করোনা ছুঁতে পারেনি জেলা শাসককে, করোনা উঁকি পুলিশ সুপারের বাংলোতে, জেলা জুড়ে জোড়ায় জোড়ায় করোনা

97

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার করোনা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক তথা জেলাশাসক সম্মানে উর্ত্তীণ হয়ে গেলেন করোনা পরীক্ষায়। মঙ্গলবার জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের রিপোর্ট মোতাবেক করোনা স্পর্শ করতে পারেনি তাঁকে। জেলার পদস্থ আধিকারিকদের করোনা পরীক্ষা পর্বে সোমবারই সরাসরি আয়ুশ হাসপাতালে নমুনা সংগ্ৰহ করা হয়েছিল ৪৩বছর বয়সী পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ডক্টর রশ্মি কমলের। মঙ্গলবার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে তাঁর।

করোনা যুদ্ধে সারা জেলা ছুটে বেড়িয়েছেন তিনি। ছুটেছেন পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রবেশ পথ ওড়িশা সীমান্তের সোনাকোনিয়া থেকে হিজলি শ্রমিক স্পেশালের অভ্যর্থনায়। অজস্র কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে করোনা হাসপাতালে। তাই দুশ্চিন্তা ছিলই কিন্তু শেষ অবধি সেই দুশ্চিন্তার অবসান ঘটল। আয়ুশ হাসপাতালে র পেশেন্ট আইডি নম্বর ৬০১৫৫ থেকে সংগৃহীত ৫৭৪৬৯ নম্বর নমুনাটি কোভিড-১৯জীবানু মুক্ত বলেই জানিয়ে দিল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি ল্যাব।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন দুজন বিডিও। চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের অভিষেক মিশ্র কিংবা কেশিয়াড়ীর বিডিও সৌগত রায়ের পাশাপাশি আক্রান্ত এক পুলিশ আধিকারিক সহ কয়েকজন পুলিশকর্মীও। আক্রমনের আঁচ পড়েছে পুলিশকর্মী পরিবারেও। রেল হাসপাতাল ও শালবনী করোনা হাসপাতাল এবং ডেবরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল মিলিয়ে একাধিক ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী করোনার ছোবল খেয়েছেন। করোনা যুদ্ধের প্রথম সারির সৈনিকদের আহত ঘটনায় তাই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। জেলাশাসকের রিপোর্টে তাই স্বস্তি মিলল কিছুটা।

আরও পড়ুন -  মদের ঠেকের জন্যই মৃত্যু ব্যক্তির, কোলাঘাটে মহিলারাই ভাঙচুর চালালো মহিলারা

যদিও মঙ্গলবারের রিপোর্ট কিছুটা দুশ্চিন্তাও বয়ে এনেছে। আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে পুলিশ সুপারের বাংলোর দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা রক্ষীর। সোমবার বাংলোর ৫ রক্ষীর ফল অমীমাংসিত এসেছিল। মঙ্গলবার ফের পরীক্ষায় ৩৫ বছর বয়সী ওই রক্ষীর পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

আরও পড়ুন -  খড়গপুর পৌরসভা বয়কটে কর্মীরা, লাটে ওঠার মুখে নাগরিক পরিষেবা,শহর জুড়ে স্যানিটাইজেশনের দাবিতে বিক্ষোভ বিজেপির

মঙ্গলবার জেলার রিপোর্টে আরেকটি প্রবনতা প্রমান করেছে শত প্রচার স্বত্তেও করোনা বিধি ঠিকঠাক মানছেননা সাধারন মানুষ। হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, বাইরে থেকে এলে জীবানুমুক্ত হয়ে ঘরে প্রবেশ করা ইত্যাদি মানতে মানুষের অনীহা সর্বনাশের সংক্রমন ঘটাচ্ছে পরিবারের মধ্যে। সোমবার দাসপুরের তাতারপুরে একই পরিবারের চারজন আক্রান্ত ধরা পড়েছিলেন। মঙ্গলবার খড়গপুর শহরের গোলবাজারের এক ব্যবসায়ী পরিবারে চারজন আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও পড়ুন -  পুরীর রথযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ৫ হাজার জনের করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিল ওড়িশা সরকার

একই ভাবে ঘাটালের ইড়পালা, দাসপুরের পাঁচবেড়িয়া, বেলেঘাটা, জোত ভগবান, রাধাকান্তপুর গ্রামে জোড়ায় জোড়ায় পরিবার সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন। রাধাকান্তপুরে মায়ের সাথে আক্রান্ত ৬বছরের বালক। অন্যদিকে ডেবরা থানার বাকলসা সেবকরাম গ্রামে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক পোস্টমাস্টারের মৃত্যুর পর পরিবারে ৭৮বছর বয়সী মা ও ৫৭ বছর বয়সী দাদার করোনা ধরা পড়েছে। সর্বনাশের প্রহর গুনছে ১০ জনের পরিবারটি। এই ঘটনা গুলি মানুষের বেপরোয়া ভাবকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

করোনা ছুঁতে পারেনি জেলা শাসককে, করোনা উঁকি পুলিশ সুপারের বাংলোতে, জেলা জুড়ে জোড়ায় জোড়ায় করোনা 1