দাঁতনের বিউটি পার্লারের বাড়িতে উদ্ধার খড়গপুরের নিঃসঙ্গ মেয়ের ঝুলন্ত দেহ

2846
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: দাঁতনে নিজের বিউটি পার্লার যুক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার হল খড়গপুরের এক তরুনীর দেহ। বছর সাতাশের ওই তরুনী একাই থাকতেন বলা জানা গেছে। রবিবার দুপুরে ওই মৃতদেহ উদ্ধার হলেও মৃত্যু তার আগেই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে কারন শরীরের চামড়ার রঙ কালচে হয়ে এসেছে এবং পচন শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে তরুনীর নাম শম্পা বারিক। শম্পার বাপের বাড়ি খড়গপুর শহরের শ্রীকৃষ্ণপুরে। দাঁতনের জেনকাপুরের জ্যোতি বারিকের সঙ্গে বছর দশেক আগে বিয়ে হয়েছিল তার। জেনকাপুর বাজারের ওপরেই তাঁদের একটি বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়ির সামনের অংশে রয়েছে একটি বিউটি পার্লার যেটা শম্পা চালাত। শম্পার স্বামী চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে কাজ করে। তাঁদের একটি ৮বছরের ছেলে রয়েছে যে কিনা মামা বাড়ি অর্থাৎ খড়গপুরেই থাকে।

Advertisement
Advertisement

শম্পার দাদা কার্ত্তিক প্রামানিক জানিয়েছেন,
জেনকাপুর বাজারের অদূরেই তাঁর বোনের শ্বশুরবাড়ি তবে বোন তাদের বাজার সংলগ্ন বিউটি পার্লার যুক্ত বাড়িতে একাই থাকত। বিউটি পার্লার সেই চালাত। যেহেতু জ্যোতি বাইরে কাজ করত তাই তাঁদের শিশুটিকে তাঁরা নিজেদের কাছে রেখেছিলেন। কার্ত্তিক জানিয়েছেন, শনিবার বিকাল থেকে বোনের দুটি মোবাইলেই ফোন করে পাওয়া যায়নি। রিং হয়েই গেছে। বাধ্য হয়ে তারা রবিবার রওনা দেন। রবিবার দুপুরে জেনকাপুরে গিয়ে দেখেন বাড়ি ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকির পরও সাড়া না মেলায় দরজা ভাঙতে চান কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন আগে পুলিশকে খবর দিতে। এরপর পুলিশ আসে। পুলিশের উপস্থিতিতে দরজা ভাঙা হয়। এরপরই দেখা যায় একটি ঘরের মধ্যে গলায় ফাঁসি দিয়ে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলছে শম্পা।

কার্ত্তিকের দাবি, “বোন কোনও রকম সমস্যায় আছে এমনটা আমাদের জানা নেই। আমাদের সঙ্গে শেষবার তার স্বাভাবিক কথা বার্তাই হয়েছে। তার স্বামীর সঙ্গেও কোনও ঝামেলা হয়েছিল এমনটাও আমরা জানিনা। গোটা বিষয়টাই আমাদের রহস্যজনক মনে হচ্ছে। বোন যে দুটি রুমে থাকত তার একটি আ্যসবেস্টারের। সেখান দিয়ে প্রবেশ করে কেউ কিছু করে দিলনা তো?”

পুলিশ প্রাথমিক ভাবে ভেতরে কেউ ঢুকেছিল এমন কোনও প্রমান পায়নি। তাঁদের মনে হয়েছে বিষয়টি আত্মহত্যার। তবুও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। বাড়িতে থাকা ২টি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। যোগাযোগ করা হয়েছে জ্যোতির সঙ্গে যদিও বিশেষ কিছু মেলেনি। শম্পার বাপের বাড়ির লোকেরা খড়গপুরেই তাঁর মৃতদেহ সৎকার করেছে। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। মোবাইল দুটি থেকে কিছু তথ্য পাওয়া যায় কিনা দেখা হচ্ছে।