তিন দশক পরে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়িকে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ফিরিয়ে দিল ‘লকডাউন’

670
তিন দশক পরে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়িকে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ফিরিয়ে দিল ‘লকডাউন’ 1
তিন দশক পরে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়িকে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ফিরিয়ে দিল ‘লকডাউন’ 2

নিউজ ডেস্ক: তিন দশক আগে আগে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি থেকে পরিষ্কার দেখা যেত পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার মনমুগ্ধকর রূপ। তবে, গত কয়েক বছর ধরে শহর জুড়ে তীব্র যানজট এবং দূষণের ফলে শহরবাসীরা সেই কাঞ্চনজঙ্ঘার ঝকঝকে রূপ দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। কিন্তু করোনা কালের লকডাউনে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ, কলকারখানা বন্ধের সরাসরি প্রভাব যে প্রকৃতিতে পড়ছে তা আর অজানা নেই কারও। প্রকৃতি তার উদার হস্তে সাজিয়ে তুলেছে পাহাড়, তরাই, ডুয়াস সহ শিলিগুড়ি সংলগ্ন এলাকাগুলিকে। তবে মানুষ বরাবরই প্রকৃতির ওপর অত্যাচার করে এসেছে, যার ফলস্বরূপ দূষনে জেরবার প্রকৃতি তার ভয়ালরূপ নিয়ে মাঝে মধ্যে আছড়ে পড়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের লকডাউনে দূষন অনেকটাই হ্রাস পাওয়ায় পুনরায় প্রকৃতির রূপ সৌন্দর্য প্রকট করতে শুরু করেছে। যার উদাহরন হল, লক্ষ্মী পুজোর প্রাক মুহূর্তে কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ-সৌন্দর্য স্পষ্ট ফুটে উঠল শহর শিলিগুড়ি থেকে। আর শুধু শিলিগুড়ি নয়, জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দারাও উপভোগ করছেন কাঞ্চনজঙ্ঘার এই মনমুগ্ধকর রূপ।

করোনা কালে লকডাউনের সুফল বলেই মনে করছে পরিবেশবিদরা। তাইতো জলপাইগুড়ি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দূরত্ব ১৪৩ কিমি দূরে হওয়া সত্ত্বেও জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ির স্টেশন মোড় এলাকা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর রূপ দেখা যাচ্ছে। এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে ভীড় জমাচ্ছেন অনেকেই। লকডাউনে দূষণ মুক্ত হওয়ার কারণে পরিষ্কার নির্মেঘ আকাশে অনেক দূর পর্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে উঠছে মনে করছেন সকলে।

তিন দশক পরে জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়িকে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ফিরিয়ে দিল ‘লকডাউন’ 3

শিলিগুড়ির মতই জলপাইগুড়ি থেকেও এই দৃশ্য দেখা যেত। তবে দূষণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন কাঞ্চঞ্জঘার এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখা থেকে। করোনা কালে লকডাউনে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া জনজীবন সেই সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র ধূপগুড়ি স্টেশন মোড় থেকেই নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ রূপ প্রত্যক্ষ করছেন মানুষ। বিশেষ করে সকাল বেলার দিকে। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন, পতাকাটা, তিস্তা পাড় থেকেও এই দৃশ্য দেখতে পাচ্ছেন মানুষ। অবশ্যই আকাশ ঝকঝকে থাকলে। পাহাড় থেকে আরও মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তবে ঘরের কাছের এই দৃশ্য দুচোখ ভরে উপভোগ করছেন মানুষ। আর কাঞ্চনজঙ্ঘা এই রূপ ক্যামেরাবন্দী করতে ভুলছেন না কেউই।

জলপাইগুড়ির রেসকোর্স পাড়ার বাসিন্দা পার্থ গোস্বামী জানিয়েছেন, “আমার বয়স ৫০বছর। ছোটবেলা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখে আসছি আমাদের গলির মোড় পেরিয়ে বড় রাস্তায় পড়ার মুখে। কিন্তু ৮৯/৯০ সালের পর থেকে সেই ঝকঝকে রূপ দেখতে পাইনি। অস্পষ্ট একটা অবয়বের মত দেখা যেত। পুজোর সময় বৃষ্টি হয়েছিল খুব। তারপরই ধুলোবালি হীন শীতের মেঘমুক্ত আকাশ আর তার ওপর লক ডাউনের এফেক্ট। তারফলেই বোধহয় ফিরে ফেলাম সেই পুরনো ছবি যা আমার পুরনো অতীতকেও ফিরিয়ে দিল। এমনটাই যেন থাকে বরাবর। বাড়ি থেকে বেরিয়ে অমন একটা সুন্দর দৃশ্য দেখলে দিনটাই অন্যরকম হয়ে যায়।”

ঠিক একই রকম অভিজ্ঞতা শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডের বাসিন্দা পবন আগরওয়ালের। পবন  বলেন, ” আমাদের বহুতলের ছাদ থেকে বরাবরই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেতাম কিন্তু এখন যা দেখতে পাচ্ছি তা’হল ওই পর্বতমালার প্রতিটা খাঁজ আর সেই খাঁজের থেকে হীরের দ্যুতির মত আলো ঠিকরে পড়ছে। এ জিনিস আমি আগে দেখিনি। আমার বাবার বয়স সত্তর বছর এবং উনি ১০ বছর বয়সে আমার ঠাকুরদার হাত ধরে এই শহরে এসেছিলেন। উনি বলছেন ৩০ বছর আগে শিলিগুড়ি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে এরকমই দেখাতো। লকডাউন হয়ত আমাদের অনেক ব্যবসায়িক ক্ষতি করেছে কিন্তু ফিরিয়ে দিয়েছে এমন মনমুগ্ধকর পৃথিবীকে। থ্যাংক ইউ লকডাউন।”