ক্রান্তিকালের মনীষা-৩৫: বেগম রোকেয়া: বিনোদ মন্ডল

64
ক্রান্তিকালের মনীষা-৩৫: বেগম রোকেয়া: বিনোদ মন্ডল 1

নবনূর বেগম রোকেয়া    ক্রান্তিকালের মনীষা-৩৫: বেগম রোকেয়া: বিনোদ মন্ডল 2                                          বিনোদ মন্ডল নবজাগরণের আলোয় ভাস্বর উনিশ শতকের বাংলায় মুসলিম সমাজ ছিল ‘অন্ধকারে ঢাকা অন্ধের দেশ’। আধুনিক শিক্ষা গ্রহণে চুড়ান্ত অনিচ্ছুক, ধর্মান্ধ সমাজকে নাড়া দিতে সেই সময়ে এক অসামান্য নারী ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বেগম রোকেয়া। পুরোনামঃ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (০৯.১২.১৮৮০ – ০৯.১২.১৯৩২)। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক আবুল ফজল সেই ১৯৩২ সালে রকেয়া সম্পর্কে একটি অসাধারণ প্রবন্ধে পূর্বোক্ত উপমা ব্যবহার করেছিলেন এবং উপসংহারে লিখেছিলেন – ‘এই অন্ধের দেশে প্রথম চোখ খুলেছিলেন যিনি – তিনি বেগম রোকেয়া।’

আজকের বাংলাদেশের রংপুর জেলার, মিঠাপুকুর উপজেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে রোকেয়ার জন্ম। বাবা মৌলভী জাহির মোহাম্মদ আবু আলী। মা রাহাতুন্নেসা। বাবা ও মা উভয়ের দিক থেকেই বেগম রোকেয়া ছিলেন উচ্চবংশীয় ও ধনাঢ্য জমিদার বংশ সূত্র। বংশনামা থেকে জানা যাচ্ছে, তার পূর্বসূরিরা ইরানের তাব্রিজ শহর থেকে ভাগ্য সন্ধানে এদেশে আসেন। পরিবারের পুরুষরা সুশিক্ষিত হলেও নারীরা ছিলেন পর্দানাশিন। পরিবারের ব্যবহারিক ভাষা ছিল উর্দু। কোন প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ ছিল না রোকেয়ার।

ক্রান্তিকালের মনীষা-৩৫: বেগম রোকেয়া: বিনোদ মন্ডল 3

বিধবা দিদি করিমুন্নেসা এবং বড় ভাই আসাদ ইব্রাহিম আলী স্বহৃদয় সহযোগিতায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন তিনি। ইব্রাহীম সাহেব তার আদরের ছোট বোন কে উৎসাহ দিয়ে বলতেন – ‘বোন এই ইংরেজি ভাষাটা যদি শিখে নিতে পারিস, তাহলে পৃথিবীর এক রত্নভাণ্ডারের দার তোর কাছে খুলে যাবে’।

১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভাগলপুরের (বিহার) এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিপত্নীক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বেগম রোকেয়ার পরিণয় ঘটে। খান বাহাদুর স্বামীর উৎসাহে ও প্রচেষ্টায় রোকেয়া উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। মাত্র ২৯ বছর বয়সে স্বামীর মৃত্যু হয়। দুটি সন্তান হলেও শৈশবে তারা মারা যায়। বন্ধনহীন গ্রন্থি বেগম রোকেয়া সমাজকর্মী ও সাহিত্য সেবি হিসেবে মেতে ওঠেন। প্রধান অভিমুখ হয় দাঁড়ায় স্বামীর স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল’ পরিচালনা। যার সম্বন্ধে তিনি বলেছেন, ‘বেহেশতের নিমন্ত্রণ পেলেও স্কুল ছেড়ে যেতে পারবো না।’

