করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির না সামলে সমালোচনার ট্যুইট মোছায় ব্যস্ত মোদি সরকার! ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে জানালো দ্য ল্যানসেট

103
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: এ যেন রোমের সম্রাট নিরোর সঙ্গে তুলনা নরেন্দ্র মোদির! কথিত আছে রোম যখন জ্বলছিল নিরো তখন বেহালা বাজাচ্ছিলেন। এর এখানে এইসময়ে? বলা হচ্ছে দেশ যখন করোনায় ভয়াবহ আক্রান্ত তখন সোশ্যাল মিডিয়াতে থেকে নিজের সমালোচনা মুছে ফেলতে ব্যস্ত মোদির সরকার। এমনটাই দাবি করেছে বিশ্বখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল, দ্য ল্যানসেট।

Advertisement

নিজের ইমেজ বিল্ডিংয়ের জন্য দেশের নাগরিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে বিদেশে ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন দিল্লির উপ মুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া। কার্যত সেই ঘটনারই সমর্থন মিলল বিশ্ব বিখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল ‘দ্য ল্যানসেট’ থেকেও। যেখানে বলা হয়েছে দেশ জুড়ে যখন করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তখন তা সামাল না দিয়ে মোদি সরকার ব্যস্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় করোনা নিয়ে নিজের সমালোচনা মুছতে। সরকারের এই ভূমিকাকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে ওই পত্রিকার সম্পাদকীয়তে।

Advertisement
Advertisement

বর্তমানে ভারতের করোনা-পরিস্থিতি যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। আর এই প্রেক্ষাপটে বারবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে আলোড়ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স কিংবা আমেরিকার বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ভারতে করোনা-সর্বনাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দায়ী করে আগেই সরব হয়েছে। এবার মোদির চরম সমালোচনা করা হল প্রখ্যাত মেডিক্যাল জার্নাল দ্য ল্যানসেটের সম্পাদকীয়তে।

সম্পাদকীয়’র প্রথম অনুচ্ছেদেই ল্যানসেট লিখেছে, ‘ভারতে ভয়ঙ্কর করোনা-আবহেও সংক্রমণ ঠেকানোর থেকে সমালোচনার ট্যুইট মুছতে বেশি আগ্রহ ছিল মোদি সরকারের।’ আর দেশের এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকারের ভূমিকা ও দেশবাসীর প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের এই মনোভাব ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করা হয়েছে সম্পাদকীয়তে। আর বিদেশের বিভিন্ন নামীদামী পত্রপত্রিকার পর এবার ল্যানসেটের সম্পাদকীয়তেও মোদির চূড়ান্ত সমালোচনা হওয়ায় ওয়াকিবহল মহল বলছে, স্বাধীনতা-উত্তর পর্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এভাবে আর কখনও ভারতকে অপমানিত হতে হয়নি।

উল্লেখ্য করোনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাতে কিছু লেখা না হয় বা হলেও যেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। যোগীর সরকার জানিয়েছিল, তারা আসলে চাইছিল গুজব, হিংসা ইত্যাদি রুখতে। সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, রাজ্যের অক্সিজেন ব্যবস্থা নিয়ে যদি কেউ লেখালেখি করে তবে তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে সরকার।বিষয়টি গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবধি। আদালত জানিয়ে দেয়, এ ধরনের কোনও উদ্যোগ নেওয়া যাবেনা। করোনা নিয়ে দেশবাসীকে আপডেট দেওয়া যেতেই পারে। আর বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর দুনিয়ায় যদি মানুষ প্রতি মুহূর্তের আপডেট পেতে চায় তাতে বাধা দেওয়া যাবেনা।

ল্যানসেট তার সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করেছে, লেখা হয়েছে, ‘দেশের হাসপাতালগুলিতে বেড নেই। গোটা দেশের শ্মশানে গণচিতা জ্বলছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা টানা কাজ করে ও করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিধ্বস্ত। ভারতের এই দুর্যোগ সত্যিই চোখে দেখা যায় না।’ আর এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী মোদি সরকার। ল্যানসেট বলছে ,মার্চে যখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পড়ছে, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তখনও দাবি করে গিয়েছেন ভারত করোনার বিরুদ্ধে জয়ের পথে! কিন্তু সেই সময়ের আইসিএমআর-এর সার্ভে দেখিয়েছিল, ভারতবাসীদের মধ্যে মাত্র ২১ শতাংশের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।’ জার্নাল বলছে, দেশের মধ্যে সংক্রমণ হাতের বাইরে চলে যেতে পারে জেনেও ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমাগমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঝড়ের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। উল্লেখ্য এই পরিস্থিতিতেও কুম্ভস্নানে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি দ্য ইনস্টিটিউট ফর হেল্থ মেট্রিকস এন্ড ইভোলিউশন জানিয়েছে যে আগষ্ট মাসে করোনায় ১০লক্ষ মৃত্যু দেখতে চলেছে ভারত। ল্যানসেট বলছে, ‘ যদি তাই হয় তবে এই জাতীয় বিপর্যয়ের জন্য দায়ী থাকবে মোদি সরকারের অনুসৃত নীতি।’ শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের ভ্যাকসিন নীতি ও টিকাকরণে শ্লথ গতির জন্য নরেন্দ্র মোদির দিকে আঙুল তুলেছেন তাঁরা।