জাতীয় সড়কে ফের দুর্ঘটনার কবলে বন্য প্রাণ, গাড়ির ধাক্কায় জখম জোড়া চিতা

151
জাতীয় সড়কে ফের দুর্ঘটনার কবলে বন্য প্রাণ, গাড়ির ধাক্কায় জখম জোড়া চিতা 1

অশ্লেষা চৌধুরী: ফের দুর্ঘটনার কবলে পড়ল চিতা। বছের প্রথম দিন রাতের আঁধারে জাতীয় সড়কে দুটি চিতা গাড়ির ধাক্কায় জখম হয়। এমনকি গাড়িটিও উল্টে গিয়ে তাতে থাকা ৫ জন যাত্রী জখম হন। দুর্ঘটনাটি ঘটে বানারহাট এলআরপি মোড়ের কাছে ৩১সি জাতীয় সড়কে শুক্রবার রাতে।

জানা গিয়েছে, নতুন বছরের প্রথমদিন উদযাপন উপলক্ষ্যে কোচবিহারের পাঁচজন বাসিন্দা ডুয়ার্সের ঝালং সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ জাতীয় সড়ক ধরে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা। এদিন বানারহাট এলাকা পার হতেই রাস্তায় দু’টি চিতা চলে আসা। দ্রুত গতিতে গাড়িটি চিতা দুটিকে ধাক্কা মারার পর উলটে যায়। দুর্ঘটনায় গাড়ির পাঁচজন যাত্রীই আহত হন। তাঁদের বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

জাতীয় সড়কে ফের দুর্ঘটনার কবলে বন্য প্রাণ, গাড়ির ধাক্কায় জখম জোড়া চিতা 2

অন্যদিকে, একটি চিতা গুরুতর জখম হলেও অপরটির আঘাত তুলনামূলক কম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বানারহাট থানার পুলিশকর্মী এবং বন্যপ্রাণ শাখার বিন্নাগুড়ি রেঞ্জের কর্মীরা। উপস্থিত হন অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরীও। প্রায় রাতভর চেষ্টার পর ভোরের দিকে ঘুমপাড়ানি গুলি করে গুরুতর জখম চিতাটিকে জাল দিয়ে বন্দী করে উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে ঝোপে আশ্রয় নেওয়া অপর চিতাবাঘটিকে এখনও উদ্ধার করতে সক্ষম হননি বনকর্মীরা। এদিন সকাল থেকে চিতাবাঘটির খোঁজে পটকা ফাটিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন বনকর্মীরা।

প্রসঙ্গত, ডুয়ার্সে‌র চারিদিকে জঙ্গল থাকায় প্রায়শই চিতা হাতি সহ বিভিন্ন বন্য প্রাণী জঙ্গল থেকে বেরিয়ে রাস্তার ধারে বা রাস্তার ওপরে উঠে আসে। যেমন গতবছর ডিসেম্বরের ১০ তারিখ বৃহস্পতিবার সকালে আলিপুরদুয়ার জেলার ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়ের মাদারিহাট ও হাসিমারার মাঝখানে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় একটি লেপার্ড ক্যাটের। ঘটনার পর স্থানীয়রা এসে ভিড় জমান সেখানে, খবর দেওয়া হয় বন দপ্তরে। কিন্তু জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ওই এলাকায় বনকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যায় মৃত শাবকটির দেহ। উধাও হয়ে যাওয়া ওই বন্য প্রাণীটির মৃতদেহ খুঁজে বের করার জন্য ময়দানে নামে বন দপ্তরের অভিজ্ঞ এই দুই গোয়েন্দা কুকুর রাণী ও টফি (জার্মান শেফার্ড)। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে হলং বাজারের লোকালয়ে চলে চিরুনি তল্লাশি,। তারপরেও রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যাওয়া লেপার্ড ক্যাটটির কোন হদিস করতে পারেননি বনদপ্তরের জলদাপাড়া জাতীয় উদ‍্যানের বনকর্মীরা।

এরপর ১৪ ডিসেম্বর ৪৮ নম্বর এশিয়ান হাইওয়েতেই দ্রুতগতিতে ছুটে চলা লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয় একটি বুনো মাকনা হাতির। হাতিটির বয়স পনেরো। সেদিন রাত সাড়ে দশটা নাগাদ আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান লাগোয়া এশিয়ান হাইওয়েতে এই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় হাতিটি রাস্তা পার করছিল। এদিন রাতে এলাকার সরকারি করাত মিলের সংলগ্ন এশিয়ান হাইওয়ের পাশের বাসিন্দারা হঠাৎ একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। তারা বাইরে বেরিয়ে এসেই দেখতে পান মর্মান্তিক দৃশ্যটি। তারা দেখেন প্রচন্ড যন্ত্রনায় হাতিটি কাতরাচ্ছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জলদাপাড়া বনদপ্তরের অতিরিক্ত বন‍্যপ্রাণ আধিকারিক ও বনকর্মীরা। সংঘর্ষের অভিঘাত এতটাই বেশি ছিল যে, লরিটির ধাক্কায় প্রকান্ড হাতিটি প্রায় পনেরো ফুট দূরে ছেঁচড়ে যায়। প্রাথমিক পরীক্ষার পর বনকর্তাদের অনুমান কোমড়ের হাড় ভেঙে গিয়েছিল হাতিটির। বন দপ্তরের জলদাপাড়া বনবিভাগের পক্ষ থেকে হাতিটিকে চিকিৎসা করার ও সেখান থেকে উদ্ধার করে প্রাণে বাঁচানোর চেষ্টা চালানো হয় রাতভর। কিন্তু বন দপ্তরের শত চেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হাতিটির।