পর প্রথম দিকে মেসেই থাকতেন। ছ’মাস হল বিয়ে হয়েছে তাঁর। এরপরই নব বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ভাড়া নেন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রপল্লী এলাকায়। যুবকের স্ত্রী পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নার্স। দুজনেই কর্মরত বলে ওই যুবক তাঁর মা কে নিয়ে আসেন। তিনজনে থাকতেন।

জানা গেছে মাস দেড়েক আগে যুবক স্কুটি নিয়ে নিজের কাজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন। তাঁর পায়ের গোড়ালির অংশে জোরালো চোট লাগে। ভেঙে যায় হাড়। অপারেশন হয় যুবকের। গোড়ালিতে স্টিলের রড দিয়ে ভেঙে যাওয়া হাড় পুনঃস্থাপন করা হয় একটি জটিল অপারেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সেই অবস্থায় যুবককে শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল। ওই সময় থেকেই যুবক মানসিক অবসাদের মধ্যে চলে যায়। দু’দিন আগেই যুবকের ব্যান্ডেজ কাটা হয় কিন্তু তারপর থেকে তিনি আরও গভীর অবসাদে চলে যান। তাঁর নাকি এরকমই ধারনা হয়েছিল যে তিনি আর স্বাভাবিক চলা ফেরা করতে পারবেননা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে যুবক খুবই চুপচাপ হয়ে যান। খুবই কম কথা বলতেন এবং একটা ঘোরের মধ্যে থাকছিলেন এবং মাঝে মধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন যে তিনি আর হাঁটতে পারবেননা। সোমবার রাতে খাওয়া দাওয়া করার পর যথারীতি সবাই বিছানায় চলে গেছিলেন। যুবকও শুয়ে ছিলেন। সকালে হঠাৎই ছাদে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় সিঁড়ির ওপরে উঠতে গিয়েই পরিবারের নজরে পড়ে চিলেকোঠায় আ্যসবেসটরের চাল ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত লোহার পাইপ থেকে গামছা বাঁধা অবস্থায় ঝুলেছেন যুবক।

এরপরই বাড়িওয়ালার পরিবার, আশেপাশের প্রতিবেশীরা যুবককে নামিয়ে রওনা দেন হাসপাতালে কিন্তু সেখানেই যুবককে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়। খবর পেয়ে দক্ষিন ২৪ পরগনা থেকে ছুটে আসেন যুবকের পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ নিয়ে রওনা হন তাঁরা। শুধুই পা ভাঙা জনিত মানসিক অবসাদ নাকি আরও অন্য কিছু কাজ করেছে এই আত্মহত্যার পেছনে খুঁজছে পুলিশ। স্বচ্ছল পরিবার তার ওপর মাত্র ৬মাস হল বিয়ে হয়েছে তারপরেও একটা মানুষ শুধুমাত্র একটা দুর্ঘটনায় গভীর অবসাদে চলে গেল এমনটা মানতে নারাজ প্রতিবেশীরা।

RELATED ARTICLES

Most Popular