দশ বছর ধরে পার্টির আর সরকারের খেয়ে এখন এর ওর সঙ্গে বোঝা পড়া! ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে নাম না করে শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমন মমতার

786
দশ বছর ধরে পার্টির আর সরকারের খেয়ে এখন এর ওর সঙ্গে বোঝা পড়া! ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে নাম না করে শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমন মমতার 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: একেবারে ‘টাকা’খাওয়ার অভিযোগ এনে ফেললেন মমতা ব্যানার্জী। এতদিন কিছুই বলেননি সেই অর্থে। গত কয়েকমাস ধরে দলের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ফাটল চোখের সামনে বড় হতে দেখেছেন। অপেক্ষা করেছেন সব কিছু মিটে যাবে হয়ত সেই অপেক্ষায় কিন্তু সময় বুঝিয়ে দিয়েছে আর কিছুই করার নেই। হাতের বাইরেই চলে গেছেন তাঁর প্রিয় সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তাই বোধহয় ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেল। জলপাইগুড়ির সভা থেকে বলেই ফেললেন, “১০ বছর পার্টির খেয়ে এখন বোঝাপড়া, সহ্য করব না আর।” নাম না ধরলেও এই উক্তির মধ্যে দিয়ে তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করেছেন বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, বিক্ষুব্ধ নেতাদের দলে বরদাস্ত করা হবে না।
শুভেন্দু – তৃণমুল সম্পর্কে দুরত্ব এখন কমার নয়।তার মানভঞ্জন করতে কম কাঠখড় পোড়াননি দলের শীর্ষ নেতারা।তবে আশায় জল ঢেলে শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন আর একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার হেলিপ্যাড ময়দানে তৃণমূলকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, সংবিধানে রয়েছে ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল, কিন্তু এখন ফর দ্য পার্টি, বাই দ্য পার্টি।কেন থাকবে? এটা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক।স্পষ্ট করে বলেন এ রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

দশ বছর ধরে পার্টির আর সরকারের খেয়ে এখন এর ওর সঙ্গে বোঝা পড়া! ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে নাম না করে শুভেন্দুকে তীব্র আক্রমন মমতার 2

এদিন জলপাইগুড়ির সভায় এই আক্রমণের পাল্টা দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি বড় বা ও বড়— দলে এর কোনও প্রয়োজন নেই। ১০ বছর পার্টির হয়ে খেয়ে,ভোটের সময় এর সঙ্গে ওর সঙ্গে বোঝাপড়া?‌ আমি এদের সহ্য করব না।’‌ ২০০৬ সালে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে কাঁথি দক্ষিণ বিধানসভা থেকে জয়লাভ করেন।২০০৯ সালে তমলুক লোকসভা নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে শিল্প দফতরের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। ২০১৪ সালেও নিজের আসনে জয়ী হন শুভেন্দু। ২০১৬ সালে পদত্যাগ করে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করেন। সেখানেও জয়ী হন। পরিবহণ, সেচ দফতরের মত গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

এদিকে আগামী ১৯ ডিসেম্বর রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ ওই দিনই তাঁর শুভেন্দুর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে যাওয়ার কথা৷ অমিত শাহের উপস্থিতিতেই শুভেন্দু গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।এমনকি বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ও দাবি করেছেন, বিজেপির সঙ্গে শুভেন্দুর কথা হয়েছে৷ দু’-চারদিনের মধ্যেই তিনি বিজেপি-তে যোগ দেবেন৷

ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামের বিধায়ককে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জেড নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সেইসঙ্গে তাঁকে দেওয়া হবে বুলেটপ্রুফ গাড়িও। তাই শুভেন্দুর বিজেপিতে যাওয়া একপ্রকার সময়ের অপেক্ষা বলেই দাবি করছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা।