লকডাউনে কাজ নেই, গলায় দোপাট্টা বেঁধে আত্মহত্যা টিভি তারকার

718
লকডাউনে কাজ নেই, গলায় দোপাট্টা বেঁধে আত্মহত্যা টিভি তারকার 1
লকডাউনে কাজ নেই, গলায় দোপাট্টা বেঁধে আত্মহত্যা টিভি তারকার 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালেও চোখের জল ঝরে কিন্তু দেখতে পাওয়া যায়না। আর যখন দেখা যায় তখন সে জল শুকিয়ে তারই জন্য বেদনার কলি ফুটিয়ে রেখে যায়। এ কান্না ৪৪ দিনের লকডাউন সমাপ্ত হয়ে চতুর্থ দফা লকডাউন শুরুর ৪৮ ঘন্টা আগের। লকডাউনের জেরে টানা আড়াই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে স্কুল, কলেজ, অফিস-কাছারি সহ বিভিন্ন কর্মসংস্থান। বন্ধ রয়েছে বলিউড, টলিউডের সমস্ত শুটিংও। করোনার কুপ্রভাব পড়েছে বিনোদন জগতেও। শুটিং বন্ধ। কাজ নেই। সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে গৃহবন্দি হয়েছেন সকলেই। সারাদিন কাজ ছেড়ে বাড়িতে থাকাই যায় কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ কোথায় পাওয়া যাবে?

এমনই সঙ্কটে আজ পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে অভিনেতা অভিনেত্রীদেরও। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে শুধু মৃত্যুসংবাদ শোনা যাচ্ছে চারিদিকে। এরই মধ্যে ঘটল এক মর্মান্তিক ঘটনা। লকডাউনে কাজ হারিয়ে ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে আত্মঘাতী হলেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা মনমীত গ্রেওয়াল। মাত্র ৩২ বছর বয়স হয়েছিল মনমীতের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে গত শুক্রবার রাতে তিনি তাঁর নভি মুম্বইয়ের আবাসনে আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর স্ত্রী ও বাবা-মা রয়েছেন। বছর দুই আগে বিয়ে করেছিলেন মনমীত। ‘আদত সে মজবুর’, ‘কূলদীপক’ প্রভৃতি বেশ কিছু সিরিয়ালে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাঁকে।

লকডাউনে কাজ নেই, গলায় দোপাট্টা বেঁধে আত্মহত্যা টিভি তারকার 3

মনমীতের স্ত্রী জানিয়েছেন, স্বামীকে গলায় দোপাট্টার ফাঁস দিয়ে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তিনিই প্রথম দেখেছিলেন। স্বামীকে ফাঁস থেকে মুক্ত করার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন মনমীতের স্ত্রী। প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও তাঁর করোনা সংক্রমণ ঘটেছে ভেবে কেউ মনমীতকে ফাঁস থেকে মুক্ত করার জন্য এগিয়ে আসেননি। শেষে এক নিরাপত্তারক্ষী এসে ফাঁস খুলে দেহ উদ্ধার করেন। এরপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মনমীতকে মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের মতে হাসপাতালে আনার অনেক আগেই হয়ত ঝুলন্ত অবস্থাতেই মৃত্যু হয়েছিল মনমীতের।

লকডাউন শুরুতে সরকার আবেদন করেছিলেন, বাড়ি ওয়ালারা যেন এই সময় ভাড়া না নেন। কিন্তু শুনবে কে? তাছাড়া বাড়ি ওয়ালাদেরই বা চলবে কী করে? এদিকে লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন শুটিং বন্ধ। এইসময় কাজের সুযোগ না পাওয়ার কারণে অর্থ উপার্জনের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় মনমীতের। এ দিকে বাজারে তাঁর প্রচুর ধারও ছিল। বাড়িভাড়া হিসেবে মাসিক ৮,৫০০ টাকাও তিনি জোগাড় করতে পারেননি। স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে সামান্য কিছু অর্থ সংগ্রহ করলেও তাতে বেশি দিন খরচ সামলাতে পারেননি তিনি। আর তাই বেশকিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। এরপর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন মনমীত। অভিনেতা হিসেবে সফল হতে শুরু করার পরই এই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন মনমীত, নিয়ে এসেছিলেন বাবা মাকে। তারপর বিয়ে করেন। স্বপ্ন ছিল ক’টাবছর পর নিজে ফ্ল্যাট কিনে চুটিয়ে সংসার করবেন।