দেড় দশক পেরিয়ে ফের কলকাতার রাস্তায় ডবল ডেকার, মূখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই উদ্বোধন নীল সাদা দোতলা বাসের

449
দেড় দশক পেরিয়ে ফের কলকাতার রাস্তায় ডবল ডেকার, মূখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই উদ্বোধন নীল সাদা দোতলা বাসের 1
দেড় দশক পেরিয়ে ফের কলকাতার রাস্তায় ডবল ডেকার, মূখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই উদ্বোধন নীল সাদা দোতলা বাসের 2

ওয়েব ডেস্ক : দেড় দশক পেরিয়ে ফের কলকাতা শহরে দেখা মিলবে দোতলা বাস বা ডবল ডেকারের। ১৫ বছর আগে এই বাস ছুটত কলকাতা মহানগরের রাজপথে। ঠিক যেমনটা এখন লন্ডন শহরে দেখা যায়। মঙ্গলবার থেকে কলকাতার বুকে ঝাঁ -চকচকে নীল-সাদা রঙের দোতলা বাসকে ছুটতে দেখবে শহরবাসী। যার উদ্বোধন করবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পুরনো কলকাতা শহরে স্বাধীনতার আগে থেকেই এই বাস চলতো। সেই ১৯২৬ সালে প্রথম মহানগরে দোতলা বাস রাস্তায় নামে। সেসময় এই বাস শহরের রাস্তায় চললেও ১৯৯০ সালের পর থেকে ক্রমশ শহরে দোতলা বাসের চাহিদা কমে যায়। এরপর ২০০৫ সালে কলকাতায় একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় দোতলা বাস চলাচল। দীর্ঘ ১৫ বছর পর পুনরায় চালু হচ্ছে এই বাস পরিষেবা।

দেড় দশক পেরিয়ে ফের কলকাতার রাস্তায় ডবল ডেকার, মূখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই উদ্বোধন নীল সাদা দোতলা বাসের 3

জানা গিয়েছে, কলকাতার রাস্তায় ফের দোতলা বাস পরিষেবা চালু হলেও তা কিন্তু মোটেই প্রতিদিনের যাত্রী পরিবহণের জন্য ব্যবহার করা হবে না। বরং এই বাসকে মহানগরীর পর্যটনের প্রসারের জন্য ব্যবহার করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সরকারের লক্ষ্য সাধারণ যাত্রী পরিবহণের বদলে পর্যটনে প্রসার ঘটানো। ফলে সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ পরিবহণ নিগমের তরফে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা খরচ করে আপাতত দু’টি দোতলা বাস তৈরি করিয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই বাস তৈরি হয়েছে জামশেদপুরের ‘বেবকো বা বিবিকো’ সংস্থা। ঝাঁ-চকচকে এই বাসটিতে আপাতত ৪৫টি আসন রয়েছে৷ তবে ধীরে ধীরে এ রাজ্যে মোট ১০ টি দোতলা বাস আনার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য পরিবহন দফতরের। এদিকে বাস দুটি যাতে রাস্তায় নামতে পারে সেজন্য ইতিমধ্যেই সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউট অফ রোড ট্রান্সপোর্ট-এর অনুমতি পেয়েছে রাজ্য পরিবহন দফতর। তবে কলকাতায় এই বাস বুধবার থেকে চললেও আপাতত সেটি চালানো হবে শুধুমাত্র শহর ভ্রমণের জন্য।

দু’টি বাসই হুডখোলা বা ছাদ খোলা থাকবে। তবে বর্ষা ও চড়া গরমে ছাদে অস্থায়ী ছাউনির ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা করা হবে নির্মানকারী সংস্থার সাথে৷ নতুন এই বাসটিতে থাকছে একাধিক সুযোগ সুবিধা। যাত্রী সুরক্ষার জন্য বাসের ভেতরে থাকছে আগের চেয়ে বেশি চওড়া সিঁড়ি। বাসের মধ্যে সিসি ক্যমেরা, প্যানিক বাটন, আরামদায়ক সিট সবই থাকছে। সেই সাথে যাতে বাইরের সব কিছু পরিস্কার দেখা যায়, সেকারণে দোতলার চারিদিকে স্বচ্ছ ফাইবার গ্লাস দিয়ে ঘেরা রয়েছে। সব নতুন বাসের হাত ধরে স্বাধীনতার আগের কিংবা ৯০ এর দশকের সেই পুরনো কলকাতার রোমাঞ্চকর স্মৃতি ভ্রমণ পিপাসুদের আবারও ফিরিয়ে দেবে বলেই মনে করছেন রাজ্য পরিবহণ দফতর।