শুভেন্দু গমনের মুখে খেজুরি দিয়ে ‘দখল’ শুরু! কটা পার্টি অফিস ধরে রাখা যাবে! ভাবছে তৃনমূল

8108
শুভেন্দু গমনের মুখে খেজুরি দিয়ে 'দখল' শুরু! কটা পার্টি অফিস ধরে রাখা যাবে! ভাবছে তৃনমূল 1

ভীষ্মদেব দাশ : দখল হওয়া শুরু হয়ে গেল আর শুরু হল সেই খেজুরি দিয়েই যে খেজুরিতে কয়েকদিন আগেই ‘হার্মাদ মুক্তি দিবস’ পালন করেছিলেন সদ্য মন্ত্রিত্ব ছাড়া শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্ত্রিত্ব ছাড়ার ৮ঘন্টার মধ্যেই তৃণমূলের কার্যালয় দখল শুরু হয়েছে। চলেছে বোমাবাজি, আগুন, ভাঙচুর আর দখল। শুভেন্দু গমনের মুখে খেজুরি দিয়ে 'দখল' শুরু! কটা পার্টি অফিস ধরে রাখা যাবে! ভাবছে তৃনমূল 2বিভ্রান্ত তৃনমূল নেতারা, পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনেছেন, রাস্তা অবরোধ করেছেন কিন্তু দিনের শেষে এটা বোঝা গেছে মনোবল হারাচ্ছে তৃনমূল। বিজেপির তরফে ঘটনা স্বীকার করে নিয়ে বলা হয়েছে ‘জনরোষ’ ঠিক যেমনটা এক সময় সিপিএমের একের পর এক খেজুরি আর নন্দীগ্রাম পার্টি অফিস দখল করতে গিয়ে তৃনমূল বলত। মাত্র ১দশকেই ইতিহাসের কী অদ্ভুদ প্রত্যাবর্তন!

তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের দাবি, শুক্রবার বেলা আড়াই তিনটা নাগাদ ব্যাপক বোমাবাজি শুরু হয়। এর ঘন্টা খানেকের মধ্যে পূর্ব আলাইচক এলাকার তৃণমূলের একটি কার্যালয়ের দখল নেওয়া হয়। এরপরই একের পর এক ৫টি তৃনমূল কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় যার মধ্যে একটি অঞ্চল কার্যালয় রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বীরবন্দর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে। তৃণমূলের দাবি, বিজেপিই সংগঠিত করেছে এই দখলদারি জনতাকে। বিজেপির স্থানীয় মন্ডল সভাপতি সুমন দাসের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের আরও অভিযোগ পুলিশকে বিকাল থেকেই ঘটনার কথা বলা হলেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল আর সেই সুযোগ নিয়েই একের পর পার্টি অফিসে হামলা চালানো হয়।

শুভেন্দু গমনের মুখে খেজুরি দিয়ে 'দখল' শুরু! কটা পার্টি অফিস ধরে রাখা যাবে! ভাবছে তৃনমূল 3

জানা গেছে শুক্রবার শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রীত্বে  ইস্তফা দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই আনন্দে মাতোয়ারা হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে শুক্রবার খেজুরিজুড়ে আতসবাজি ফাটিয়ে কার্যত উৎসব পালন করেন বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূলের অভিযোগ খেজুরি-১ ব্লকের বীরবন্দর পঞ্চায়েত এলাকার বীরবন্দর, পাটনা, মধ্য পাটনা, আলাইচক, কন্ঠিবাড়ি, আলাইচক এলাকার ৬টি পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায় বিজেপি কর্মীরা। ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি পার্টি অফিসগুলিতে বিজেপির পতাকা তুলে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন বীরবন্দর পঞ্চায়েতের তৃণমূল সভাপতি সেক নওসেদ আলি। তার মতে মদ্যপ বিজেপি কর্মীরা আমাদের পার্টি অফিস ভাঙচুর করেছে। পতাকা ছিঁড়ে বিজেপির পতাকা লাগিয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে হেঁড়িয়া মোড়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পথ অবরোধ শুরু তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বিমান নায়ক জানিয়েছেন, ‘বিজেপির নেতৃত্বেই এই তান্ডব শুরু হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকেই বিজেপি এই কাজ শুরু করেছে। লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরুনোর পর তারা খেজুরিতে ৩টি পার্টি অফিসের দখল নেয় যার পরবর্তীকালে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচেষ্টায় উদ্ধার হয়। সেই কাজ ফের শুরু করেছে বিজেপি।’ নায়ক বলেন, ‘আমরা এখনও সঙ্ঘবদ্ধ রয়েছি এবং এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি জানাচ্ছি।’ নায়ককে প্রশ্ন করা হয়, শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পরই এই ঘটনা শুরু হয়েছে? উত্তরে নায়ক বলেন, ‘ হতেই পারে কিন্তু তিনি তো দল ছাড়েননি। আমরা দলের ছত্রছায়াতেই রয়েছি। পরবর্তী কালে কী হয় দেখা যাবে।’

বিজেপির মন্ডল সভাপতি সুমন দাস বলেন, ‘ গতকাল এলাকার বেশকিছু যুবক ফোন মারফৎ আমাদের বিজেপিতে যোগদানের খবর জানান। হয়ত অতি উৎসাহ ভরে তারাই পার্টি অফিস গুলিতে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেয়। পুলিশ পরে গিয়ে সেই পতাকা খুলেও দিয়েছিল কিন্তু পরের নাটক তৃনমূলেরই তৈরি করা। বিজেপিকে বদনাম করার জন্যই নিজেরাই পার্টি অফিস ভেঙে আমাদের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।”  অন্যদিকে বিজেপির কাঁথি সংগঠনিক জেলার সম্পাদক নবীন প্রধান জানিয়েছেন, ‘হয়ত শুভেন্দু বাবু মন্ত্রিত্ব ছাড়ায় তৃনমূল ওই এলাকায় দুর্বল হয়ে পড়েছেন পাল্টা বিজেপি শক্তিশালী হয়েছে কিন্তু এই ঘটনা বিজেপির দলীয় কর্মসূচি নয়। হয়ত স্থানীয় মানুষের জনরোষ থেকেই এটা হয়েছে।”

এদিকে শুধু খেজুরি বা নন্দীগ্রাম নয়, নয় শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলা, পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামেও এই আশঙ্কার মেঘ চাড়া দিচ্ছে। এই তিন জেলাতেই তৃণমূলের মধ্যে থাকা শুভেন্দু অনুগামীদের প্রাধান্য বেশি কিন্তু সরকারি ক্ষমতার কাছাকাছি না থাকায় দলীয় কার্যালয়গুলিতে তাঁদের তেমন নিয়ন্ত্রন ছিলনা। শুভেন্দু । এবার তাঁদের দাপট বাড়তে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক শুভেন্দু অনুগামী বলেন, “প্রথম কথা তৃণমূলের পার্টি অফিস কোথায়? বেশির ভাগই ২০১১র পর সিপিএমের দখল করা অফিস। দ্বিতীয়ত তৃণমূলের ওই নেতারা পার্টি অফিসে বসার সময় কোথায় পেতেন? সবাই তো পঞ্চায়েত সমিতির অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে টেন্ডার পাওয়ার জন্য নচেৎ বালি আর মোরাম খাদানেই পড়ে থাকেন। পার্টি অফিসে ওঁদের আর দরকার নেই।”