মোটা পণের লোভে ফের বিয়ের ইচ্ছায় গোখরো সাপের ছোবল খাইয়ে খুন স্ত্রীকে, ধৃত ব্যাংক কর্মী

1919
মোটা পণের লোভে ফের বিয়ের ইচ্ছায় গোখরো সাপের ছোবল খাইয়ে খুন স্ত্রীকে, ধৃত ব্যাংক কর্মী 1
মোটা পণের লোভে ফের বিয়ের ইচ্ছায় গোখরো সাপের ছোবল খাইয়ে খুন স্ত্রীকে, ধৃত ব্যাংক কর্মী 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: থাকেন পাকা মজবুত ঘরে। ঘুমোন পালঙ্কের ওপর। ঘুমোন স্ত্রীর সাথেই অথচ বারবার সেই ঘরে সাপ ঢোকে কী করে? যদিও বা ঢোকে তো পালঙ্কে ওঠে কী করে? আর যদিও বা ওঠে তবে সাপ কেন স্ত্রীকেই কামড়ায়? একবার নয়, কয়েক মাসের ব্যবধানে দু’দুবার। সন্দেহটা দানা বাঁধে প্রথম বাপের বাড়ির। দ্বিতীয়বার সাপের কামড় এবং মেয়ের মৃত্যুর পর মৃতার বাপের বাড়ির লোকেরা বিষয়টি জানায় পুলিশকে। পুলিশ তদন্তে নেমে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে দেখে সাপের কামড়ের অন্তত চারঘন্টা পরে স্বামী তার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।

এরপর পুলিশ সন্দেহ হওয়ায় স্বামীর ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করে এবং সার্চ ব্রাউজার রেকর্ড ঘেঁটে দেখতে পায় লোকটি ইন্টারনেট সার্চ করে বেশিরভাগ শুধু সাপের ভিডিও দেখত এবং সাপের স্বভাব বা বিহেভিয়ার স্টাডি করত, সাপ ধরার কৌশলও জানত। এরপরই কেরলের এক বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ যিনি ওই মহিলার স্বামী। টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায় ঘুমন্ত স্ত্রীর গায়ের ওপরে গোখরো সাপ ছেড়ে দিতেন ওই ব্যক্তি। সাপটিকেও পাওয়া যায় বাড়িরই একটা অংশ থেকে। না, এবার আর সাপটিকে ধরে বাইরে চালান করে দেওয়া যায়নি। কামড়ের পরই সেটা পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তির হাত ফসকে।

মোটা পণের লোভে ফের বিয়ের ইচ্ছায় গোখরো সাপের ছোবল খাইয়ে খুন স্ত্রীকে, ধৃত ব্যাংক কর্মী 3

গোয়েন্দা কাহিনীকেও হার মানিয়ে দেওয়া এই সত্যি কাহিনীর নায়কের নাম সুরজ আর হতভাগিনী নারীর নাম উত্তরা। এঁদের এক বছরের একটি শিশুও রয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুরজের লক্ষ্য ছিল স্ত্রীকে হত্যা করে অপর কোনও মহিলাকে বিয়ে করবেন।গত ৭ মে কোল্লাম এলাকায় নিজের বাড়ির ভেতরে উত্তরাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন জানতে পারে, তিনি সাপের কামড়ে মারা গিয়েছেন। সেকথা শুনে তাঁদের সন্দেহ হয়। কারণ ফেব্রুয়ারি মাসে আরও একবার তাঁকে সাপে কামড়েছিল। তিনি কোনও রকমে বেঁচে উঠেছিলেন। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, ২৭ বছর বয়সী সুরজ আগেও উত্তরাকে সাপের কামড় খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন। সুরেশ নামে এক বন্ধুর সহায়তায় তিনি অত্যন্ত বিষাক্ত একটি সাপ জোগাড় করেন। সেই সাপ উত্তরাকে কামড়ায়। তিনি একমাস হাসপাতালে থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপর কিছুদিন তিনি বাপের বাড়িতে ছিলেন।

গত এপ্রিল মাসে সুরেশের সহায়তায় সুরজ একটি গোখরো সাপ জোগাড় করেন। ৬ মে রাতে তিনি ঘুমন্ত স্ত্রীর গায়ে সাপটিকে ছেড়ে দেন। সাপটি দু’বার উত্তরাকে দংশন করে। সুরজ তখন খাটে বসে সব লক্ষ করছিলেন। পরদিন তিনি উত্তরাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে উত্তরা মারা গিয়েছেন। এবার আর স্ত্রীকে বেঁচে ওঠার জন্য চিকিৎসার কোনও সুযোগই দিতে চায়নি সে। উত্তরাকে কামড়ানোর পরে সুরজ সাপটিকে ঝোলায় পুরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই গোখরো পালিয়ে যায়। এরপর খুনের সূত্র গোপন করতে মরিয়া সুরজ সারা রাত সাপটিকে খোঁজাখুজি করেন। পরে পুলিশ তার বাড়িতেই আলাদা একটি কামরা থেকে খুঁজে পায় বিষধর সাপটিকে।

তদন্তকারীরা জানান, ব্যাঙ্কের কর্মী হিসেবে সুরজ বেশ শাঁষালো পাত্র ছিল। বিয়ের সময় বরপণ বাবদ টাকা ছাড়াও ১০০ টি সোনার কয়েন পেয়েছিলেন। সুতরাং ছেলেটিকে অন্য কোথাও গছিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ের পরিকল্পনা করছিল সে। মেয়ের বাড়ি থেকে উত্তরার আরও একবার সাপের কামড় খাওয়ার ঘটনা পুলিশকে ভাবিয়ে তুলেছিল। পুলিশ লক্ষ্য করে বাড়িতে সাপ ঢোকার কোনও জায়গা ছিলনা যে কারনে সাপটি পালাতেও পারেনি বাড়ির বাইরে। সে অন্য একটি ঘরেই আত্মগোপন করেছিল। দ্বিতীয়ত একমাত্র খাবারের সন্ধান না পেলে মাটিতে থাকতে অভ্যস্ত সাপ গাছ বা অন্য কিছু বেয়ে ওপরে ওঠেনা আর গোখরো তো একেবারেই নয়। তবে হ্যাঁ সুরজ খুনের একই পদ্ধতি দুবার অবলম্বন করাতেই ফেঁসে গেল। যদি খুনের জন্য এরকমই আর অন্য কোনও ব্যতিক্রমী পথ খুঁজে নিত তবে মুশকিল হত তাকে ধরা।