বাদাম হোক নিত্য সঙ্গী, জেনে নিন কেন

190
বাদাম হোক নিত্য সঙ্গী, জেনে নিন কেন 1

অশ্লেষা চৌধুরী: ট্রেনে দূরের যাত্রার সময় বাদাম চিবুতে পছন্দ করি আমরা অনেকেই। অথবা পার্কে বসে বা আড্ডা দেওয়ার সময় অথবা শুধু অলস সময় কাটাতে বাদামকে সঙ্গী করে নেন অনেকেই। কিন্তু বাদামের কাজ এ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়, এর রয়েছে আরও অনেক গুণাগুণ।

শরীরের মাত্রাধিক কোলেস্টেরল- হৃদরোগ, উচ্চ রক্ত চাপ, ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিসের মতো কঠিন রোগ সৃষ্টি করে। বাদামের অসাধারণ কার্যকরী ফ্যাট শরীর থেকে সেই কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই বাদাম যা যা করে-

বাদাম হোক নিত্য সঙ্গী, জেনে নিন কেন 2

ওজন কমাতে সহায়ক
আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তবে আপনার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই বাদাম রাখতে হবে। বাদামে ফাইবার ও প্রোটিন রয়েছে, যা আপনাকে দীর্ঘক্ষণ অনিয়ন্ত্রিত খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে, যেটি ওজন বাড়ানোর একটি প্রধান কারণ। তাছাড়া, এই বাদাম শরীরের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে। প্রতিদিন একমুঠো চিনা বাদাম খেতে পারেন শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে। আর এটি আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতেও সহায়তা করে।

মন ভালো রাখতে সাহায্য করে
বাদামে ট্রিপটোফেন নামে এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। কলা কিংবা এ জাতীয় ফলে থাকে ভিটামিন বি-সিক্স, যা বাদামের অ্যামিনো অ্যাসিডের সাথে যুক্ত হয়ে সেরোটোনিনে রূপান্তর করে। আর সেরোটোনিন এনার্জি বুস্টার হিসেবে কাজ করে। এটি উদ্বেগ হ্রাস করতেও সহায়ক।

রোগের ঝুঁকি কমায়
বাদামে রয়েছে ভিটামিন-ই। প্রতিদিনের খাবারে বাদাম যোগ করলে ৪৮ শতাংশ ভিটামিন-ই- এর উৎস হতে পারে বাদাম। এই ভিটামিন ক্যানসার বা হৃদরোগসহ অনেক জটিল রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।

 

হাড়ের শক্তি বাড়ায়
সমীক্ষা বলছে, মাত্র একমুঠো বাদাম ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন কে, প্রোটিন, জিঙ্ক ইত্যাদি প্রদান করে থাকে। আর এগুলো সবই হাড়ের স্বাস্থ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সুগার লেভেল ঠিক রাখে
ডায়াবেটিস রোগীরা প্রায়ই ম্যাগনেশিয়াম ঘাটতিতে ভোগেন। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৬০ গ্রাম বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে মাত্র ১২ দিনেই অবিশ্বাস্যভাবে ফল পাওয়া যায়। চিনা বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস নির্মূলে বিশেষভাবে কার্যকরী।

মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে
চিনা বাদামে প্রচুর পরিমাণ বি৩ আছে, যা মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। তাই প্রতিদিন চিনা বাদাম বা এর মাখন খাবেন, যাতে করে আপনি স্বয়ংক্রিয় মস্তিষ্ক পেতে পারেন। আর শরীরে সঠিক পরিমাণ পুষ্টি না থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। চিনা বাদামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরে কঠিন রোগকে বাসা বাধতে বাধা দেয়। পাশাপাশি বাদাম আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

বাদাম খাওয়ার সঠিক সময়
বাদাম থেকে পর্যাপ্ত ভিটামিন পেতে বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সকালে খাওয়ার পরামর্শ দেন। ব্রেকফাস্টের সাথে বাদাম খাওয়া রক্তে শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

তাই কেবলমাত্র অলস সময় নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য হাতে তুলে নিন এক মুঠো বাদাম।