নিরন্নের সাথে অন্নমুখে দেবাদ্রিতা, অন্ধকারে আলো ছড়ালেন বিভাষ, আরও একবার খেজুরি ছুঁয়ে মিডনাপুর ডট ইন

167

নিজস্ব সংবাদদাতা: আমফান বিজ্ঞাপিত নয় খেজুরি, প্রচারের আলো থেকে বহুদুরে ত্রানের আড়ম্বরে মুখ ঢাকেনি বাংলার কয়েক শতক আগের প্রাচীন বন্দর, ভারতের আদি ডাকঘর আর ইতিহাস বিস্মৃত সাহেবদের গোরস্থানের দেশ। আরও একবার ঝড় এসে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে গেছে খেজুরিকে যে ঝড়ের নাম আমফান। আর তিনদিনের মাথায় ১মাস পূর্ন হবে সেই ভয়ঙ্কর দুর্যোগের। যদিও খেজুরিবাসীর সর্বনাশের সংক্রান্তি রাত তাতে কাটবেনা। সর্বাঙ্গে ঝড়ের ক্ষত নিয়ে অর্ধেকের বেশি খেজুরি এখনও ঠিক ঝড়ের পরের দিনের মতই দুর্যোগ পোহাচ্ছে।

বুধবার সেই দুর্যোগ কবলিত নিরন্ন মানুষের সাথেই জীবনের প্রথম অন্ন মুখে নিল ছোট্ট দেবাদ্রিতা। ভাবনায় সেই মিডনাপুর ডট ইন, লকডাউন পর্ব থেকেই সাবেক মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে সহায়তায় এগিয়ে এসেছিল যে সংগঠন।
দেবাদ্রিতার বাবা দিনেন্দু মান্না ‘মিডনাপুর ডট ইন’ সংস্থার সদস্য। নিবাস খেজুরির হেঁড়িয়াতে। কনিষ্ঠা কন্যা দেবাদ্রিতা’র অন্নপ্রাশনের প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান তাই বিপর্যস্ত মানুষের সাথেই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অন্নপ্রাশনের দিনক্ষন আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। কিন্ত ভাগ্যক্রমে গত পনেরদিন আগের সেই দিনটি লক ডাউনের আওতায় পড়ে। তাই শুধুমাত্র মাঙ্গলিক কাজটুকু ছাড়া বাকি সমস্ত অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।

দিনেন্দুবাবুর পরিবার ঠিক করেন, তাদের কন্যার অন্নপ্রাশনের প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান খেজুরীর উপকূলবর্তী অঞ্চলে আমফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মাঝে পালন করবেন। সেইমতো আজ দুপুরে খেজুরি ২ ব্লকের চারটি গ্ৰামের (অরকবাড়ী, চক অরকবাড়ী, সফরচটা ও বনবাসুড়িয়া) প্রায় ৪৫০ জন মৎসজীবী পরিবারকে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। বনবাসুড়িয়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রান্নার ব্যবস্থা করা হয়। খাদ্য তালিকায় ছিল – ভাত, আলুভাজা ডাল, পটলের তরকারি, মাছ, চাটনী ও পাঁপড়।

আরও পড়ুন -   করোনা সতর্কতায় বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ হল বায়োমেট্রিক, নয় কোনও সেমিনার

এই সংস্থার আরেক সদস্য তমলুক নিবাসী বিভাষকান্তি মন্ডলের পক্ষ থেকে, প্রয়াত বাবা নগেন্দ্রনাথ মন্ডল ও মা রাধারানী মন্ডলের স্মৃতিতে খেজুরীর ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ টি পরিবারকে টর্চ লাইট বিতরন করা হয়। একসময় সমুদ্রের দিকভ্রষ্ট নাবিকদের আলো দেখাতো খেজুরির কাউখালীর বাতিস্তম্ভ। আমফান বিধ্বস্ত খেজুরির সার দিয়ে শুয়ে থাকা ভেঙে গুঁড়িয়ে যাওয়া বিদ্যুতের খুঁটি গুলিই বলে দেয় খেজুরিরই এখন আলোর বড় প্রয়োজন। বিভাষ সেই ডাক শুনেছেন।

আরও পড়ুন -  ২৭টা বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি করে জয়ে আত্মবিশ্বাসী দিলীপ, পৌর এলাকায় ভাল ফল আশা করছেন কংগ্রেস

এদিন খেজুরীর পূর্ব পাঁচুড়িয়া,পশ্চিম পাঁচুড়িয়া,নানকার গোবিন্দপুর, ওয়াশীলচক, কটকা দেবীচক, মুরলীচক,মনোহরচক, ওয়াশীলচক, কশাড়িয়া , উত্তর থানাবেড়্যা, দক্ষিণ থানাবেড়্যা, মেইদিনগর, অজানবাড়ী, খেজুরী, ভূপতিনগর, শাদুল্যাচক এইসব গ্রামে কিছু দুঃস্থ পরিবারকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।
মিডনাপুর ডট ইনের পক্ষ থেকে সমগ্র কর্মসূচীতে দিনেন্দু, বিভাষ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রধান অরিন্দম ভৌমিক ,স্থানীয় শিক্ষক ও আঞ্চলিক গবেষক সুদর্শন সেন, রাজকুমার দাস, জ্যোর্তিময় খাটুয়া ও পার্থ দে। গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে গৌতম কুমার বেরা ও লক্ষী পাত্র এই কর্মসূচীতে সহায়তা করেন। সব মিলিয়ে আরও একবার খেজুরি ছুঁয়ে এল মিডনাপুর ডট ইন।

নিরন্নের সাথে অন্নমুখে দেবাদ্রিতা, অন্ধকারে আলো ছড়ালেন বিভাষ, আরও একবার খেজুরি ছুঁয়ে মিডনাপুর ডট ইন 1