ফের ২০১৭-র পুনরাবৃত্তি! ভেঙে গেল দূর্গাপুর ব্যারেজের ৩১ নং লকগেট, বন্যার আশঙ্কা বিস্তীর্ণ এলাকায়

275
ফের ২০১৭-র পুনরাবৃত্তি! ভেঙে গেল দূর্গাপুর ব্যারেজের ৩১ নং লকগেট, বন্যার আশঙ্কা বিস্তীর্ণ এলাকায় 1
ফের ২০১৭-র পুনরাবৃত্তি! ভেঙে গেল দূর্গাপুর ব্যারেজের ৩১ নং লকগেট, বন্যার আশঙ্কা বিস্তীর্ণ এলাকায় 2

ওয়েব ডেস্ক : ২০১৭ সালে একইভাবে লকগেট ভেঙে বিপত্তিতে পড়েছিল বাঁকুড়া, বর্ধমান সহ একাধিক পুরসভা। সে সময় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বেশকিছু জায়গায়। তিনবছর পর শুক্রবার রাতে দুর্গাপুর ব্যারেজের ৩১ নম্বর লকগেট ভেঙে ওই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। শুক্রবার রাতে দামোদরের বুকে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন একদল মৎস্যজীবী। সে সময় তাঁরা দেখতে পান বাঁকুড়ার বড়জোড়ার দিক থেকে দুর্গাপুরের দিকে আসতে ৩১ নম্বর লকগেট দিয়ে হুড়হুড় করে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। কিছু একটা সমস্যা হয়েছে আঁচ করতে পেরে তাঁরা কিছুটা কাছে গিয়ে দেখেন ৩১ নং লকগেটের একটি অংশ ভেঙে গিয়েছে৷ এর জেরে সেখান থেকে জল বেরিয়ে যাচ্ছে। দেরি না করে মৎসজীবীরাই খবর দেন সেচ দপ্তরের কর্মীদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ইঞ্জিনিয়াররা পৌঁছলেও ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশী যে তা দেখে রীতিমতো আশঙ্কায় ইঞ্জিনিয়াররা।

এদিকে জলের জন্য পশ্চিম বর্ধমান বাঁকুড়া, দুর্গাপুর ও আসানসোল পুরসভা প্রত্যেকেই এই ব্যারেজের উপরই নির্ভরশীল। বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি ৩১ নং ব্যারেজ থেকেই জল সরবরাহ করা হয়। ফলে লকগেট ভেঙে যাওয়ায় যেভাবে ব্যারেজ থেকে হাজার হাজার কিউসেক জল বেরিয়ে যাচ্ছে তাতে একাধিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ব্যারেজ জলশূন্য হওয়ার একটা বড় সম্ভাবনা রয়েছে, ঠিক তেমনই এত পরিমাণ জল ব্যারেজ থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সম্ভাবনা কোনোমতেই উড়িয়ে দেওয়া সম্ভন নয়।

ফের ২০১৭-র পুনরাবৃত্তি! ভেঙে গেল দূর্গাপুর ব্যারেজের ৩১ নং লকগেট, বন্যার আশঙ্কা বিস্তীর্ণ এলাকায় 3

লকগেট ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েই শনিবার সকাল থেকে ঘটনাস্থলে রয়েছেন দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগস্তি, পুরনিগমের ৪ নম্বর বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল। এদিন মেয়র দিলীপ অগস্তি জানান, ঘটনার জেরে শহরে যাতে কোনোভাবেই পানীয় জলের অভাব না দেখা দেয় তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি একেই এত পরিমাণ জল বেরিয়ে যাওয়ায় পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে, ফলে এই মুহূর্তে যাতে কেউ অযথা জল অপচয় না করে তা নিয়ে সচেতন করতে শহর জুড়ে চলছে মাইকিং।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানোতরের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সরাসরি রাজ্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার। এদিন সুভাষবাবু দাবি করেন, “তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা খেকেও শিক্ষা নিয়েও প্রয়োজনীয় কোনও ব্যবস্থা নেয়নি সেচ দফতর।” তবে এই ঘটনায় বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল জানিয়েছেন, “২০১৭ সালে ওই ঘটনার পর লকগেট মেরামতির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যেই শনিবার ফের একই দুর্ঘটনা ঘটে গেল।”