দু’দিন হাঁড়ি চড়েনি সাংসদ অভিনেতা দেবের জ্যাঠার বাড়িতেই,সিপিএম গিয়ে দিয়ে এল চাল,আটা

56601

নিজস্ব সংবাদদাতা: চালের জন্য গিয়েছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কাছে, গিয়েছিলেন প্রধানের বাড়িতেও কিন্তু এম.পির ভাইয়ের আবার কিসের ত্রান দরকার বলে ফেরৎ পাঠিয়ে দিয়েছে খিল্লি করে। ফলে হাঁড়ি চড়েনি দু’দিন। ষাটোর্ধ্ব বিধবা মা, আট ও পাঁচ বছরের ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে কার্যত ভুখা পেটে দিন কাটছে সাংসদ দেবের নিজেরই কাকার ছেলে বিক্রম অধিকারী ও তাঁর স্ত্রী শম্পা। খবর পেয়েই শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁদের বাড়িতে চাল, আটা আর নগদ কিছু টাকা দিয়ে এসেছেন স্থানীয় সিপিএম সদস্যরা যা পেয়ে বিক্রমের মা, দেবের জেঠিমা শঙ্করী জানিয়েছেন, যা হোক কটা দিন পরে একটু পেট ভরে খাবে বাচ্চা দুটো।

মেদিনীপুর শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দুরে কেশপুর থানার মহিষদা গ্রাম, দেবের নিজের গ্রাম যেখানে একই সাথে বড় হয়েছেন দেবের বাবা গুরুপদ অধিকারী এবং তাঁর তিন দাদা শক্তিপদ, বিষ্ণুপদ, তারাপদ। দেবের মেজো জ্যাঠামশাই
বিষ্ণুপদর একমাত্র ছেলে বিক্রম। বিষ্ণুপদ বরাবরই গরিব। দিন মজুরিই সম্বল ছিল। মারা যাওয়ার পর ছেলে বিক্রমের পেশা দাঁড়ায় বাসের হেল্পারি করা কিন্ত এখন বাস বন্ধ, মালিক সাহায্য করতে রাজি হয়নি। বিক্রম জানান, ‘দুদিন স্ত্রীকে নিয়ে লোকের জমিতে ধান কেটেছি কিন্তু তাতে আর ক’দিন চলে? রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম গ্রামের সবার সঙ্গেই কিন্তু আমাদের কার্ড আসেনি। কেন আসেনি জানিনা। তাই রেশন পাইনি। সরকার বলেছিল যাঁদের রেশন কার্ড নেই তারাও এখন রেশন পাবে তাই স্থানীয় তৃণমূলের নেতা, প্রধানের স্বামীর কাছে গেছিলাম তাঁরা হাসতে হাসতে বলেছে তুই হলি সাংসদের ভাই, তোর আবার রেশনের চালের কি দরকার? ফলে দু’দিন হাঁড়ি চড়েনি। মুড়ি টুড়ি খেয়ে আছে বাচ্চা দুটো।”

দু’দিন হাঁড়ি না চড়ায় বাধ্য হয়ে শুক্রবার তিন কিলোমিটার দুরে কেশপুর বাজারে আসেন বিক্রম। উদ্দেশ্য যদি কারও সাহায্য পাওয়া যায়। সেখানেই দেখা হয়ে যায় কয়েকজন সিপিএম কর্মীর সাথে। অধিকারী পরিবার বরাবরই সিপিএমের ঘনিষ্ঠ পরিবার। দেবের বড় জ্যাঠা শক্তিপদ অধিকারী সিপিএমের বড় নেতা ছিলেন কেশপুরের। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী দেবকে প্রার্থী করে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে যার অন্তর্ভুক্ত এই কেশপুর। দেব জেতার পর অবশ্য মহিষদা গ্রাম বা অধিকারী পরিবার কিছুটা তৃণমূলের দিকেই ঝুঁকে আর না ঝুঁকে উপায়ও নেই। সেই পরিবারের ছেলেকে দেখে সিপিএম কর্মীরা ভালমন্দ জিজ্ঞাসা করতেই বেরিয়ে পড়ে হাঁড়ির হাল।

আরও পড়ুন -  মেদিনীপুর হোমিওপ্যাথি কলেজের সহযোগিতায় শহরে ৫০০ পরিবারে করোনা প্রতিষেধক বিতরন করল মুনলাইট ক্লাব

এরপরই সিপিএমের কর্মীরা বিক্রমের বাড়িতে চাল, আটা ও কিছু টাকা দিয়ে আসেন। পরে আরও দেবেন বলে তাঁরা জানান। জানা যায় শুধু রেশন কার্ডই নয়, হত দরিদ্র হওয়া স্বত্ত্বেও বার্ধক্য বা বিধবা ভাতা পাননা দেবের জেঠিমা। কোনও সরকারি সাহায্য মেলেনা এই পরিবারে। লকডাউনে চরম অসহায় আর দুর্দশায় দুই শিশু বিশ্বজিৎ আর প্রিয়াঙ্কা। সাংসদের ভাই হওয়ার কি জ্বালা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বিক্রম অধিকারী।

আরও পড়ুন -  পশ্চিমের প্যাঁচে ঝেঁপে বৃষ্টি জঙ্গলমহলে, মকরের আগেই ভেজা শীতে ঘরবন্দি ঝাড়গ্রাম

বিক্রম বলেন, দাদা অভিনেতা, সাংসদ সেটা তাঁর যোগ্যতা। সেটা নিয়ে আমাদের কিছুই বলার নেই কিন্তু আমরাতো গরিব এবং সেটা সবাই জানেও। তবুও আমাদের নিয়ে এই নির্মম রসিকতার মানে কী আজও বুঝতে পারিনি। কোনও সরকারি সুবিধা চাইতে গেলেই ওই একই কথা বলা হয়, তোরা সাংসদের ভাই তোদের আবার কি সাহায্য দরকার!

দু'দিন হাঁড়ি চড়েনি সাংসদ অভিনেতা দেবের জ্যাঠার বাড়িতেই,সিপিএম গিয়ে দিয়ে এল চাল,আটা 1