করোনা মোকাবিলায় মহারাষ্ট্রে ১৫ দিন ১৪৪ ধারা! বাংলায় মিছিল মিটিংয়ে করোনা বিধি নিশ্চিত করতে কমিশনকে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট

560
করোনা মোকাবিলায় মহারাষ্ট্রে ১৫ দিন ১৪৪ ধারা! বাংলায় মিছিল মিটিংয়ে করোনা বিধি নিশ্চিত করতে কমিশনকে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট 1

নিউজ ডেস্ক: নৈশ কারফিউ, সপ্তাহান্তে লকডাউন কাজে এল না; করোনা রুখতে তাই এবার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে উদ্ধব ঠাকরের সরকার। রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করল রাজ্য সরকার। ১৪ এপ্রিল রাত ৮ টা থেকে ১ মে সকাল ৭ টা পর্যন্ত অর্থাৎ ১৫ দিন এই রাজ্য জুড়ে কার্ফু বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়। মঙ্গলবার ১৭ পাতার নির্দেশিকা জারি করে আবার সবিস্তারে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এই কারফিউর। জারি করা এই কারফিউর নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্রেক দ্য চেন’।

করোনা মোকাবিলায় মহারাষ্ট্রে ১৫ দিন ১৪৪ ধারা! বাংলায় মিছিল মিটিংয়ে করোনা বিধি নিশ্চিত করতে কমিশনকে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট 2

গোটা দেশেই ক্রমশ ভয়ঙ্কর চেহারা নিচ্ছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। যে রাজ্যগুলো সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ, তাদের মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র। রাজ্যে নাইট কার্ফু জারি থাকলেও রাশ টানা যাচ্ছে না কোভিড আক্রান্তের সংখ্যায়। মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৬০ হাজার ২১২ জন।

করোনা মোকাবিলায় মহারাষ্ট্রে ১৫ দিন ১৪৪ ধারা! বাংলায় মিছিল মিটিংয়ে করোনা বিধি নিশ্চিত করতে কমিশনকে নির্দেশ দিল হাইকোর্ট 3

সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব থাকরে জানিয়েছেন, ‘এটাকে লকডাউন বলতে চাই না, তবে গোটা রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হচ্ছে। আগামীকাল রাত ৮টা থেকে যা জারি হবে।‘ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১ মে পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের সমস্ত স্কুল, কলেজ, সিনেমা হল, থিয়েটার, রেস্তোরাঁ শপিং মল থেকে শুরু করে সমস্ত ধার্মিক প্রতিষ্টান, সবকিছুই বন্ধ থাকবে। তবে হোটেলের টেক-অ্যাওয়ে কাউন্টার ও খাবারের হোম ডেলিভারি জারি থাকবে বলেই জানানো হয়েছে। ছাড় থাকবে জরুরী ভিত্তির কাজে যুক্তদের পরিবহন করা ট্রেন ও বাস পরিষেবায়। পেট্রল পাম্প খোলা থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিমানবাহিনীর মাধ্যমে রাজ্যে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার আবেদন করে রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী। তবে বাকি সবক্ষেত্রে কড়া নজরদারি চালিয়ে মহারাষ্ট্র সরকার ভীষণ কড়াভাবেই গোটা কার্ফু বহাল রাখবে বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে বাংলাতেও করোনার বাড়বাড়ন্ত প্রকট হয়ে ধরা দিচ্ছে। মঙ্গলবার রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে সংক্রমিত হয়েছেন ৪ হাজার ৮ শত ১৭ জন। মারা গিয়েছেন ২০ জন। মঙ্গলবারের বুলেটিন অনুযায়ী সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে ২ হাজার ৫১৯ জন, যার ফলে এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ২৯ হাজার ৫০ জন।

করোনার সাথে লড়াইতে প্রস্তুত থাকতে সোমবারই রাজ্যে নবান্নে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। হাসপাতালগুলিকে গত বছরের থেকে ২০ শতাংশ বেশি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিকাঠামো তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আরটিপিসিআর টেস্টের সংখ্যাও বাড়াতে বলা হয়েছে। অক্সিজেন ও অ্যাম্বুল্যান্সের পর্যাপ্ত পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি কোভিড গাইডলাইন নিয়ে রাজ্যের মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিককেও কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ রাজনৈতিক সমাবেশে বা যে কোনও জমায়েতে কোভিড গাইডলাইন মানা হচ্ছে কিনা সুনিশ্চিত করতে হবে। একসঙ্গে বেশি ভিড় যাতে না হয়, নজরে রাখতে হবে। নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত রাজনৈতিক নেতাদের মাস্ক পরতে হবে। কর্মীদেরও মাস্ক পরতে জোর দিতে হবে রাজনৈতিক নেতাদের। আর এই সকল বিষয় সুনিশ্চিত করতে হবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও রাজ্যের জেলাশাসকদের।

Previous articleআজকের রাশিফল দেখে নিন একনজরে
Next articleমারণ ব্যাধির তাণ্ডব; সংক্রমণ ও মৃত্যুর নিরিখে ভারতে নতুন রেকর্ড করোনার