আত্মহত্যার লাইভ দেখেই লালবাজারে খবর পাঠালো ফেসবুক, বাঁচলেন গুয়াহাটির মহিলা

192
আত্মহত্যার লাইভ দেখেই লালবাজারে খবর পাঠালো ফেসবুক, বাঁচলেন গুয়াহাটির মহিলা 1
আত্মহত্যার লাইভ দেখেই লালবাজারে খবর পাঠালো ফেসবুক, বাঁচলেন গুয়াহাটির মহিলা 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এক মহিলা আর পুরোটাই ফেসবুকে লাইভ টেলিকাস্ট করছেন। সেই টেলিকাস্টে দেখা যাচ্ছে ওই মহিলা একটা টুলের উপরে উঠে শাড়ির অন্য প্রান্ত ঝুলিয়ে দিচ্ছেন মাথার উপরের সিলিং ফ্যানে। টেনেটুনে দেখে নিচ্ছেন কতটা মজবুত হয়েছে সেই ফাঁস। বিষয়টা দেখেই চমকে উঠেছে ফেসবুক মনিটরিং সেল আর সাথে সাথেই এ্যালার্ট করলেন লালবাজার গোয়েন্দা সদর দপ্তরে।

আত্মহত্যার লাইভ দেখেই লালবাজারে খবর পাঠালো ফেসবুক, বাঁচলেন গুয়াহাটির মহিলা 3

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি দেখলেন গোয়েন্দারাও কিন্তু মহিলা তো কলকাতা বা বাংলার নয়! এ যে হাজার কিলোমিটার দুরে অসমের গুয়াহাটির। এরপরই লালবাজার থেকে ফোন ছুটল গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের কাছে। লোকেশন ট্র্যাক করে গুয়াহাটি পুলিশ উদ্ধার করল সেই মহিলাকে। তখন পায়ের নিচ থেকে টুল সরিয়ে ঝুলে পড়েছেন মহিলা। মাত্র ৩০সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে গেলেন মহিলা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
মঙ্গলবার রাত সাড়ে বারোটা থেকে একটা পর্যন্ত এ রকমই সিনেমার দৃশ্যের স্বাক্ষী রইল গুয়াহাটি পুলিশ আর লালবাজার গোয়েন্দা বিভাগ। অসম পুলিশ স্বীকার করে নিল কলকাতা পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখার আধিকারিকদের তৎপরতায় সম্ভব হল এই অবিশ্বাস্য জীবন বাঁচানোর ঘটনা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
কলকাতার লালবাজারের গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে তরফে একটি ই-মেল পান কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা। সেই মেলে জানানো হয়, কয়েক মিনিট আগে এক মহিলা তাঁর প্রোফাইল থেকে লাইভ করছে যা দেখে তাঁদের মনে হয়েছে কোনও অঘটন ঘটতে চলে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষর ওই মেল পাওয়ার পরেই তৎপর হয়ে উঠে লালবাজার।কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিক বুধবার বলেন,‘‘আমরা ফেসবুকের দেওয়া তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখি ওই প্রোফাইলটি এ রাজ্যের কারও নয়। প্রোফাইলের মালিক গুয়াহাটির এক বাসিন্দা এবং ইন্টারনেট প্রোটোকল অ্যাড্রেস (আইপি)-এর সূত্র ধরে জানা যায়, মহিলা ওই সময় গুয়াহাটিতেই রয়েছেন।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
এরপরই লালবাজার মহিলার খুঁটিনাটি তথ্য জানিয়ে যোগাযোগ করে গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে। কলকাতা পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায় যে, ওই মহিলা গুয়াহাটির ক্যাপিটাল কমপ্লেক্স নামে একটি অভিজাত আবাসনের বাসিন্দা। জায়গাটি গুয়াহাটি কমিশনারেটের চ্যাঙসারি থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত। কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যসূত্র ধরে কয়েক মিনিটের মধ্যে ওই মহিলার ফ্ল্যাটে হাজির হয় চ্যাঙসারি থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, ওই সময় মহিলা একাই ছিলেন বাড়িতে। তাঁকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।জানা গিয়েছে মহিলা বেশ কয়েকমাস ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন।