খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে আক্রান্ত প্রসূতি, বন্ধ করে দেওয়া হল বিভাগ, কোয়ারেন্টাইনে ২চিকিৎসক সহ ১৫ ,শহরে নতুন আক্রান্ত ৮ জন

1925

নিজস্ব সংবাদদাতা: কার্যত: হুলুস্থুল বেধে গেল খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে, রবিবার ৪৫ জন সদ্য অথবা প্রাক প্রসূতি ছুটি নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেলেন বাড়ি অথবা নার্সিং হোমে। বন্ধই করে দেওয়া হল প্রসূতি বিভাগ। কী ব্যাপার? না প্রসূতি বিভাগের এক আসন্ন প্রসবার করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে! হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে খড়গপুর শহরেরই এক আসন্ন প্রসবা শুক্রবার খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই প্রসূতির রক্ত ক্ষরন হচ্ছিল বলে জানা যায়।

শুক্রবারের পর শনিবার সারাদিন ওষুধে সেই রক্তক্ষরন বন্ধ না হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁর অস্ত্রপ্রচারের সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম অনুযায়ী অস্ত্রপ্রচারের আগে আ্যন্টিজেন পরীক্ষা করাই এখন দস্তুর কারন এই টেস্টের ফলে মাত্র ৩০মিনিটে জানা যায় করোনা পরীক্ষার ফলাফল। সেই পরীক্ষা করানোর পরেই জানা যায় ওই মহিলা পজিটিভ। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে শালবনী করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়ে প্রসূতি বিভাগের অন্য মায়েদের মধ্যে। এঁদের কেউ সদ্য প্রসূতি কেউ আবার মা হওয়ার পথে। তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের মধ্যে করোনা ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। সবাই রোগি নিয়ে বেরিয়ে যেতে চান। হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোট ৪৫ জন প্রসূতি বা আসন্নপ্রসবাকে তাঁদের নিজস্ব বন্ডে ছেড়ে দেন কিন্তু ২ জনের অবস্থা সঙ্কট জনক থাকায় তাঁদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।

এদিন হাসপাতালে ভর্তি আরও এক ব্যক্তির করোনা পজিটিভ আসে আ্যন্টিজেন পরীক্ষায়। হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। তাঁর শরীরে কিছু লক্ষন পর্যবেক্ষণ করার পর তাঁর আ্যন্টিজেন পরীক্ষা হয় এবং করোনা পজিটিভ আসে। এই ব্যক্তিকেও করোনা হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে একই দিনে পরপর ২ জন আক্রান্ত হওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে। এই দুজনের চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত ২ চিকিৎসক ও ১৩ জন নার্স কে কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী জানিয়েছেন, ‘প্রসূতি বিভাগ দ্রুত স্যানিটাইজ করে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।’

আরও পড়ুন -  সাত সকালেই উচ্ছেদ শুরু খড়গপুরে! নতুন করে দখল করা রাস্তা ফাঁকা করার প্রক্রিয়া চালু, এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী

রবিবার এই দুটি মামলা ছাড়াও খড়গপুর শহরে মোট ৬জনের পজিটিভ এসেছে। এঁদের মধ্যে ঝাপেটাপুরের এক ৫১ বছরের মহিলা আগেই চিহ্নিত হয়েছিলেন যাঁর স্বামী কলকাতার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বামীকে দেখতে গিয়েছিলেন মহিলা। শনিবার তাঁর পজিটিভ আসে। রবিবার মহিলার ২৬ বছরের পুত্রবধূ এবং মহিলার দেওরের দুই ছেলে যাঁদের বয়স ২৫ এবং ২২ আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এঁরা দুজনেই বাইরে কর্ণাটক ও মহিশুরে পড়াশুনা করেন। লকডাউনের আগে একজন ও অন্যজন পরে বাড়ি ফেরেন। এঁদের বড় জন ডাক্তারি পড়ুয়া। তবে এরা যেহেতু তিনমাস বা তার আগে চলে এসেছিলেন তাই সেখান থেকে এঁদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বরং ৫১ বছরের ওই মহিলা যিনি কলকাতা সূত্রে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁরই হাতধরেই সম্ভবতঃ পরিবারে করোনা সংক্রমন হয়েছে।

আরও পড়ুন -  আফ্রিকার চার্চে বন্দুকবাজদের ভয়াবহ হামলা, নারীদের সরিয়ে নিয়ে গুলি পুরুষদের ওপর, নিহত ২৪

শহরের ইন্দা খড়্গেশ্বর মন্দির এলাকায় কিছুদিন আগেই একজন ঠিকাদার আক্রান্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি শালবনী হাসপাতালে ভর্তি। রবিবার তাঁর ৩৩বছর বয়সী স্ত্রী ও ৬৯ বছরের বাবা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শহরেরই ভগবানপুর এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী পেশায় এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটিভ। সব মিলিয়ে খড়গপুরে রবিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮জন। গত ২দিনের মত এদিনেও রেল এলাকায় কোনও আক্রান্ত মেলেনি। দ্য খড়গপুর পোষ্টের হিসাব অনুযায়ী শহরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৬ জন এবং এরমধ্যে ১৫০ জনই বর্তমানে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে আক্রান্ত প্রসূতি, বন্ধ করে দেওয়া হল বিভাগ, কোয়ারেন্টাইনে ২চিকিৎসক সহ ১৫ ,শহরে নতুন আক্রান্ত ৮ জন 1