কনকদূর্গা সহ তিন মন্দিরে ৩.৭৫ কোটি!আদিবাসী নেতাদের ‘দেখার’ অনুরোধ, ‘আপনি আপনাদের সঙ্গে আছেন তো?’ ঝাড়গ্রামের নেতাকেই প্রশ্ন মূখ্যমন্ত্রীর

524
কনকদূর্গা সহ তিন মন্দিরে ৩.৭৫ কোটি!আদিবাসী নেতাদের 'দেখার' অনুরোধ, 'আপনি আপনাদের সঙ্গে আছেন তো?' ঝাড়গ্রামের নেতাকেই প্রশ্ন মূখ্যমন্ত্রীর 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: দুর্গা পূজা পিছু ৫০হাজার টাকা তো ছিলই, হিন্দু মন যোগাতে এবার সরকারি কোষাগার থেকে মন্দির সংস্কারেও টাকা বরাদ্দ করলেন মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বুধবার ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জামবনী থানার কনকদূর্গা মন্দির, ৬নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে গুপ্তমনির মন্দিরকে প্রথমে ১ কোটি টাকা করে ২ কোটি বরাদ্দ করেন, নয়াগ্রামের রামেশ্বর মন্দিরের জন্য বরাদ্দ করেন ৭৫লক্ষ টাকা। পরে কনকদূর্গা মন্দিরের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে করা হয় ২কোটি টাকা। এদিন প্রশাসনিক সভা শেষ করেই মূখ্যমন্ত্রী ছুটে গিয়েছেন কনকদূর্গা মন্দিরে। সেখানে পুজো দেন তিনি। আর তারপরেই বাড়ানো হয় বরাদ্দ।

প্রশ্ন উঠেছে কোভিড কালীন সময়ে জোর ধাক্কা খেয়েছে রাজ্যের রাজস্ব আদায়। জরুরি কালীন অবস্থা ছাড়া উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ নেই বললেই চলে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্র ছাড়া বন্ধ করা হয়েছে রাজ্যে চাকরির ক্ষেত্রে নতুন পদ সৃষ্টি স্থগিত করা হয়েছে। সেই জায়গায় মন্দিরের জন্য বরাদ্দ কেন? বিশেষ করে তিনটি মন্দিরের কোনটিই ভেঙে পড়ার জায়গায় নেই তাহলে এখন এই সময়ে বরাদ্দ কেন?

উত্তর অবশ্য একটাই, শাসকদলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া মানুষের সমর্থন ফেরানো এবং হিন্দুত্বের ধুয়ো তুলে বিজেপি সেই সমর্থনে ভাগ বসিয়েছে তাই তৃনমূলের ‘মুসলিম প্রীতি’র অভিযোগ খন্ডন করে খানিকটা হিন্দু ঘেঁষা রাজনীতি করা। যে কারনে দুর্গা পূজা পিছু ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ বেড়েছে ঠিক সেই কারনেই জঙ্গল মহলের মন্দির সংস্কারে বরাদ্দ এমনটাই মনে করেছে অভিজ্ঞ মহল।

আরও পড়ুন -  নরেন্দ্র মোদীকে মিথ্যাবাদী আর নির্মলা সীতারামনকে কালনাগিনী বলে বেনজির আক্রমণ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

এই তিনটি মন্দির সংস্কার বাবদ বরাদ্দের পাশাপাশি রাজ্যের প্রথম প্রস্তাবিত আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ চূড়ান্ত করা হয় এদিন। সাধু রামচাঁদ মুর্মুর নামেই সেই বিশ্ববিদ্যালয় হবে এমনটাই স্থির হয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গলমহলের লোধা উপজাতিদের ছেলেমেয়েদের জন্য একটি আবাসিক স্কুলের ঘোষনাও করেন মূখ্যমন্ত্রী। মূখ্যমন্ত্রী জঙ্গলমহলের আদিবাসী জনজাতির ভোট নিয়ে কতটা চিন্তিত তা বোঝা গেছে আদিবাসী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তায়।

আরও পড়ুন -  চিকিৎসার সুযোগই মেলেনি, ৬০০ কিলোমিটার সহকর্মীর লাশের সাথেই ফিরলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পরিযায়ীরা

প্রশাসনিক বৈঠক চলাকালীন গ্রামীণ রাস্তা ও স্কুল নিয়ে জাকাত মাঝি পারগানা মহলের দাবি-দাওয়ার দুটি তালিকা প্রশাসনিক কর্তাদের হাতে তুলে দেন এবং ‘দেখে নেওয়ার’ নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ, আপনারা নির্বাচনের সময় নানারকম সংগঠন তৈরি করেন। সে করুন, আপনারা তৈরি করতেই পারেন, সেটা আপনাদের ফ্রিডম (স্বাধীনতা)। কিন্তু আপনারা (কোনও কাজ) বলেছেন, কিন্তু আমি করিনি। এরকম একটাও কাজ হয়নি। প্রত্যেকটা করে দেওয়া হচ্ছে। আপনাদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ করব যে আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। সরকারের সঙ্গে থাকুন। মা-মাটি-মানুষের সরকারের সঙ্গে থাকুন।’ এরপরই অপর এক প্রতিনিধি একটি সেতুর সঙ্গে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরির দাবি জানান। তা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে তৈরি হবে বলে আশ্বস্ত করেন মূখ্যমন্ত্রী। তারপর আরও দাবি জানালে মমতা বলেন, ‘পরে দেব। সব তো দিয়েছি, যা চেয়েছেন, সব দিয়েছি, এবার আপনারা কিছু দিন।’

আরও পড়ুন -  তৃনমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে নওয়াপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের ফল বিতরণ

তবে সব কিছু কেই ছাপিয়ে গেছে মূখ্যমন্ত্রী কর্তৃক এদিন দলের ঝাড়গ্রাম শহর সভাপতি প্রশান্ত রায়ের প্রতি ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্ন। হাউস ফর অল প্রকল্পে যাঁদের জমি নেই তাঁরা কী ভাবে সুবিধা পেতে পারেন এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন রায়। মূখ্যমন্ত্রী তাঁকে থামিয়ে বলেন, “আগে বলুন দেখি আপনি আমাদের সঙ্গে আছেন কী না!” জেলার ব্লক সহ সভাপতিকে এই প্রশ্ন শোনার পরই স্তব্ধ হয়ে যায় সভা। হকচকিয়ে যান রায়। পরে তৃণমূলের এক নেতা জানিয়েছেন, “এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন যে কে আমাদের সঙ্গে আছে আর কে নেই?”

কনকদূর্গা সহ তিন মন্দিরে ৩.৭৫ কোটি!আদিবাসী নেতাদের 'দেখার' অনুরোধ, 'আপনি আপনাদের সঙ্গে আছেন তো?' ঝাড়গ্রামের নেতাকেই প্রশ্ন মূখ্যমন্ত্রীর 2