ফাইনাল সেমিস্টার বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি মমতার

54

ওয়েব ডেস্ক : ফাইনাল সেমিস্টার নিয়ে ইউজিসির সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই একাধিকবার জলঘোলা হয়েছে। এবার কেন্দ্রীয় সরকারের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফাইনাল সেমিস্টার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেলে নাইসেডের অত্যাধুনিক পরীক্ষাগারের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। ভার্চুয়ালী উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনই প্রধানমন্ত্রীর কাছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউজিসিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলুক কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিকাশ মন্ত্রক।

আরও পড়ুন -  আসছে আমফান, বৃষ্টির সাথে দিঘায় ব্যাপক জলোচ্ছাস, ৪০হাজার মানুষকে সরানো হল নিরাপদ স্থানে

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গত ২৯ এপ্রিল কেন্দ্রীয় জানিয়েছিল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। সেই মতো আমরা পুরনো ফল বিশ্লেষণ করে পড়ুয়াদের চূড়ান্ত বর্ষের ফল তৈরি করেছিলাম। কিন্তু গত ৬ জুলাই সেই সিদ্ধন্ত খারিজ করে একটি নির্দেশিকা আসে। তাতে বলে হয়েছে, চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা বাধ্যমূলক। ”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়বেন এরাজ্যের কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী। কারণ, একেই এই মূহুর্তে পশ্চিমবঙ্গে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। কিভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তা বুঝে ওঠার আগেই প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। এর জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজ্যের সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এইবছর আদৌ খোলা সম্ভব হবে কিনা তাও জানা নেই৷ ফলে পরীক্ষা কবে নেওয়া যাবে তাও অনিশ্চিত। তারওপর অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রেও বহু অসুবিধা রয়েছে। এমন অনেক ছাত্রছাত্রী রয়েছে যাদের অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহারের সামর্থ নেই। এর ফলে যদি স্কুল-কলেজগুকি খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়, সেক্ষেত্রে ঝুলে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের ভাগ্য। এই নিয়ে এদিন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিকাশ মন্ত্রককের তরফে ইউজিসি-কে নির্দেশ দিতে অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন -  লকডাউন কেড়েছে ছেলের ব্যবসা, নিজের পেশাও! বেলদায় ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা ব্যক্তির

এবিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মত অবশ্য অন্য৷ তারা আবার বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই পরীক্ষা নেওয়ার বিপক্ষে। তা সে শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগের পরীক্ষাই হোক কিংবা ছাত্রছাত্রীদের৷ সে কারণেই যেহেতু কেন্দ্রের পাঠানো প্রথম নির্দেশিকায় ফাইনাল পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেই বিষয়টিতেই জোর দিতে চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। যদিও কলেজ – বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল সেমিস্টারের বিষয়টি আপাতত সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। সোমবার বিষয়টি নিয়ে আদালতে শুনানি হলেও শীর্ষ আদালতের তরফে কোনও রায় দেওয়া হয়নি।

ফাইনাল সেমিস্টার বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে আর্জি মমতার 1