আরটি/পিসিআরেও নেগেটিভ! বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন তৃণমূল নেতা জহর পাল

838
আরটি/পিসিআরেও নেগেটিভ! বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন তৃণমূল নেতা জহর পাল 1
আরটি/পিসিআরেও নেগেটিভ! বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন তৃণমূল নেতা জহর পাল 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভয়ঙ্কর সংক্রমন নিয়ে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা জহরলাল পাল। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে তাঁর। চিকিৎসা চলছে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন বলেই। ট্রুন্যাট রিপোর্ট নিশ্চিত করেছে তাঁর করোনা সংক্রমন কিন্তু সবাইকে হতবাক করে দিয়ে আরটি/পিসিআর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে তাঁর। আর এখানেই প্রমাদ গুনেছেন তাঁর আত্মীয়রা। যদি এই রিপোর্টের ওপর ভরসা করে তাঁকে বাড়িতে রেখে দেওয়া হত কিংবা অন্য চিকিৎসা করা হত তাহলে কী হত ভাবলেই শরীর হিম হয়ে আসছে জহরলাল পালের আত্মীয় বন্ধুবান্ধবদের।

গত শুক্রবার, ৯ তারিখ থেকে জহরলাল পাল অসুস্থতা বোধ করতে শুরু করেন। জ্বর ও কাশির উপসর্গ ছিল। সন্দেহ হওয়ায় বাড়ির লোকেরা তাঁর রবিবার আ্যন্টিজেন পরীক্ষা করায়। ফল আসে নেগেটিভ। এরপরই জহরবাবু নুতন উদ্যোমে পার্টির কাজ শুরু করেন। ফল হয় মারাত্মক। ফুসফুসে সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ফিজিসিয়ান দেখানো হয় তাঁকে। যেহেতু করোনা নেগেটিভ তাই করোনার চিকিৎসা না করে সাধারন ভাবে নিউমোনিয়া চিকিৎসা শুরু হয় কিন্তু সংক্রমন বাড়তেই থাকে।

আরটি/পিসিআরেও নেগেটিভ! বড় বাঁচা বেঁচে গেলেন তৃণমূল নেতা জহর পাল 3

বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। এরপরই তাঁকে ফের নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসাকরা সন্দেহ করেন আ্যন্টিজেন পরীক্ষা সঠিক নির্ণয় করতে পারেনি। তাঁরা আরটি/পিসিআর করতে বলেন। খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে নমুনা দেন জহরবাবু। কিন্তু ইতিমধ্যে তাঁর বুকের এক্স-রে করে দেখা যায় সংক্রমন মারাত্মক আকার নিয়েছে। শুধু তাই নয় তাঁর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে শুরু করে এবং সুগার  হু হু করে কমতে থাকে। চিকিৎসকরা দেখেন রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৮৬ হয়ে গেছে।

যেহেতু আরটি/পিসিআর রিপোর্ট আসতে অন্তত ৪৮ ঘন্টা লাগবে তাই ফের ওই দিনই তাঁর ট্রুন্যাট পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় তিনি পজিটিভ। সাথে সাথে ওই দিনই তাঁকে কলকাতার একটি নামি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত: স্থিতিশীল আছে তাঁর অবস্থা। ট্রুন্যাটের রিপোর্ট নির্ভর চিকিৎসা শুরু হয়েছে তাঁর। এদিকে একই দিনে করা আরটি/পিসিআর রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে জহরলাল পাল নেগেটিভ! নিয়ম বলছে আরটি/পিসিআর গোল্ডেন স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট। এই টেস্ট হল করোনার সর্বোচ্চ পরীক্ষা। যেখানে আ্যন্টিজেন বা ট্রুন্যাট পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েও আরটি/পিসিআরে পজিটিভ হতে পারে কিন্ত উল্টোটা অর্থাৎ ওই দুই পরীক্ষায় পজিটিভ হলে আরটি/পিসিআরও পজিটিভ সেটাই ধরে নেওয়া হয়। মাত্র দশমিক শতাংশ ব্যতিক্রম হয় এবং সেই ব্যতিক্রমই মানুষের জীবন কেড়ে নেয়।

এক্ষেত্রে যদি চিকিৎসকরা আরটি/পিসিআর পরীক্ষার ফলের জন্য অপেক্ষা করে জহরবাবুর চিকিৎসা শুরু করতেন তাহলে তাঁর জীবন সংশয় ছিল বলাই বাহুল্য কারন ট্রুন্যাটের বদলে আরটি/পিসিআর রিপোর্ট নেগেটিভ থাকায় কোনও করোনা হাসপাতালই তাঁকে ভর্তি নিতনা চিকিৎসার জন্য। কিন্তু কেন এটা হল জানতে চাওয়া হলে চিকিৎসকরা এর দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমত: হতে পারে নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াতে ত্রুটি ছিল। কিংবা দ্বিতীয়ত: পরীক্ষা পদ্ধতিতে ত্রুটি থেকে গেছে। ঘটনা যাই হোকনা কেন এর মাশুল যে মারাত্মক হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

খড়গপুর শহরের এক প্রখ্যাত চিকিৎসক জানিয়েছেন, “পরীক্ষা যাই হোকনা কেন, চিকিৎসকের নিজস্ব ধারনাটাই এক্ষেত্রে বড় কথা। রোগির লক্ষণ দেখেই তাঁকে বিচার করতে হবে তিনি যদি মনে করেন লক্ষনটা করোনার তিনি করোনারই চিকিৎসা করবেন। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম কানুন চিকিৎসকের অভিজ্ঞতার উর্ধ্বে নয়। চিকিৎসকের চোখ, হাতে কলমে অনুভব যা বলে যাঁকে আমরা ক্লিনিক্যাল টেস্ট বলি প্যাথলজিক্যাল টেস্ট সেটা বলছে কিনা এটাই দেখার যদি না বলে তাহলে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা দিয়েই চিকিৎসা করব। আমরা বহু ক্ষেত্রেই দেখতে পাই রোগির লক্ষণ বলছে ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েড কিন্তু পরীক্ষায় তার অস্তিত্ব ধরা পড়েনি। সেক্ষেত্রে আমরা চিকিৎসটা শুরু করে দেই এবং ওষুধ পড়তেই দেখা যায় রোগি ভাল হতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। চিকিৎসকরা অনুভব করছেন শ্রী পালের করোনা সংক্রমন হয়েছে। তাই তাঁরা আ্যন্টিজেন পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর না করে আরটি/পিসিআর, ট্রুন্যাট করিয়েছেন। এর অর্থ চিকিৎসকের কাছে তাঁর অনুভবের বাইরে কোনও পরীক্ষাই বিশ্বাসযোগ্য নয়, এমনকি আরটি/পিসিআরও নয়। সমস্ত ফল নেগেটিভ আসলেও একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক জহর বাবুর করোনারই চিকিৎসা করতেন কারন লক্ষনগুলি তাই বলছে। তবে চিকিৎসাটা শুরু করতে হয়ত একটু দেরি হয়ে যেত।”