স্বামীর মৃত্যুর পরে পাকাপাকিভাবে কলকাতায় চলে আসেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ কলকাতার ১৩নং ওয়ালিউল্লাহ লেনের একটি বাড়িতে নবপর্যায়ে আটজন ছাত্রীকে নিয়ে বিদ্যালয় চালু হয়। পরে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে এই স্কুলটি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। তখন ছাত্রী সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে দুই দর্শকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে পরিণত হয় এই স্কুল। কুর আনে ‘ইকবা’ শব্দের ব্যবহার সুবিদিত। এর অর্থ পড়ো বা জ্ঞান অর্জন করো। ইসলামের এই মর্মবাণীকে অবহেলিত মুসলিম নারী সমাজের অবগুন্ঠন ঘোচাতে হাতিয়ার করেছেন বেগম রোকেয়া। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে Bengal women’s education conference বা বঙ্গীয় নারী শিক্ষা সমিতির সম্মেলনে সিকি শতক জুড়ে তিনি যে শিক্ষা বিস্তারের কাজে ব্রতী ছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। বলা ভালো সংগ্রামের ধারাবিবরণী দিয়েছেন। কেননা, রক্ষণশীল সমাজ বরাবর তাঁর এই উদ্যোগের সর্বাত্মক বিরোধিতা করেছিল। তারা লাগাতার এও অপপ্রচার করেছে – ‘যুবতি বিধবার স্কুল স্থাপন করে নিজের রূপ, নিজের যৌবনের বিজ্ঞাপন প্রচার করেছেন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার জন্য জমিদারি থেকে প্রাপ্ত খাজনার এতটা বড় অংশ তিনি ব্যয় করেছেন। কিন্তু স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট অথবা হেডমিস্ট্রেস হিসেবে কোন বেতন নিতেন না তিনি।

বিলেত ফেরত সাখাওয়াতের সাহায্যে সরল অথচ বলিষ্ঠ কষ্ট বলার সাহস পান তিনি। স্বামী সংসর্গে থাকাকালীন তাঁর ৭ টি প্রবন্ধ নিয়ে ১৯০৫ সালে ‘মতিচুর’প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে, বাংলায় আলোড়ন ফেলে। স্বামীর সহযোগিতা ছাড়া সেকালে কোন বিবাহিত নারীর পক্ষে বাংলা ও ইংরেজিতে সাময়িক পত্রের পাতা ভরানো সম্ভব ছিল না। তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন – ‘আমার শ্রদ্ধেয় স্বামী অনুকূল না হইলে আমি কখনো প্রকাশ্যে সংবাদপত্রে লিখিতে সাহসী হইতাম না’। নবপ্রভা, মহিলা, অন্তঃপুর, মাসিক মোহাম্মদী, নবনূর, সত্তগাত, ধুমকেতু, মোয়াজ্জিন, বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা প্রভৃতি সাময়িকপত্রে নিয়মিত লিখেছেন তিনি। শুধু প্রবন্ধ নয়, কবিতা, গল্প, উপন্যাস এমনকি রসরচনায়েও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল – ‘মতিচুর'(১ম ও ২ম), সুলতানাস্ ড্রিম সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ ও অবরোধবাসিনী। মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি সমকালে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেন। তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ গুলি হল, আমাদের অবনতি, সেসেম ফাঁক, চাষার দুক্ষু, এন্ডি শিল্প, বঙ্গীয় নারী শিক্ষা সমিতি, লুকানো রতন, সুগৃহিনী, অর্ধাঙ্গী, ঈদ সম্মেলন, রানী ভিখারিনী নিরীহ বাঙালি ইত্যাদি। এ সবগুলোই পরবর্তীকালে রোকেয়া রচনাবলীতে সংকলিত রয়েছে। তাঁর রচনায় মৌলিকত্ব ও বিষয়ের অভিনবত্ব যথেষ্ট আগ্রহ উদ্বেগকারী। দু একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে।
১) যে শকটের একচক্র বড় (পতি) এবং একচক্র ছোট (পত্নী) হয়, সে শকট অধিক দূরে অগ্রসর হইতে পারে না, সে কেবল একই স্থানে (গৃহকোণেই) ঘুড়িতে থাকে।
২) পুরুষদের অবস্থা আমাদের উন্নতির আদর্শ। একটি পরিবারে পুত্র ও কন্যার যে প্রকার সমকক্ষতা থাকা উচিত, আমরা তাহাই চাই।
৩) আমাদের অতিপ্রিয় অলংকার গুলি – এগুলি দাসত্বের নিদর্শন বিশেষ।
৪) এখন ‘স্বামী’স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ প্রচলিত হইবে।

