হাওড়া স্টেশনে যাত্রী বিক্ষোভের পর অবশেষে লোকাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের

1137
Advertisement

ওয়েব ডেস্ক : শনিবার সন্ধ্যায় লোকাল ট্রেনে উঠতে চেয়ে সাধারণ যাত্রীদের বিক্ষোভের জেরে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল হাওড়া স্টেশন। রেল পুলিশের লাঠিচার্জে জখম হয়েছে বহু যাত্রী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসলেন রাজ্য সরকার। শেষমেশ লোকাল ট্রেন পরিষেবা সচল করতে রেলকে চিঠি দিল রাজ্য সরকার। কিভাবে লোকাল ট্রেন চালানো সম্ভব, সেবিষয়ে রেলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়ে শনিবার রাতেই পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার সুনীত শর্মাকে চিঠি দিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব এইচ কে দ্বিবেদী।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এদিন রাজ্য সরকারের তরফে পাঠানো চিঠিতে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দূরত্ববিধি মেনে বিভিন্ন রুটে বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন চালানো নিয়ে দ্রুত আলোচনায় বসতে চেয়েছেন রাজ্য। তবে সারাদিন ট্রেন চালানোর সম্ভাবনা না থাকলেও অন্তত সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে হাতে গোনা বেশ কয়েকটি লোকাল ট্রেন চালানো যেতে পারে বলে এদিন রেলকে চিঠিতে জানানো হয়েছে। তবে করোনা আবহে যাতে কোনোভাবেই সংক্রমণ না ছড়ায় সেকথা মাথায় রেখে কিভবাএ তা করা সম্ভব সেবিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
Advertisement

এদিকে লোকাল ট্রেনে ওঠার দাবিতে শুক্রবারের পর শনিবারও যাত্রী বিক্ষোভের জেরে হাওড়া স্টেশনে আরপিএফ ও জিআরপি-র হাতে যেভাবে হেনস্তা হতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের তাতে এদিনের চিঠিতে রাজ্যের তরফে রীতিমতো নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‌”এটা আমাদের নজরে এসেছে যে যাতায়াতের সমস্যার সম্মুখীন সাধারণ মানুষের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছে রেলপুলিশ। শুধুমাত্র রেল পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদেরই স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেনের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যেখানে অন্য সরকারি কর্মী ও সাধারণ যাত্রীরা বঞ্চিত।”

জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধেয় স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেনে চড়তে প্রচুর সংখ্যক যাত্রী হাওড়া স্টেশনে উপস্থিত হন। কিন্তু তাঁরা স্টেশনে ঢুকতে গেলে বাধা দেয় রেলপুলিশ। এতে রেগে যান যাত্রীরা। প্রায় কয়েকশো যাত্রী বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। ভাঙার চেষ্টা করা হয় গেট। রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় স্টেশন চত্ত্বর। এদিন যাত্রীরা বিক্ষোভ দেখিয়ে প্রশ্ন তোলেন, রেলকর্মীরা প্রচুর টাকা মাইনে পাওয়া সত্ত্বেও যদি স্টাফ স্পেশালের সুবিধা পান তবে সাধারণ মানুষ যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের কেন ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতেই আচমকা লাঠিচার্জ শুরু করে জিআরপি। সেসময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে পাল্টা পুলিশের দিকে লাঠি ছুঁড়ে মারে।