গুজবে ভর করে বর্বরোচিত হত্যাকান্ড মহারাষ্ট্রে, দুই সাধু সহ তিনজনকে পিটিয়ে মারল জনতা

647
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনা আতঙ্ককে ছড়িয়েও কেঁপে উঠল দেশ। এক ভয়ংকর, বর্বরতার ভাইরাল হওয়া ভিডিও ভারতের সেই নির্মম সত্যকে আরও একবার সামনে এনেদিল যে নিষ্ঠুরতার বলি হয়ে মৃত্যু হয়েছিল পহেলু খান, তাবরেজ আনসারি সহ আরও অনেক হতভাগ্যর। যে নির্মমতার নাম গনপিটুনি, প্রতিবছরই যার জেরে লজ্জায় ভারতের মাথা নত হয়ে যায় বিশ্বের কাছে। এবার সেই গণপিটুনির শিকার হলেন দুই নিরপরাধ সন্ন্যাসী ও তাঁদের গাড়ির চালকের। দুদিন আগে ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায়। যার ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড় দেশ। জানা গেছে ওই দুই সন্ন্যাসী যার মধ্যে একজনের বয়স সত্তরের ওপরে যাচ্ছিলেন তাঁদেরই এক অগ্রজ সন্ন্যাসীর শেষকৃত্যে যোগ দিতে। লকডাউনের কারনে পুলিশ তাঁদের প্রধান সড়ক দিয়ে যেতে বাধা দেওয়ায় তাঁরা জঙ্গলের পথ ধরেন কিন্তু রাস্তায় গাড়ি খারাপ হয়ে যায় আর তারপরেই ওই নৃশংস ঘটনা। পুলিশের সামনেই পিটিয়ে মারা হয় দুই সন্ন্যাসী ও চালককে।

Advertisement

মহারাষ্ট্রের এই আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় কিছুদিন আগে গুজব রটে লকডাউনের মাঝে রাতে চুরি হচ্ছে। বাচ্চাদের বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে কিডনি খুলে নেওয়া হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ আর লোকের মুখে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সন্ত্রস্ত মানুষ গ্রামে ঘিরে পাহারা দিতে শুরু করে রাতে। আর এরই মাঝে গুজরাটের সুরাট অভিমুখী ওই তিনজন গিয়ে পড়েন গডানচিনচিল নামের ওই গ্রামে। মুহূর্তেই বাঁশ , লাঠি , টাঙ্গি, কুড়াল নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রায় দু’শ গ্রামবাসী। ছেলেধরা ধরে নিয়েই শুরু হয় বেধড়ক মার। তাদের গাড়ি উল্টে দিয়ে ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসেও নিয়ন্ত্রন করতে পারেনি গ্রামবাসীদের। পুলিশের উপস্থিতিতেই চলতে থাকে নির্মম গনপ্রহার। অভিযোগ পুলিশ পর্যাপ্ত  ব্যবস্থা নেয়নি বরং পুলিশ প্রথমে একটি ঘরের ভেতরে তাঁদের ঢুকিয়েও পরে বের করে নিয়ে এসে নিজদের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হয়। জনতার কাছে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে পুলিশ। ভাইরাল ভিডিওতে পুলিশের এই ভয়ংকর ছবি সামনে এসেছে।

Advertisement
Advertisement

মহারাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে এই ঘটনার পর কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকদেরও সাসপেন্ড করা হয়েছে।এদিকে ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক রং দিতে উঠে পড়ে লেগে যায় কিছু শক্তি। রাজ্যের জোট সরকারের পুলিশমন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা অনিল দেশমুখ। সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, যারা একাজ করছে তাদের ওপর কড়া নজর রাখছে মহারাষ্ট্র সাইবার সেল। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোট সরকারের পুলিশমন্ত্রী অনিল দেশমুখ রবিবার টুইটারে লিখেছেন, ‘পালঘরে হামলাকারী ও আক্রান্তরা একই সম্প্রদায়ের।’

খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভব ঠাকরেকে ফোন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যল মিডিয়াতেও কোনও প্রকার ভুয়ো খবর বা উত্তেজনা ছড়ালেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন শাহ। রাজ্যস্তরের যে কোনও গণপিটুনির ঘটনাকেই কড়া হাতে দমন করার বার্তাও দেন অমিত।
উদ্ভব ঠাকরে বলেন, ‘পালগড়ের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তবে আমি অনুরোধ করব এই ঘটনায় কোনও ধর্মীয় রং না লাগাতে।’ তিনি আরও জানান, পালগড় গণপিটুনির তদন্তভার ইতিমধ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে সিআইডির হাতে। ঘটনায় ৫ জন মূল অভিযুক্ত সহ ১১০ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে ২ জন পুলিশ অফিসারকেও। অভিযুক্তদের আপাতত ৩০ এপ্রিল অবধি পুলিশি হেফাজতে রাখা হবে বলে জানান ঠাকরে।