এবার পঞ্চায়েত স্তরে করোনা আক্রান্তকে ভর্তি করে পাঠানো হবে হাসপাতালে! নয়া নির্দেশিকা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের

2147

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাড়তি সংক্রমনের মুখে দাঁড়িয়ে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ না করে করোনা আক্রান্তকে সরাসরি প্রয়োজনীয় হাসপাতালে পাঠানো পদ্ধতি চালু করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। আর এই পর্যায়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে একেবারে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর থেকেই। করোনা আক্রান্তকে সরাসরি ভর্তি করে নেওয়া হবে গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক, পৌরসভা অথবা জেলা স্তরে আর সেখান থেকেই সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে।

গ্রামপঞ্চায়েত কিংবা পৌরসভার আশাকর্মী, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরাই উদ্যোগ নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে পাঠাবেন তাঁদের। এরজন্য আর পুলিশের প্রয়োজন নেই আগের মত। সম্প্রতি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর’য়ের আওতায় একটি পোর্টাল চালু করেছে যেখানে প্রতিদিন বিকালের মধ্যে নতুন করে পাওয়া করোনা আক্রান্তদের তালিকা আপলোড করতে বলা হচ্ছে। জেলা, ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত, পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও আশা ও স্বাস্থ্য কর্মীরা সেই পোর্টাল দেখবেন। এই পোর্টাল দেখবেন শালবনী, ঘাটাল করোনা হাসপাতাল, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও জেলার সেফহোম গুলিও। তালিকা দেখা মাত্রই আক্রান্তকে সরে জমিনে খতিয়ে দেখতে বাড়িতে পৌঁছে যাবেন আশাকর্মী এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁরাই  রোগিকে ভর্তি করে নিয়ে আ্যম্বুলেন্স ডেকে সরাসরি হাসপাতালে পাঠাবেন আক্রান্তকে। কোন ক্ষেত্রে কোন আক্রান্তকে কোন হাসপাতালে পাঠাতে হবে তারও সুনির্দিষ্ট শ্রেনী বিভাজন করে দেওয়া হয়েছে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেশন প্রসিডিউর’ নির্দেশিকায়। বলা হয়েছে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই কাজ করতে হবে। যেমন :

অগ্রাধিকার ১: প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট, অত্যধিক তাপমাত্রা, ডায়রিয়া কিংবা পেটে ব্যথা থাকলে সরাসরি শালবনী করোনা হাসপাতালে পাঠাতে হবে। অগ্রাধিকার ২: আক্রান্তের কো-মর্বিডিটি যেমন হৃদযন্ত্রের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন, সিও পিডি, ক্যানসার ইত্যাদি থাকলে সরাসরি শালবনী পাঠাতে হবে। যদি আক্রান্ত ৫৫বছরের বেশি এবং ১০বছরের কম হয় তাহলেও শালবনী করোনা হাসপাতালে যাবেন।

আরও পড়ুন -  ১২ঘন্টার মধ্যে ফের দুর্ঘটনা, এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত ২ আহত একাধিক

অগ্রাধিকার ৩: মৃদু সংক্রমন যুক্ত করোনা আক্রান্ত যদি ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা যুক্ত হন, কাশি, হাঁচি, গলা ব্যথা ইত্যাদি থাকলে সেফ হোমে যাবেন যেখানে ২৪ঘন্টা ৭দিন চিকিৎসকের নজরদারি ও অক্সিজেন দেওয়ার সুবিধা থাকবে যেমন আয়ুস হাসপাতাল।
অগ্রাধিকার ৪: উপসর্গহীন করোনা রোগি বাড়িতেই থাকবেন যদি তাঁর বাড়িতে থাকার (আলাদা বাথরুম) সুবিধা থাকে নচেৎ তিনি ব্লক বা পৌরসভা স্তরীয় সেফ হোমে থাকবেন।
এছাড়া বিশেষ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছেন করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েরা। যদি কোনও আসন্ন প্রসবা করোনা আক্রান্ত হন তাহলে তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল, শালবনী অথবা ঘাটাল হাসপাতালে প্রসবের জন্য পাঠাতে হবে। আর যদি কোনও করোনা আক্রান্ত প্রসূতির সিজার করার প্রয়োজন হয় তবে কেবলমাত্র মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজেই এই সিজার হবে কারন সেরকম সুবিধা যুক্ত একটি পৃথক সিজার কক্ষ এখানে ডিজাইন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -  পুর্ব মেদিনীপুরের গ্রামের খালে ডলফিন! উপচে পড়ল ভিড়

ভর্তি প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশিকায় বলা হয়েছে প্রথম অগ্রধিকারের আওতায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি কোনও মধ্যপন্থা ছাড়াই শালবনী করোনা হাসপাতালে ভর্তি হবেন এবং এরজন্য শালবনী বা জেলার নিজস্ব আ্যম্বুলেন্স ছাড়াও ফোন করে ১০২ আ্যম্বুলেন্স ডাকা যেতে পারে। মোট কথা দ্রুত রোগিকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হবে।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার প্রাপ্ত করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিও সরাসরি করোনা হাসপাতালে যাবেন যদি শয্যা খালি না থাকে তবে তাঁকে সেফ হোমে রাখা যেতে পারে কিন্ত শালবনীতে শয্যা খালি হলেই আক্রান্তকে পাঠাতে হবে।
তৃতীয় অগ্রাধিকাররে থাকা করোনা আক্রান্তরা থাকবেন আয়ুসের দুটি ক্যাম্পাস, ঘাটাল, ডেবরা এবং খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের সেফ হোমে কারন এখানে ২৪ ঘন্টা ৭দিন চিকিৎসকের নজরদারি ও অক্সিজেন পরিষেবা রয়েছে।
চতুর্থ অগ্রাধিকার প্রাপ্তরা বাড়িতে থাকবেন যদি আলাদা কক্ষ, আলাদা বাথরুম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে নচেৎ তাঁদের সাধারন সেফ হোমে রাখা যেতে পারে।
এই গোটা প্রক্রিয়ায় প্রতিটি স্তরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ফোন নম্বর ও ইমেল আইডি দেওয়া হয়েছে। গ্রামপঞ্চয়েতের সচিব সহ বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা এই ভর্তির কাজটি করবেন। এই গোটা প্রক্রিয়ার মধ্যে বিডিও, বিএমওএইচ, থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা থাকবেন। আ্যম্বুলেন্স পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন এঁরাই। আর যারা বাড়িতে হোম আইসোলেশনে থাকবেন তাঁদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখবেন স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মী, জিএনএম অথবা এএনএম নার্সরা। ১৭দিন পরে আক্রান্তকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এই সার্টিফিকেটের অর্থ সে হোম আইসলেশন মুক্ত তথা করোনা মুক্ত।

এবার পঞ্চায়েত স্তরে করোনা আক্রান্তকে ভর্তি করে পাঠানো হবে হাসপাতালে! নয়া নির্দেশিকা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের 1