রোগীকে ফেরালেই লাইসেন্স বাতিল, জবাব দিতে হবে ডাক্তারদের, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের

228
রোগীকে ফেরালেই লাইসেন্স বাতিল, জবাব দিতে হবে ডাক্তারদের, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের 1

ওয়েব ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের একাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বারংবার রোগী ফেরানোর ঘটনা সামনে আসছে। কোথাও বেড নেই, কোথাও আবার রোগী স্থানান্তরিত করার হিরিক পড়েছে৷ এর জেরে নাজেহাল হচ্ছেন সাধারণ মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল গুলির ক্ষেত্রে আরও বড়ো অভিযোগ, করোনা আক্রান্ত রোগি শুনলেই বেড নেই বলে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ উঠে আসছে৷ এই দুইয়ের মাঝে পড়ে হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এবার এবিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার৷ সরকারি হোক কিংবা বেসরকারি, এবার থেকে যেকোনো রোগীকে ফেরালেই বাতিল হতে পারে লাইসেন্স বাতিল। পাশাপাশি বিভাগীয় পদক্ষেপের নেওয়া হতে পারে সরকারি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। বুধবার নবান্ন থেকে এমনই কড়া ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার নবান্ন থেকে জারি করা ২টি নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী কিংবা অন্য কোনো অসুখ নিয়ে হাসপাতালে এলে তাকে ভরতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি ভরতি না নিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তবে সরকারের তরফে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি ওই হাসপাতালের লাইসেন্স করে দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে শুধু যে বেসরকারি হাসাপাতালের ক্ষেত্রেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা কিন্তু নয়, এবার থেকে সরকারি হাসপাতাল যদি বেড নেই কিংবা অন্যকোনো ছুতোয় রোগী ভরতি না নেওয়া হয় সেক্ষেত্রে তদন্তের মুখে পড়তে হবে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও আধিকারিকদের। দোষী প্রমাণিত হলে ২০১৭ সালের আইন অনুসারে কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে।

রোগীকে ফেরালেই লাইসেন্স বাতিল, জবাব দিতে হবে ডাক্তারদের, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের 2

বুধবার নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষ আসেন সরকারি হাসপাতালগুলিতে। কিন্তু দেখে যাচ্ছে নানা কারণ দেখিয়ে তাদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। এদিকে রোগীকে চিকিৎসা করানোর আশার নানা হাসপাতাল ঘুরে অবশেষে ভরতি করা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বেশীরভাগ রোগী যারা সামান্য চিকিৎসাতেই সেরে উঠতে পারতেন কিন্তু এত ধকোলে রোগীটি বিনা চিকিৎসাতেই মারা যাচ্ছেন। এদিকে বেসরকারি হাসপাতালেও একই অবস্থা। কোথাও করোনা রোগী শুনলেই বেড নেই বলে ভরতি নেওয়া হচ্ছে না। কোথাও আবার চিকিৎসার পর সুস্থ কিংবা মৃত দুইক্ষেত্রেই রোগী পরিবারের হাতে লম্বা একটা বিল ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রোগী পরিবার বিল মেটাতে সক্ষম না হলে আটকে রাখা হচ্ছে দেহ। বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে কনটেনমেন্ট জোনের বাসিন্দাদের। রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রথমে তার ঠিকানা জানা হচ্ছে। যদি দেখা যায় ওই এলাকা কনন্টেইনমেন্ট জোনের আওতায় পড়ছে, তাহলেই আর ভরতি নেওয়া হচ্ছে না। একই অবস্থা কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে৷

গত কয়েকদিন আগেই মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার সাথে বৈঠকে বসেছিলেন রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি হাসাপাতালের কর্ণধাররা। মুখ্যসচিব জানিয়েছিলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলির সাথে আলোচনার পর তারা আশ্বস্ত করেছেন যে এবার থেকে আর হাসপাতাল থেকে কোনো রোগী ফেরানো হবে না। রোগী করোনা সংক্রমিত হলে সেক্ষেত্রেও তাকে ভরতি নেওয়া হবে৷ কিন্তু আদতে দেখা যাচ্ছে সরকারের তোয়াক্কা না করে একই কাজ করে চলেছেন তারা। তবে কি সরকারের কথার তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করতে চাইছে বেসরকারি হাসপাতালগুলি?

অন্যদিকে, সরকারি হাসপাতালগুলির ক্ষেত্রেও একই নির্দেশিকা জারি করলেন নবান্ন। বহুক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বারংবার বলা সত্ত্বেও করোনা রোগী ছাড়া অন্যকোনো রোগীকে ভরতি নিতে চাইছে না সরকারি হাসপাতালগুলি। তবে কি সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আর কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নিজেদের রশি শক্ত করতে শেষ অস্ত্র হিসেবে আইনি পদক্ষেপের ভয় দেখিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে ডাক্তারদের?

Previous articleসুবর্ণরেখার কথা ৪ ।। উপেন পাত্র
Next articleনেই স্মার্টফোন, বন্ধ অনলাইন ক্লাস, পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আত্মঘাতী দশম শ্রেনীর ছাত্র