বেগম রোকেয়ার কাব্যপ্রীতি অনুপম। বিশেষত নিসর্গ বিষয়ক কবিতায় তিনি অতুল দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। পাশাপাশি সমাজমনস্ক নানা বিষয়ে কবিতা লিখেছেন। কিন্তু কবিতায় রঙ্গ-ব্যাঙ্গ এর ব্যবহার রয়েছে। সকল কবিতা গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য – বাসিফুল, শশধর, চাঁদ, নলিনী ও কুমুদ, কাঞ্চনজঙ্ঘা, নিরুপম বীর, আপিল, সত্তগাত, পরীচিবি, তিনকুঁড়ে, পঁয়ত্রিশমণ খানা, বিয়ে পাগলা বুড়ো ইত্যাদি। তাঁর পদ্মরাগ উপন্যাস সমকালীন মুসলিম লেখিকাদের মধ্যে প্রথম প্রয়াস।

ব্যক্তিজীবনে পাঁচ বছর বয়স থেকে তাঁকে পর্দা করতে হতো, এমনকি অন্দরমহলে ও। তাই অবরোধ প্রথার মধ্যে সামাজিক ব্যাধি নিরসনে আজীবন প্রয়াসী ছিলেন তিনি। গবেষকগণ তার জীবনের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার মর্মস্পর্শী বিবরণ দিয়েছেন। তার এক দূরসম্পর্কের আত্মীয় একজন পরিচারিকা সঙ্গে নিয়ে ভাগলপুর থেকে পাটনা যাচ্ছিলেন। কিউল স্টেশনে ট্রেন বদলাতে হয়। কিন্তু বদলাতে গিয়ে বিশাল চেহারার আত্মিয়া বোরখা সহ ট্রেন ও প্লাটফর্মের মধ্যে পড়ে যান। চারিদিকে কুলি ও যাত্রীরা তাকে তুলবার চেষ্টা করলে চাকরানী বলে – বেগম সাহেবার গায়ে হাত দিলে তার আব্রু চলে যাবে। মোটা মহিলার দেহ ক্ষীণাঙ্গী একার পক্ষে টেনে তোলা সম্ভব ছিল না। আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ট্রেন ছেড়ে চলে যায়। পড়ে থাকে বেগম সাহেবার ক্ষতবিক্ষত শরীর। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি তার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থে পুরুষকে পর্দানশীন করে ব্যঙ্গ ও শিক্ষা দুই দিতে চেয়েছেন। হয়তো যুগান্ত প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে কাজ করছে প্রতিশোধ স্পৃহা।

বহু লাকি রচনায় তার স্বাধীনতাকামী রাজনীতি সচেতন মানসিকতা স্পষ্ট। কখনো সেভাবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ না নিয়ে ও কংগ্রেসের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন রোকেয়া। ১৯১৭ সালে সুভাষ কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের মা বি আম্মা এবং অ্যানি বেসান্তের কলকাতা আগমন উপলক্ষে যে স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনীর গঠিত হয় সেই দলে বহু মুসলিম নারী অংশগ্রহণ করেন। এই বাহিনী গঠনে রোকেয়ার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সাম্রাজ্যবাদী শোষণ এদেশের সমৃদ্ধ শিল্পগুলোকে কিভাবে ধ্বংস করছে এবং স্বদেশী আন্দোলন এ দেশের অর্থনীতির উপর কি জাতীয় সদর্থক প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে একাধিক প্রবন্ধের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তাঁর জ্ঞানফল ও মুক্তিফল নামক রচনার দুটি আদর্শ নিদর্শন।

