প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন আইনজীবী দম্পত্তিকে! অভিযোগ থানার মধ্যে দলিত ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার খেসারত

392
প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন আইনজীবী দম্পত্তিকে! অভিযোগ থানার মধ্যে দলিত ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার খেসারত 1
প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন আইনজীবী দম্পত্তিকে! অভিযোগ থানার মধ্যে দলিত ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার খেসারত 2
প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন আইনজীবী দম্পত্তিকে! অভিযোগ থানার মধ্যে দলিত ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার খেসারত 3
সেই কুপিয়ে মারার দৃশ্য

নিজস্ব সংবাদদাতা: সিনেমাকে হার মানালো নৃশংসতা, ভিড়ে ভরা রাস্তায় দিনের বেলায় গাড়ির মধ্যে কুপিয়ে খুন করা হল আইনজীবী দম্পত্তিকে। পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে বাস, ট্যাক্সি, অটো, পথচারী, গাড়ি থেকে টেনে রাস্তায় ফেলে কোপানো হচ্ছে দম্পত্তিকে। না, দুনিয়া থামেনি এই ঘটনায়। শুধু থেমে গেল দুটি প্রাণ। পুলিশ লক-আপে এক দলিত ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারা হয়েছে এই অভিযোগে অসহায় দলিত পরিবারটির হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা লড়ছিলেন ওই দম্পত্তি।

বুধবার তেলেঙ্গানার কালভাচোরা এলাকায় সেই ভয়াবহ হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। যাঁরা মোবাইলে ভিডিও তুলেছেন তাঁরাও যাননি বাঁচারতে। ভর দুপুরে চলন্ত গাড়িতে ভয়াবহ হামলার সেই ভিডিওতে এসেছে পুলিশের হাতেও যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মৃত্যুর আগে কাতরাতে কাতরাতে আততায়ীর নাম বলে যাচ্ছেন গাট্টু ভবন রাও আর গাড়ির মধ্যে পড়ে রয়েছে তাঁর স্ত্রী গাট্টু নাগমনির রক্তাপ্লুত জ্ঞানহীন দেহ। শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনা স্তম্ভিত করে দিয়েছে সারা দেশকেই। মুহূর্তে মনে হয়েছে এই দেশটার দখল চলে গিয়েছে দুস্কৃতিদের হাতেই। না’হলে চোখের সামনে এই নৃশংস ঘটনা ঘটতে দেখেও কেন এগিয়ে এলেননা কেউ।

প্রকাশ্যে কুপিয়ে খুন আইনজীবী দম্পত্তিকে! অভিযোগ থানার মধ্যে দলিত ব্যক্তিকে পিটিয়ে খুনের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার খেসারত 4

মৃত দম্পতি আইনজীবী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয় অনেক আগে থেকেই প্রাণ সংশয়ে ভুগছিলেন তাঁরা। সে কথা জানিয়েও ছিলেন আদালতে। এর মধ্যেই আশঙ্কা সত্যি করে হামলায় মৃত্যু হল ওই আইনজীবী দম্পতির। মৃত্যুর আগেই যে আততায়ীর নাম বলে গেছেন গাট্টু ভামান রাও। সেই আততায়ীর নাম কুন্তা শ্রীনিবাস। এলাকার পরিচিত মাসলম্যান এবং রাজনৈতিক যোগ রয়েছে। এ দিন দুপুর ৩ টে নাগাদ এই ঘটনা ঘটে রামগিরি থানা এলাকার কালভাচেরায়। মান্থানীর একটি আদালতে মামলা লড়ে হায়দরাবাদে ফিরছিলেন ওই দম্পতি, তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নাগমনির, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয় ভামান রাও -এর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আততায়ী এক ধারাল অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় ওই গাড়িতে। ওই ব্যক্তি তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির মন্ডল প্রেসিডেন্ট বলে জানা গিয়েছে। যদিও পুলিশ এখনও তেমন কোনও তথ্য দেয়নি।

সম্প্রতি এক দলিত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা লড়ছিলেন ওই দম্পতি। কিছুদিন আগেই মান্থানী থানায় পুলিশের হেফাজতেই মৃত্যু হয় ওই দলিত ব্যক্তির। এরপর থেকেই নানা রকমের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের। চলতি মাসের শুরুতে তাঁদের নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থাও করা হয়। পুলিশ তাঁদের হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তাঁরা। সেই অভিযোগ নিয়ে মামলাও চলছিল। তেলেঙ্গানার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়। এরপরই পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ জানান ওই দম্পতি।

এই ঘটনায় শাসক দলের দিকে আঙুল তুলেছেন রাজ্যের আইনজীবী মহল। এক আইনজীবী চিক্কাদ প্রভাকর জানান, ওই দম্পতি প্রাণনাশের আশঙ্কা করেছিলেন তাই নিরাপত্তা চেয়েছিলেন আগেই। অভিযোগ সত্যি হলে শাসক দলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অভিযোগ পুলিশের সঙ্গে দুস্কৃতি যোগেরও। প্রশ্ন উঠেছে এরপর মানুষ যাবেন কোথায়? কার কাছে?