লকডাউনের পর দফায় দফায় বৃষ্টি, ঝাড়গ্রামের মাঠে পচছে কোটি টাকার তরমুজ

1406
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: যে সে তরমুজ নয়, রীতিমত সুস্বাদু। গড়নে লম্বাটে, খানিকটা মার্কিনিদের খেলার রাগবির মত। কলকাতার বাজারে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই উধাও হয়ে যায়। সাধারন তরমুজ যেখানে খোলা বাজারে ৮ থেকে ১০টাকায় বিক্রি হয়, এ তরমুজের দাম সেখানে ২৫টাকা। তেমন এই তরমুজ উৎপাদনের খরচও বেশি। বীজের দামই কিলোপ্রতি ৩৫হাজার! বাহারি নামও এই তরমুজ প্রজাতির, সুগার কিং, সুপার কুইন, সাটো ইত্যাদি।
ঝাড়গ্রাম জেলার সুবর্নরেখা নদীর পলিলালিত মৃত্তিকাতে এই তরমুজের চাষ করেন কিছু সমর্থ কৃষক। চাষ হয় গোপীবল্লভপুর ১ ও ২ ব্লক আর নয়াগ্রাম এলাকায়। বিঘা প্রতি ২০হাজার টাকা খরচের এই চাষ সকলের সাধ্যে কুলায়না।

Advertisement

গরমে শান্তির স্বাদ এই তরমুজ বাজারে ওঠার মুখেই শুরু হয়েছিল লকডাউন। ক্ষেতের জিনিস পড়েছিল খেতেই। আর দ্বিতীয় দফা লকডাউনের মাঝে যখন নিয়ম একটু শিথিল, বাজারে পাঠানোর জন্য তৈরি হচ্ছিলেন চাষিরা তখুনি দফায় দফায় ঝড় আর বৃষ্টি দফারফা করে ছাড়ল চাষিদের।
গোপীবল্লভপুরের টোপগেড়িয়া, আলমপুর, বাকড়া সহ বিস্তির্ণ এলাকার মানুষ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে অর্থকরী চাষ হিসাবে তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু চাষিদের অভিযোগ, গত কয়েকদিনের ধারাবাহিক ঝড় বৃষ্টির জন্য ক্ষতির মুখে গোপীবল্লভপুরের তরমুজ চাষিরা। বৃষ্টির জলে নষ্ট হচ্ছে তরমুজ চাষ। পরিপক্ক তরমুজ ফলে পচন ধরেছে।

Advertisement
Advertisement

তাঁরা জানান , এবছর লক ডাউন এর ফলে ফলের গাড়ি চলাচলের উপর ছাড় থাকলেও বাইরের ব্যবসায়ী তেমন নেই। বিকিনি করতে হচ্ছে খুব অল্প দামে। অন্যদিকে পরিপক্ক ফলের উপর কয়েকদিন ধারাবাহিক বৃষ্টি হওয়ার নষ্ট হচ্ছে মাঠের তরমুজ।আর এই সুযোগে যে টুকু বিক্রি হচ্ছিল তাতেও ছেদ পড়েছে।ব্যবসায়ীরা সহজে তরমুজ কিনতে চাইছেন না।টোপগেড়িয়া গ্রামের তরমুজ চাষি শান্তিময় মন্ডল বলেন, একবিঘা জমি তরমুজ চাষ করতে খরচ হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা, কিন্তু এবছর লক ডাউন এর ফলে বিক্রি অভাবে খুব কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।তার উপর বৃষ্টির জন্য প্রচুর ফল নষ্ট হচ্ছে মাঠের মধ্যে তাই চাষের খরচ মেটানো সম্ভব হবেনা এবছর।

জানা গেছে পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে কিলো প্রতি ১২টাকা এই তরমুজ বিক্রি করতেন চাষিরা। বিঘায় ৫০ কুইন্টাল মত তরমুজ উঠলে কৃষক চল্লিশ হাজার টাকা ঘরে তুলতেন বিঘা প্রতি। লকডাউনের বাজারে ৮টাকা কিলো দাম মিলতেই জান কাবার তার ওপর বৃষ্টিতে তরমুজ পচে বিঘায় ৩০কুইন্টল ফসলও রক্ষা করতে পারবে কিনা সন্দেহ কৃষকদের।