ছত্রধরের গড়ে পুলিশের লাঠি খেয়েও লালপতাকা হাতে সবার আগে টুকা চালক, পতাকা ফেরৎ দিয়ে ফিরল পুলিশ

1754
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাস্তায় ইটের ঠেকনা দিয়ে রাখা লালপতাকাটাকে তুলে ফেলে দিতে গিয়ে পুলিশের দলটা টের পেল যে মাওবাদীরা সব সিপিএমকে খুন করে শেষ করে দিতে পারেনি? কেন পতাকায় লাথি মারলি বলে পুলিশ অফিসারকে ঘিরে ধরল বনধ সফল করতে রাস্তায় নামা দলটি। যে সে জায়গা নয়, জায়গাটার নাম লালগড়। ছত্রধর মাহাতের জনসাধারনের কমিটিকে সামনে রেখে যে লালগড়ের দখল নিয়েছিল মাওবাদীরা তারপর তৃণমূলের হাতে তুলে দিয়ে এখন পুরো জনসাধারণের কমিটিই তৃণমূল হয়ে বসে আছে। যেমনটা হালে ছত্রধর মাহাত হয়েছেন।

Advertisement

জায়গাটার নাম বালিশিরা। মেদিনীপুর ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে মেদিনীপুরের দিক থেকে ঝাড়গ্রাম যাওয়ার পথে ধেড়ুয়া পেরিয়ে কাঁসাইনদীর ওপর কামাখ্যা ঘোষ সেতু। সেই সেতু পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার দুরে বৈতা নামের জনপদ। সেই বৈতার আরও একটু আগে ডানহাতি নদীর কোলে গ্রামের নাম বালিশিরা। লালগড়ের অধীন এই জনপদেই তাঁদের লালপাতাকা পুলিশ হাত দিয়ে তুলে ফেলেছে এই অভিযোগে প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল জনা ১৫ মহিলা পুরুষের দলটি। অভিযোগ সেই সময় পুলিশ লাঠি চালিয়েছে। পুলিশের সেই লাঠি নাকি সরাসরি কপালে লেগেছে টুলা চালকের, হাতে লেগেছে মুনমুন চালকের। আরও অনেকেই খেয়েছেন লাঠি আর সেই খবর পেয়ে ছুটে এসেছে গোটা গ্রাম।

Advertisement
Advertisement

পুলিশের যেমন হাতে লাঠি তেমনই গ্রাম থেকে ছুটে আসা নারী পুরুষের হাতেও বাঁশের লাঠি, কাঠের মুগুর। একদল মানুষতো মারের বদলে পাল্টা মার চায়। প্রথমে পুলিশ ঠাওর করতে পারেনি জনতার এই রুদ্ররূপ। পিলপিল করে ছুটে আসা জনতার সঙ্গে সংঘর্ষ হয় হয় অবস্থা। মস্ত টাক ওয়ালা ফর্সা আধিকারিকটি খুবই হম্বিতম্বি করছিলেন বটে। তার বিরুদ্ধেই লাল পতাকাকে অবমাননা করার অভিযোগ। যদিও পুলিশ সেই অভিযোগ খন্ডন করেছে। পুলিশের দাবি তাঁরা রাস্তা অবরোধ করতে বারণ করেছিল আর সেই থেকে গন্ডগোলের সূত্রপাত। জনতার দাবি ক্ষমা চাইতে হবে পুলিশকে। ক্রমশ জনতার চাপে পিছু হটতে থাকে পুলিশ। জনতার লক্ষ্য সেই আধিকারিক।

জনতার রুদ্ররূপ থেকে আধিকারিকটিকে বাঁচানোর জন্য একদল সশস্ত্র পুলিশ তাঁকে কর্ডন করে সরিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। অন্যদল জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। জনতাও চলতে থাকে পুলিশের সাথে সাথে। জনতার আরও দাবি পুলিশ কর্মীদের কয়েকজন মদ্যপ অবস্থায় রয়েছেন, তাঁদের ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে। পুলিশের হাতে তখনও পতাকা। অবশেষে পতাকা ফেরৎ দিয়ে ক্ষমা চেয়ে প্রায় আধঘণ্টার টানাপোড়েনের সমাপ্তি। গলদঘর্ম অফিসার দল নিয়ে সরে পড়লেন। পতাকা ফের পোঁতা রইল রাস্তার ওপর। দেখার এই যে পুলিশের মার খেয়েও গোটা লড়াইটার সামনে থেকে গেলেন টুলা আর মুনমুন চালকের মত বাসন্তী বেসরা,লক্ষী টুডুরা। পুলিশের পক্ষ থেকে আহত মহিলাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল নিয়ে যেতে চাইলে জনতা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

কিন্তু কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে মানুষের এই ক্ষোভ এই অজ পাড়া গাঁয়ে এতটা জোরদার কেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেল শুধুই কেন্দ্রীয় নীতি নয়, রাজ্যসরকার, পুলিশের বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ এলাকায়। আর সেই ক্ষোভের অন্যতম কারন বালি মাফিয়াদের রাজ। এলাকার মানুষরা জানিয়েছেন, নদী গর্ভ থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনে জড়িত এলাকার শাসকদলের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে একাংশ মাফিয়া যার অধিকাংশই নাকি প্রাক্তন জনসাধারণের কমিটিরই লোক। তাদের বিরুদ্ধেই তীব্র ঘৃনা এখন এলাকায়।

মানুষের অভিযোগ পুলিশের মদতেই চলছে এই কারবার। এমনিতেই জঙ্গলমহলে হালে পানি পাচ্ছেনা তৃণমূল তাই শেষবেলায় ব্যাটিংয়ের জন্য ছত্রধর মাহাতকে আনা কিন্তু সে ইচ্ছা যে পুরন হওয়ার নয় তা বৃহস্পতিবার বুঝিয়ে দিয়েছে লালগড়। ১১৯ জন সিপিএম নেতাকর্মী খুন হয়েছেন এই লালগড়েই কিন্তু তাতে লালপতাকা যে তাঁরা ছাড়েননি তা বুঝিয়ে দিলেন একশ টুলা চালক।