Homeএখন খবরকুরবান শা খুনে অভিযুক্ত শীতল মান্না কার আশ্রয়ে ? প্রশ্ন পাঁশকুড়ার মাইসোরা...

কুরবান শা খুনে অভিযুক্ত শীতল মান্না কার আশ্রয়ে ? প্রশ্ন পাঁশকুড়ার মাইসোরা গ্রামের ঘরে ঘরে

সস্ত্রীক কুরবান 

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রায় চার মাস অতিক্রান্ত, এখনও ধরা পড়েনি জাঁদরেল তৃনমূল নেতা শীতল মান্না। গত দুর্গাপুজার এক রাতে নিজের দলীয় কার্যালয়ে খুন হয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা জেলার যুব তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি, জনপ্রিয় তরুন নেতা কুরবান শা। আর তারপরই রাতারাতি গায়েব হয়ে যায় শীতল। যদিও তদন্ত শুরুর আগেই মন্ত্রী মুখ নিঃসৃত বাণীতে এই খুনে প্রধান অভিযুক্ত হয়ে যায় পাঁশকুড়ার বিজেপি নেতা আনিসুর রহমান। আনিসুর আবার এই জেলারই প্রাক্তন তৃণমূল যুব সভাপতি ছিলেন, দলত্যাগের পর প্রবল প্রতাপক্রমে পাঁশকুড়ায় তৃণমূলের নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছেন এমন কি জেলে থেকেও।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
কুরবানকে নৃশংসভাবে খুনের দশ মিনিটও যায়নি, কুরবানের দাদা এই খুনে সিআইডি তদন্ত দাবি করে বসেন। তিনি বলেন, ”স্থানীয় পুলিশ এই মামলার তদন্ত করতে পারবেনা কিংবা করবেনা। পুলিশের ওপর আমাদের ভরসা নেই। আমরা সিআইডি তদন্ত চাই।” প্রায় ৩৬ঘন্টা বাদে প্রাথমিক শোক কাটিয়ে উঠে কুরবানের তরুনী স্ত্রী তথা মাইসোরা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পুলিশের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ”পুলিশ এখনও দোষিদের গ্রেপ্তার করে উঠতে পারেনি। আমি জানি এই খুনের পেছনে আমার স্বামীর পরিচিত লোকেরাই রয়েছে। যাঁরা সেদিন আমার স্বামীর সাথে ছিল, আমাদের দলের সেই সব কর্মীদের কেউ কেউ এই খুনের সংগে জড়িত।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
যদিও ততক্ষনে আনিসুরই নির্দিষ্ট হয়ে গেছে মূল অভিযুক্ত হিসাবে। কারন দলে থাকার সময় দুজনের মধ্যে বিরোধ ছিল, যেমনটা তৃণমূলে থাকে।  এরপর অত্যন্ত তৎপরতার সাথে আনিসুর গ্রেপ্তার হয়। আনিসুরের জামিনের আবেদন খারিজ হয়, ঘটনার চারমাস পরে গত বুধবারও জামিন খারিজ হয়ে গেছে আনিসুরের।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এসব নিয়ে কিছুই বলার নেই, পুলিশ নিজের মত তদন্ত করছে, বিচার প্রক্রিয়া চলছে। এতবড় ঘটনার যত তাড়াতাড়ি কিনারা হয় ততই মঙ্গল কারন বিচার প্রলম্বিত হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। শেষ বার আনিসুরের জামিন বাতিল হওয়ার সময় আরও একটি বিষয় হঠাৎ মানু্ষের নজরে আসে তা’হল সেই শীতল মান্নার স্ত্রী কাকলি মান্না যিনি ওই মাইসোরা গ্রামপঞ্চায়েতেরই সদস্য হটাৎ করেই পদত্যাগ করতে চান এবং বৃহস্পতিবার সেই পদত্যাগ গৃহীত হয়েও যায়।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনান্তিকে খবর যে, যে গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামীকে খুনে তাঁর স্বামী অভিযুক্ত তাঁর সংগে কাজ করতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন কাকলি। ইতিমধ্যে প্রায় চুপি সারে শীতল মান্নার বিরুদ্ধে মামলা এগিয়ে নিয়ে গেছে। আনিসুরের মত এ মামলাকে ঢাক বাজিয়ে প্রচার করা হয়নি। পুলিশ নাকি তাকে ‘প্রচুর’ খুঁজেছে এবং খুঁজে খুঁজে হন্যে হওয়ার পরে তাকে না পাওয়ায় তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আবেদন জানিয়েছে আদালতে। সে আবেদন মঞ্জুরও হয়ে গেছে এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও হয়ে গেছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
প্রশ্ন হচ্ছে শীতল মান্না কি তবে বিদেশে পালিয়ে গেল? সে কোথায় যে পুলিশ তার খোঁজই পাচ্ছেনা? পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দক্ষতা এতটাই জোরালো যে দেশের যে প্রান্তেই অপরাধী লুকিয়ে থাকুক না কেন তাকে ধরে আনে। অতীতে এর ভুরি ভুরি উদাহরন রয়েছে। তাহলে শীতল কোথায় গায়েব হয়ে গেল? নাকি ধরা হচ্ছেনা শীতলকে? নিহত কুরবানের দাদা ও স্ত্রী কি এই শীতলের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন। শীতলের গ্রেপ্তার কি আনিসুরের জামিনের পথ খুলে দেওয়ার পাশাপাশি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেবে? কাকলি পদত্যাগ করার পর কি তাঁর স্বামীর কাছে চলে যাবেন, যেখানে শীতল এতটাই পরমাশ্রয়ে রয়েছে যে পুলিশ তাকে খুঁজেই পায়না! মাইসোরা তথা পাঁশকুড়ার ঘরে ঘরে এখন এটাই আলোচ্য হয়ে উঠেছে। এমনকি নিহত কুরবানের ঘরেও।  

RELATED ARTICLES

Most Popular