বাংলার নারী মুক্তি আন্দোলনে রোকেয়া উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। বিশেষত মুসলিম নারী সমাজের অগ্রগতি ও বিকাশের লক্ষ্যে তিনি ছিলেন অতন্দ্র যোদ্ধা। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে এই উদ্দেশ্যে গঠন করেন ‘আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম’ নামে একটি মহিলা সমিতি। বহু অর্থবান ও অভিজাত পরিবারের নবাব বেগম গণ সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন। লেডি শামসুল হুদা, লেডি আব্দুর রহিম, লেডি গজনভি, মিসেস এ কে ফজলুল হক, এম. এ. মোনিম, বেগম ফারুকী, ফাতেমা খানম, মিসেস সুফিয়া ব্যক্তিত্ব এই সমিতির কর্মী ও কর্মকর্তী ছিলেন। ১৯১৮ সালের ৭ই জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে ৬০ জন মহিলা প্রতিনিধিত্ব করেন। এই সমিতি কলকাতা ও তার লাগোয়া এলাকার বস্তিগুলোতে সমিতির কেন্দ্র স্থাপন করে মেয়েদের জন্য সেলাই, শিশুপালন, স্বাস্থ্যবিধি, ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচি রুপায়ন করত। স্বদেশী ও খিলাফত আন্দোলনের সময় সমিতির সম্পাদক বেগম রোকেয়া নেতৃত্বে সদস্যগণ মুসলিম মহিলাদের মধ্যে স্বদেশী ভাবধারা প্রচার করেন। সমিতির কেন্দ্রগুলোতে চরকায় সুতো তৈরি করা এবং খদ্দর বানানো ও বিদেশি দ্রব্য বয়কটের কর্মসূচিও পালিত হয়।

বাংলার অবহেলিত মুসলিম নারী সমাজের জাগরণের জন্য তিনি তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক ও এবং আফগানিস্তানের বাদশাহো আমানুল্লাহ-এর আদর্শকে পাথেয় করেন। এছাড়া তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও নবজাগৃতির ইতিহাসে হালিদা এবিদ হানুমের নাম স্মরণীয়। তিনিও এবিদের মত লেখিকা, বক্তা, শিক্ষা প্রসারক এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে আমৃত্যু কাজ করেছেন। কলকাতায় বাংলা নারী শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে (১৯২৬) সভাপতিত্ব করেন তিনি। এছাড়া ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে বাংলা ভাষা ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

দেরিতে হলেও রোকেয়ার অবদান আজ উভয় বাংলায় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকৃত হয়েছে। ১৯৮০ সালে তার জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সরকারের ডাক বিভাগে ২ ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। ২০০৯ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তিত করে হাসিনা সরকার ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় নামঅঙ্কন করেছেন। সরকারের শিশু ও মহিলা মন্ত্র পায়রাবন্দ গ্রামে পৈত্রিক ভিটেকে অধিগ্রহণ স্কোরে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এখানে ডরমেটরি, অফিস, লাইব্রেরী, গবেষণাগার, অতিথিশালা সংযোজিত হয়েছে। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে ষষ্ঠ স্থান দখল করেছেন বেগম রোকিয়া সাখাওয়াত হোসেন।

এপার বাংলায় কলকাতাস্থিত স্বহস্তে গঠিত বালিকা বিদ্যালয় ছাড়া তাঁর কোনো উল্লেখযোগ্য স্মারক তেমন নেই। বাঙালির সহজাত উদাসীনতায় উত্তর কলকাতার সোদপুরে শেষ শয্যায় শায়িত আছেন তিনি। সাম্প্রতিক অতীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঐতিহাসিক ডঃ অমলেন্দু দে তার কবর আবিষ্কার করে আমাদের গ্লানি অনেকখানি ঘুচিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে এ বাংলার পাঠ্যবই ছাড়াও পানিহাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে চির জাগরুক তিনি। শুয়ে নয়, জেগে আছেন, জাতিকে জাগিয়ে রাখার তাগিদে।

নবনূর বেগম রোকেয়া

 

