বদলে যাচ্ছে শ্লোগান, ছিল জল ধর জল ভরো আর হয়ে গেল চোর ধর দলে ভর, ভাগ ভাগ থেকে হয়ে গেছে আয় আয়! খড়গপুরে কটাক্ষ সেলিমের

574
বদলে যাচ্ছে শ্লোগান, ছিল জল ধর জল ভরো আর হয়ে গেল চোর ধর দলে ভর, ভাগ ভাগ থেকে হয়ে গেছে আয় আয়! খড়গপুরে কটাক্ষ সেলিমের 1

বদলে যাচ্ছে শ্লোগান, ছিল জল ধর জল ভরো আর হয়ে গেল চোর ধর দলে ভর, ভাগ ভাগ থেকে হয়ে গেছে আয় আয়! খড়গপুরে কটাক্ষ সেলিমের 2নিজস্ব সংবাদদাতা: ‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্লোগান ছিল জল ধর, জল ভর। আমরা বলেছিলাম, চোর ধর আর জেলে ভর কিন্তু এখন বিজেপি আর তৃনমূলের এখন শ্লোগান হয়ে গেছে, চোর ধর আর দলে ভর। এখন দুই দলই এ ওর দলের চোর ধরছে আর নিজেদের দলে ভরছে।” সাম্প্রতিক দলবদলের রাজনীতিকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।

বুধবার ২৬ দফা দাবীতে খড়গপুর পৌরসভা অভিযান ছিল বাম কংগ্রেসের। ব্যাপক লোক সমাগমের মধ্যেই খড়গপুর পৌরসভার সামনে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিজেপি-তৃণমূলকে এমনই কটাক্ষ করেন সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা। বিজেপি এবং তৃনমূলের ‘আয়ারাম-গায়ারাম’ মার্কা সাম্প্রতিক দলবদল প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিম বলেন বিভাজনের রাজনীতিতে হিসাব নেবার জনগনের ঐক্যকে ভাগ করতে এখন খোল পাল্টাচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপির নেতারা। কিন্তু খোলের মধ্য সেই একই মাল। একই খোলের মধ্যে পুরানো তুলো ভরে মন্ড তৈরি হচ্ছে।”

বদলে যাচ্ছে শ্লোগান, ছিল জল ধর জল ভরো আর হয়ে গেল চোর ধর দলে ভর, ভাগ ভাগ থেকে হয়ে গেছে আয় আয়! খড়গপুরে কটাক্ষ সেলিমের 3

সেলিম বলেন, মজার ব্যাপার হল এক সময়ে সারদা,নারদ ইত্যাদি চিটফান্ড লুঠের চোর জুয়োচ্চোর চিটিংবাজদের নাম ধরে ধরে যে বিজেপি হাঁক পেড়েছিল ভাগ ভাগ, আজ সেই বিজেপি সেই চোরদের খাতির করে বলছে আয়, আয়। চোররা চোরকে ধরে দলে ভরছে। এখানে চোর তাড়াতে হলে জনগনের ঐক্য গড়ে তুলে আন্দোলনের ময়দান বাড়াতে হবে। আর সেই কাজ শুরু হয়েছে বামফ্রন্ট সহ বামদল কংগ্রেস সহ ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি।”

এদিন আরও একটি শ্লোগানের কটাক্ষ করে সিপিএম নেতা বলেন,”এখন নাকি দূয়ারে সরকার। আরে দূয়ারে সরকার মানেতো বাম জমানায় পঞ্চায়েত পৌরসভা। তারপর চালু হয়েছিলো গ্রাম সংসদ, ওয়ার্ড কমিটি। উন্নয়নের কর্মসূচি সহ ধারক বাহক এলাকার জনগনই সামিল হয়েছিলো বাম জমানায়। আর সরকারে এসে মমতা ব্যানার্জী পঞ্চায়েত পৌরসভা পরিকাঠামোকে লাঠে তুলে কাটমানি,দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করলো। আর ক্ষমতার পাঁচ ছয় বছরের মধ্যে পঞ্চায়েতরাজ মানে লোকাল সরকারকে খোঁয়াড়ে পাঠিয়ে লুঠ চালালো। এখন পৌরসভায় প্রশাসক বসিয়ে বকলমে সেই লুঠ চালাছে তৃণমূল। এখন খোঁয়াড় থেকে হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে দূয়ারে সরকার সোজা যমের দুয়ারে হাজির। হাতে স্বাস্থ্যসাথীর ভাঁওতা। ঠিক যেন মোদীর জেরক্স কপি জিরো ব্যালেন্সের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ড। চৌদ্দ পনের লাখ করে এ্যাকাউন্ডে জমা পড়বে সবার, কালো টাকা উদ্ধার করে। উল্টে ব্যাঙ্ক ফাঁকা করে লুঠের টাকা নিয়ে দেশ ছেড়ে পালালো চৌকিদারের আপনজনরা। স্বাস্থ্যসাথীও সেই রকম একটা ভাঁওতা।”

বর্তমানে দল বদলের সার্কাস চলছে বলে সেলিম বলেন, “মমতার সাইনবোর্ড নিয়ে যারা চিটফান্ড নারদা সারদার লুঠ করেছিলো তারাই এখন মোদীর সাইনবোর্ড নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। আসলে তৃণমূলের দুই তোলাবাজ, কাটমানিখোরের এটিম ও বিটিমের লড়াইতে একদল মমতার আশ্রয়ে আর একদল বিজেপির আশ্রয়ে সেই ব্যাবসা চালাবার প্রতিযোগিতায়। ভাগ মুকুল, ভাগ শোভন ভাগ শুভেন্দু মানে ভাগ দাও আশ্রয় নাও। এই সার্কাস জনগন ধরে ফেলেছে জনগনের আদালতে শেষ বিচারের সমর গুনছেন সাধারণ মানুষ।
আমফানে লুঠ, চালচোর,ত্রিপল পর্যন্ত চুরিকরে খায় সেই দল নাম তৃণমূল। আর বিজেপি দেশের সম্পদকে নিজেদের বাপের ভেবে বিক্রি করছে। রেল স্টেশন, রেল সহ রেল লাইন সহ ব্যাঙ্ক বীমা এয়ারপোর্টে সবই বিক্রি করছে বিজেপির মোদী সরকার।”

এদিনের সমাবেশে বামদল ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অমল দাস, অনিত মন্ডল, বিপ্লব ভট্ট, বিষ্ণু বাহাদূর কামী এবং সন্তোষ রানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন সবুজ ঘোড়ই, প্রবীর গুপ্ত ও অমল দাস কে নিয়ে গঠিত সভাপতি মন্ডলী।