কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি, ডঃ গৌরাঙ্গ বিশ্বাসকে স্মরণ করল খড়গপুর

1080
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: অতিমারি করোনা যে সমস্ত মানব সম্পদকে কেড়ে নিয়েছে তাঁর মধ্যে অন্যতম হলেন খড়গপুর শহরের গৌরব ডঃ গৌরাঙ্গ বিশ্বাস। কেবলমাত্র একজন যশস্বী চিকিৎসকই নন ডঃ বিশ্বাস ছিলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ যিনি রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ধারায় ভাবিত হয়েছিলেন কিন্তু কখনই তাঁদের বাণী আউড়ে যাওয়ার বাতুল বিলাসিতা করেননি বরং নীরবে তাঁদের আদর্শে মানব সেবা করে গেছেন। তাঁর বাঁ হাতকে জানতে দেননি ডান হাত দিয়ে সেই সেবা করার কাহিনী। গত ৭ই সেপ্টেম্বর কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন ডঃ বিশ্বাস। শনিবার (১৯শে সেপ্টেম্বর) একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তাঁকে স্মরণ করলেন তাঁর সতীর্থ ও খড়গপুরের বিশিষ্ট মানুষেরা।

Advertisement

খড়গপুর শহরের ছোট ট্যাংরা এলাকা (খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের বিপরীতে) ডঃ দন্ডপাট কম্পাউন্ডের সাথী সোসাইটি কমপ্লেক্সে কোভিড কালীন সীমাবদ্ধতায় তাঁকে স্মরণ করতে উপস্থিত ছিলেন অন্যতম উদ্যোক্তা সমাজসেবী বুলান দাশগুপ্ত, খড়গপুর রেল হাসপাতালের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ এস. এ. নাজমি, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডঃ গৌতম সাহা, ডঃ অনুপ মল্লিক, ডঃ এস. এস মাইতি, ডঃ দেবাশিস চক্রবর্তী, ডঃ প্রনতি পাঠক, ডঃ বলরাম সাহু, বিশিষ্ট আইনজীবী অরূপ ভার্মা সহ শহরের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। স্মরণে উঠে এসেছে ডঃ গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের এমন অনেক উদ্যোগের কথা যা এ শহরে অনেকেই জানেননা।

Advertisement
Advertisement

বুলান দাশগুপ্ত জানান, “সময়টা ১৯৮৪ সাল যখন ডঃ বিশ্বাস সাবেক খড়গপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে আসলেন তখন হাসপাতালের জন্য কোনো সার্জেন বরাদ্দ নেই। মানুষকে যেতে হত মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালে অথবা বেসরকারি নার্সিং হোমে। ডঃ বিশ্বাস জেনারেল সার্জারি বিভাগের অনুপস্থিতেই শুরু করেছিলেন শল্য চিকিৎসার বিভাগ।” শুধুই চিকিৎসা নয় সঙ্গীত চর্চা, পর্বতারোহণ ইত্যাদি নানা বিষয়ে তাঁর পারদর্শীতা ছিল। খড়গপুরের পর্বতারোহণ সোসাইটি তাঁরই উদ্যোগে প্রথম তৈরি হয়। খড়গপুর এবং পার্শ্ববর্তী মানুষদের নুন্যতম ব্যয়ে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানের জন্য সাথী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চিকিৎসক ছিলেন তিনি।

উপস্থিত তাঁর সতীর্থ, বন্ধু ও শহরের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের স্মৃতি চারনে তুলে ধরেছেন ডঃ বিশ্বাসের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও অবদানের কথা।সদা হাস্যময় প্রাণবন্ত মানুষটির সংস্পর্ষে এসে কী ভাবে অনেকে নতুন ভাবনায় ভাবিত হয়েছেন তাও উঠে এসেছে স্মৃতির আলাপ চারিতায়।স্মরণসভায় তাই উচ্চারিত হল এই শহরে তাঁর চিরকালীন উপস্থিতির কথা। এ শহরের স্পন্দনে তাই তাঁর মরমি ছোঁয়া রয়ে যাবে চিরকাল, প্রতিটি প্রভাতে থেকে যাবেন ডঃ গৌরাঙ্গ বিশ্বাস।