নবজাগরণের আলোয় ভাস্বর উনিশ শতকের বাংলায় মুসলিম সমাজ ছিল ‘অন্ধকারে ঢাকা অন্ধের দেশ’। আধুনিক শিক্ষা গ্রহণে চূড়ান্ত অনিচ্ছুক, ধর্মান্ধ সমাজকে নাড়া দিতে সেই সময়ে এক অসামান্য নারী ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বেগম রোকেয়া। পুরোনাম — রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (০৯.১২.১৮৮০ – ০৯.১২.১৯৩২)।

বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক আবুল ফজল সেই ১৯৩২ সালে রোকেয়া সম্পর্কে একটি অসাধারণ প্রবন্ধে পূর্বোক্ত উপমা ব্যবহার করেছিলেন এবং উপসংহারে লিখেছিলেন – ‘এই অন্ধের দেশে প্রথম চোখ খুলেছিলেন যিনি – তিনি বেগম রোকেয়া।’

আজকের বাংলাদেশের রংপুর জেলার, মিঠাপুকুর উপজেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে রোকেয়ার জন্ম। বাবা মৌলভী জাহির মোহাম্মদ আবু আলী। মা রাহাতুন্নেসা। বাবা ও মা উভয়ের দিক থেকেই বেগম রোকেয়া ছিলেন উচ্চবংশীয় ও ধনাঢ্য জমিদার বংশোদ্ভূত। বংশনামা থেকে জানা যাচ্ছে, তাঁর পূর্বসূরিরা ইরানের তাব্রিজ শহর থেকে ভাগ্য সন্ধানে এদেশে আসেন। পরিবারের পুরুষরা সুশিক্ষিত হলেও নারীরা ছিলেন পর্দানশীন। পরিবারের ব্যবহারিক ভাষা ছিল উর্দু। কোনো প্রথাগত শিক্ষার সুযোগ ছিল না রোকেয়ার।

বিধবা দিদি করিমুন্নেসা এবং বড় ভাই আসাদ ইব্রাহিম আলীর সহৃদয় সহযোগিতায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন তিনি। ইব্রাহিম সাহেব তাঁর আদরের ছোট বোনকে উৎসাহ দিয়ে বলতেন – ‘বোন, এই ইংরেজি ভাষাটা যদি শিখে নিতে পারিস, তাহলে পৃথিবীর এক রত্নভাণ্ডারের দ্বার তোর কাছে খুলে যাবে’।

১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ভাগলপুরের (বিহার) এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিপত্নীক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বেগম রোকেয়ার পরিণয় ঘটে। খান বাহাদুর স্বামীর উৎসাহে ও প্রচেষ্টায় রোকেয়া উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। মাত্র ২৯ বছর বয়সে স্বামীর মৃত্যু হয়। দুটি সন্তান হলেও শৈশবে তারা মারা যায়। বন্ধনহীন গ্রন্থি বেগম রোকেয়া সমাজকর্মী ও সাহিত্যসেবী হিসেবে মেতে ওঠেন। প্রধান অভিমুখ হয়ে দাঁড়ায় স্বামীর স্মৃতিতে প্রতিষ্ঠা ‘সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল’ পরিচালনা। যার সম্বন্ধে তিনি বলেছেন, ‘বেহেশতের নিমন্ত্রণ পেলেও স্কুল ছেড়ে যেতে পারবো না।’

স্বামীর মৃত্যুর পরে পাকাপাকিভাবে কলকাতায় চলে আসেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ১৬ মার্চ কলকাতার ১৩নং ওয়ালিউল্লাহ লেনের একটি বাড়িতে নবপর্যায়ে আটজন ছাত্রীকে নিয়ে বিদ্যালয় চালু হয়। পরে ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে এই স্কুলটি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। তখন ছাত্রী সংখ্যা বেড়ে ৮৪ জন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে দুই দশকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে উচ্চ ইংরেজি বালিকা বিদ্যালয়ে পরিণত হয় এই স্কুল। কুর আনে ‘ইকবা’ শব্দের ব্যবহার সুবিদিত। এর অর্থ পড়ো বা জ্ঞান অর্জন করো। ইসলামের এই মর্মবাণীকে অবহেলিত মুসলিম নারী সমাজের অবগুন্ঠন ঘোচাতে হাতিয়ার করেছেন বেগম রোকেয়া। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে Bengal women’s education conference বা বঙ্গীয় নারী শিক্ষা সমিতির সম্মেলনে সিকি শতক জুড়ে তিনি যে শিক্ষা বিস্তারের কাজে ব্রতী ছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। বলা ভালো সংগ্রামের ধারাবিবরণী দিয়েছেন। কেননা, রক্ষণশীল সমাজ বরাবর তাঁর এই উদ্যোগের সর্বাত্মক বিরোধিতা করেছিল। তারা লাগাতার এও অপপ্রচার করেছে – ‘যুবতি বিধবা স্কুল স্থাপন করে নিজের রূপ, নিজের যৌবনের বিজ্ঞাপন প্রচার করেছেন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার জন্য জমিদারি থেকে প্রাপ্ত খাজনার একটা বড় অংশ তিনি ব্যয় করেছেন। কিন্তু স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট অথবা হেডমিস্ট্রেস হিসেবে কোনও বেতন নিতেন না তিনি।

বিলেত ফেরত সাখাওয়াতের সাহায্যে সরল অথচ বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলার সাহস পান তিনি। স্বামী সংসর্গে থাকাকালীন তাঁর ৭ টি প্রবন্ধ নিয়ে ১৯০৫ সালে ‘মতিচুর’প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়ে, বাংলায় আলোড়ন ফেলে। স্বামীর সহযোগিতা ছাড়া সেকালে কোনও বিবাহিত নারীর পক্ষে বাংলা ও ইংরেজিতে সাময়িক পত্রের পাতা ভরানো সম্ভব ছিল না। তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন – ‘আমার শ্রদ্ধেয় স্বামী অনুকূল না হইলে আমি কখনো প্রকাশ্যে সংবাদপত্রে লিখিতে সাহসী হইতাম না’। নবপ্রভা, মহিলা, অন্তঃপুর, মাসিক মোহাম্মদী, নবনূর, সওগাত, ধূমকেতু, মোয়াজ্জিন, বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকা প্রভৃতি সাময়িকপত্রে নিয়মিত লিখেছেন তিনি। শুধু প্রবন্ধ নয়, কবিতা, গল্প, উপন্যাস এমনকি রসরচনায়ও তিনি সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল – ‘মতিচুর'(১ম ও ২ম), সুলতানাস্ ড্রিম বা সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ ও অবরোধবাসিনী। মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি সমকালে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেন। তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ গুলি হল, আমাদের অবনতি, সেসেম ফাঁক, চাষার দুক্ষু, এন্ডি শিল্প, বঙ্গীয় নারী শিক্ষা সমিতি, লুকানো রতন, সুগৃহিনী, অর্ধাঙ্গী, ঈদ সম্মেলন, রানী ভিখারিনী, নিরীহ বাঙালি ইত্যাদি। এ সবগুলোই পরবর্তীকালে রোকেয়া রচনাবলীতে সংকলিত রয়েছে। তাঁর রচনায় মৌলিকত্ব ও বিষয়ের অভিনবত্ব যথেষ্ট আগ্রহ উদ্রেককারী। দু একটি দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে।
১) যে শকটের একচক্র বড় (পতি) এবং একচক্র ছোট (পত্নী) হয়, সে শকট অধিক দূরে অগ্রসর হইতে পারে না, সে কেবল একই স্থানে (গৃহকোণেই) ঘুরিতে থাকে।
২) পুরুষদের অবস্থা আমাদের উন্নতির আদর্শ। একটি পরিবারে পুত্র ও কন্যার যে প্রকার সমকক্ষতা থাকা উচিত, আমরা তাহাই চাই।
৩) আমাদের অতিপ্রিয় অলংকার গুলি – এগুলি দাসত্বের নিদর্শন বিশেষ।
৪) এখন ‘স্বামী’স্থলে ‘অর্ধাঙ্গ’ প্রচলিত হইবে।

বেগম রোকেয়ার কাব্যপ্রীতি অনুপম। বিশেষত নিসর্গ বিষয়ক কবিতায় তিনি অতুল দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। পাশাপাশি সমাজমনস্ক নানা বিষয়ে কবিতা লিখেছেন। কিন্তু কবিতায় রঙ্গ-ব্যঙ্গ এর ব্যবহার রয়েছে। সফল কবিতা গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য – বাসিফুল, শশধর, চাঁদ, নলিনী ও কুমুদ, কাঞ্চনজঙ্ঘা, নিরুপম বীর, আপিল, সওগাত, পরীঢিবি, তিনকুঁড়ে, পঁয়ত্রিশমণ খানা, বিয়ে পাগলা বুড়ো ইত্যাদি। তাঁর পদ্মরাগ উপন্যাস সমকালীন মুসলিম লেখিকাদের মধ্যে প্রথম প্রয়াস।

ব্যক্তিজীবনে পাঁচ বছর বয়স থেকে তাঁকে পর্দা করতে হতো, এমনকি অন্দরমহলেও । তাই অবরোধ প্রথার মতো সামাজিক ব্যাধি নিরসনে আজীবন প্রয়াসী ছিলেন তিনি। গবেষকগণ তাঁর জীবনের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতার মর্মস্পর্শী বিবরণ দিয়েছেন। তাঁর এক দূরসম্পর্কের আত্মীয় একজন পরিচারিকা সঙ্গে নিয়ে ভাগলপুর থেকে পাটনা যাচ্ছিলেন। কিউল স্টেশনে ট্রেন বদলাতে হয়। কিন্তু বদলাতে গিয়ে বিশাল চেহারার আত্মীয়া বোরখা সহ ট্রেন ও প্লাটফর্মের মধ্যে পড়ে যান। চারিদিকে কুলি ও যাত্রীরা তাকে তুলবার চেষ্টা করলে চাকরানী বলে – বেগম সাহেবার গায়ে হাত দিলে তার আব্রু চলে যাবে। মোটা মহিলার দেহ ক্ষীণাঙ্গি একার পক্ষে টেনে তোলা সম্ভব ছিল না। আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ট্রেন ছেড়ে চলে যায়। পড়ে থাকে বেগম সাহেবার ক্ষতবিক্ষত শরীর। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি তাঁর ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থে পুরুষকে পর্দানশীন করে ব্যঙ্গ ও শিক্ষা দুই দিতে চেয়েছেন। হয়তো যুগান্ত প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে কাজ করছে প্রতিশোধ স্পৃহা।

বহু রচনায় তাঁর স্বাধীনতাকামী রাজনীতি সচেতন মানসিকতা স্পষ্ট। কখনো সেভাবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশ না নিয়েও কংগ্রেসের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন রোকেয়া। ১৯১৭ সালে কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে আলী ভ্রাতৃদ্বয়ের মা বি আম্মা এবং অ্যানি বেসান্তের কলকাতা আগমন উপলক্ষে যে স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনী গঠিত হয় সেই দলে বহু মুসলিম নারী অংশগ্রহণ করেন। এই বাহিনী গঠনে রোকেয়ার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সাম্রাজ্যবাদী শোষণ এদেশের সমৃদ্ধ শিল্পগুলোকে কীভাবে ধ্বংস করছে এবং স্বদেশী আন্দোলন এ দেশের অর্থনীতির উপর কী জাতীয় সদর্থক প্রভাব ফেলছে তা নিয়ে একাধিক প্রবন্ধে সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তাঁর জ্ঞানফল ও মুক্তিফল নামক রচনাদুটি আদর্শ নিদর্শন।

বাংলার নারী মুক্তি আন্দোলনে রোকেয়া উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। বিশেষত মুসলিম নারী সমাজের অগ্রগতি ও বিকাশের লক্ষ্যে তিনি ছিলেন অতন্দ্র যোদ্ধা। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে এই উদ্দেশ্যে গঠন করেন ‘আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম’ নামে একটি মহিলা সমিতি। বহু অর্থবান ও অভিজাত পরিবারের নবাব বেগমগণ সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন। লেডি শামসুল হুদা, লেডি আব্দুর রহিম, লেডি গজনভি, মিসেস এ কে ফজলুল হক, এম. এ. মোনিম, বেগম ফারুকী, ফাতেমা খানম, মিসেস সুফিয়া প্রমুখ ব্যক্তিত্ব এই সমিতির কর্মী ও সংগঠিকা ছিলেন। ১৯১৮ সালের ৭ জুন অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে ৬০ জন মহিলা প্রতিনিধিত্ব করেন। এই সমিতি কলকাতা ও তার লাগোয়া এলাকার বস্তিগুলোতে সমিতির কেন্দ্র স্থাপন করে মেয়েদের জন্য সেলাই, শিশুপালন, স্বাস্থ্যবিধি, ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান প্রভৃতি কর্মসূচি রূপায়ণ করত। স্বদেশী ও খিলাফত আন্দোলনের সময় সমিতির সম্পাদক বেগম রোকেয়ার নেতৃত্বে সদস্যগণ মুসলিম মহিলাদের মধ্যে স্বদেশী ভাবধারা প্রচার করেন। সমিতির কেন্দ্রগুলোতে চরকায় সুতো তৈরি করা এবং খদ্দর বানানো ও বিদেশি দ্রব্য বয়কটের কর্মসূচিও পালিত হয়।

বাংলার অবহেলিত মুসলিম নারী সমাজের জাগরণের জন্য তিনি তুরস্কের কামাল আতাতুর্ক এবং আফগানিস্তানের বাদশাহ আমানুল্লাহ-এর আদর্শকে পাথেয় করেন। এছাড়া তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও নবজাগৃতির ইতিহাসে হালিদা এবিদ হানুমের নাম স্মরণীয়। তিনিও এবিদের মত লেখিকা, বক্তা, শিক্ষা প্রসারিকা এবং সমাজ সংস্কারক হিসেবে আমৃত্যু কাজ করেছেন। কলকাতায় বাংলার নারী শিক্ষা বিষয়ক সম্মেলনে (১৯২৬) সভাপতিত্ব করেন তিনি। এছাড়া ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে বাংলা ভাষা ব্যবহারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

দেরিতে হলেও রোকেয়ার অবদান আজ উভয় বাংলায় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বীকৃত হয়েছে। ১৯৮০ সালে তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশ সরকারের ডাক বিভাগ ২টি ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। ২০০৯ সালে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তিত করে হাসিনা সরকার ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামঅঙ্কন করেছেন। সরকারের শিশু ও মহিলা মন্ত্রক পায়রাবন্দ গ্রামে পৈত্রিক ভিটেকে অধিগ্রহণ করে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র স্থাপন করেছে। এখানে ডরমেটরি, অফিস, লাইব্রেরী, গবেষণাগার, অতিথিশালা সংযোজিত হয়েছে। ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে ষষ্ঠ স্থান দখল করেছেন বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

এপার বাংলায় কলকাতাস্থিত স্বহস্তে গঠিত বালিকা বিদ্যালয় ছাড়া তাঁর কোনো উল্লেখযোগ্য স্মারক তেমন নেই। বাঙালির সহজাত উদাসীনতায় উত্তর কলকাতার সোদপুরে শেষ শয্যায় শায়িত আছেন তিনি। সাম্প্রতিক অতীতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঐতিহাসিক ডঃ অমলেন্দু দে তাঁর কবর আবিষ্কার করে আমাদের গ্লানি অনেকখানি ঘুচিয়েছেন। দেখা যাচ্ছে এ বাংলার পাঠ্যবই ছাড়াও পানিহাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে চির জাগরুক তিনি। শুয়ে নয়, জেগে আছেন, বিশ্বজোড়া জাতিকে জাগিয়ে রাখার তাগিদে