শুভেন্দুর পথে এবার ‘অরাজনৈতিক’ জহর পাল, খড়গপুরে শুরু গুঞ্জন

1631
শুভেন্দুর পথে এবার 'অরাজনৈতিক' জহর পাল, খড়গপুরে শুরু গুঞ্জন 1
শুভেন্দুর পথে এবার 'অরাজনৈতিক' জহর পাল, খড়গপুরে শুরু গুঞ্জন 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: ২২বছরে প্রথম অরাজনৈতিক সভা তাঁর উদ্যোগে! তিনি খড়গপুর শহরের প্রথম তৃনমূল নেতা। তৎকালীন শাসকদলের এবং কংগ্রেসের প্রতাপের সামনে দাঁড়িয়েও কখনও কোনও ‘অরাজনৈতিক’ সাজেননি, নির্দল হিসাবে প্রার্থী হননি। রবিবার খড়গপুর শহরের তালবাগিচায় তিনি নিয়ে ফেললেন একটি অরাজনৈতিক অনুষ্ঠান। আশ্চর্য হওয়ার আরও যে মাত্র দেড় বছর আগেও দলের মনোনয়ন পেয়ে খড়গপুর শহর বিধানসভা উপনির্বাচনে যখন বর্তমান বিধায়ক প্রদীপ সরকার দলের ভেতরেই তীব্র বিরোধিতা এমনকি স্যাবোটেজের আশঙ্কা করছিলেন তখন তিনিই ছিলেন একমাত্র সন্দেহহীন খড়গপুর শহরের নেতা যিনি নির্দ্বিধায় দলীয় নির্দেশ তামিল করতে মাঠে নেমে পড়েছিলেন। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন তিনিই জহরলাল পাল যাঁর নেতৃত্বে খড়গপুর শহর তৃনমূল কংগ্রেস প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পায় খড়গপুর পুরবোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ পেয়ে।

সেই জহরলাল পালের উদ্যোগেই রবিবার তালবাগিচা স্কুলের প্রাঙ্গনে হয়ে গেল শারদ মিলন উৎসব। ৩৩ এবং ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় দেড় হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন এই সভায়।
জহরলাল পাল নিজে জানিয়েছেন,’ এবার দুর্ভাগ্যক্রমে শারদ উৎসবের আগেই আমি কোভিড আক্রান্ত হয়ে পড়ি যার রেশ গড়িয়েছে অনেক দিন অবধি। আমার পরিবারেই মা দুর্গার পুজা হয়। মানুষ জন আসেন। তাঁদের সঙ্গে মিলিত হই কিন্তু এবার অসুস্থ হওয়ার কারনে সেটা হয়ে উঠেনি। তাই এলাকার মানুষজনকে সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য এই সামান্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম।”

শুভেন্দুর পথে এবার 'অরাজনৈতিক' জহর পাল, খড়গপুরে শুরু গুঞ্জন 3

যদিও রাজনীতিকরা বিষয়টির এতটা সরলীকরণ করতে রাজি নন। কারন নিকট অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা বলছে পাল অন্য কিছু ভাবছেন। ২১শে জুলাইয়ের পর নতুন সাংগঠনিক রদবদলের পর খড়গপুর তৃনমূলে বেশ কিছু ক্ষোভের ঘটনার বহিঃপ্রকাশ ঘটে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শহরের নেতা মুনমুন ওরফে দেবাশিস চৌধুরীর দল ছাড়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি। এরপরই তড়িঘড়ি মুনমুনকে জেলার মুখপাত্র ঘোষণা করা হয়। সেই সাংগঠনিক রদবদলে বঞ্চিত হয়েছিলেন জহর পালও যদিও বাধ্য ছেলের মতই মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু মুনমুন চৌধুরী হুমকি দিয়েই নতুন পদ পাওয়ায় দলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, ‘দলের বদনাম করে নেতা হওয়া যায় আর ঘাম রক্ত ঝরালে জোটে অবজ্ঞা। অনেক হয়েছে, আর নয়।’

এবার জহরকে ঠান্ডা করতে আসরে নামে দল। তাঁর ছেলে অসিত পালকে খড়গপুর শহরের যুব সভাপতি করা হয়। যদিও জানা গেছে ততদিনে মন ভেঙে গিয়েছে তাঁর। নিকট জনদের কাছে জানিয়েছেন, জীবন ভরের লড়াইয়ের বিনিময়ে তিনি কোনও পুরস্কার চাননি কিন্তু অবজ্ঞাও প্রত্যাশা করেননি। আর এই দলের প্রতি কোনও টান অনুভব করছেননা। এরই মধ্যে পুজোর ঠিক মুখেই করোনা আক্রান্ত হন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে সরাসরি কলকাতার নামি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেন। সুস্থ হয়ে ফেরেন। ইতিমধ্যে এই তালবাগিচাতেই একটি ক্লাবের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। ডেকে নেন পালকেও। এমনিতেই শুভেন্দুর সঙ্গে পালের রসায়ন ভাল। খড়গপুর উপ নির্বাচনে দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু। সেই সময় থেকেই আরও দৃঢ় হয়েছে সম্পর্ক।

এরপর করোনা আক্রান্ত হওয়ার সময় শুভেন্দুর সাহায্য আরও সাবলীল হয়েছে সেই বন্ধন। এমনই পরিস্থিতির ওপর দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর মতই জহর পালের এই অরাজনৈতিক উদ্যোগ কিনা তা ভাবার বিষয়। সাথে এটাও ভাবার যে শুভেন্দু যেখানেই থাকুন না কেন যদি দর কষাকষিতে অন্ততঃ ৫০টি আসনে তিনি নিজের প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পান তবে জহর পাল তাঁর অবজ্ঞার জবাব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন।