‘বিনা পয়সায় চাইনা রেশন, চাকরি চাই সঙ্গে বেতন!’ মেদিনীপুর শহরের রাজপথ অবরোধ শিক্ষিত বেকারদের

1295
'বিনা পয়সায় চাইনা রেশন, চাকরি চাই সঙ্গে বেতন!' মেদিনীপুর শহরের রাজপথ অবরোধ শিক্ষিত বেকারদের 1

'বিনা পয়সায় চাইনা রেশন, চাকরি চাই সঙ্গে বেতন!' মেদিনীপুর শহরের রাজপথ অবরোধ শিক্ষিত বেকারদের 2নিজস্ব সংবাদদাতা: অভিনব শ্লোগান তুলে মেদিনীপুর শহরের রাজপথ অবরোধ করলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কয়েক’শ বেকার যুবক যুবতী। এঁদের কেউ স্নাতক কেউ আবার স্নাতকোত্তর। সঙ্গে ডিগ্রি রয়েছে শিক্ষন প্রশিক্ষণের। কারও বিষয় বিজ্ঞান কারও কলা, কেউ আবার বাণিজ্য বিভাগের। ডিগ্রি নিয়ে বসে রয়েছেন অনেক দিন। কারও চাকরির বয়সই পের হওয়ার মুখে। মঙ্গলবার এরকমই এক ঝাঁক চাকরি প্রার্থী শিক্ষিত যুবকের অবরোধে অবরুদ্ধ হয়ে গেল জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে কালেক্টরেট মোড়। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে চালুর দাবিতে বিক্ষোভে সরগরম হয়ে উঠল মেদিনীপুর শহর।

“ওয়েস্টবেঙ্গল এস এল এস টি ক্যান্ডিডেট অ্যাসোসিয়েশন এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল টিচার্স জব অ্যাসোসিয়েশন” নামক সংগঠনের ব্যানারের তলায় কয়েকশত যুবক যুবতী মঙ্গলবার সমবেত হয়েছিলেন মেদিনীপুর শহরের কলেজ মাঠে। এরপর বিক্ষোভ স্লোগান দিতে দিতে মেদিনীপুর শহর পরিক্রমা করে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে হাজির হয় তারা। সংগঠনের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন নীতির বিরোধিতা করে প্রতিবাদী স্লোগান দেন তারা। তাদের দাবি ২০১৬ সালের পর থেকে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত কোন বিজ্ঞপ্তি কার্যকর হয়নি। বিএড পাশ করে বহু প্রশিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী চাকরির আবেদন করার সুযোগ পর্যন্ত পায়নি। তাই অবিলম্বে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সক্রিয় করতে হবে।সেইসঙ্গে মেধাতালিকা দুর্নীতি মুক্ত করে প্রকাশ্যে আনতে হবে।

'বিনা পয়সায় চাইনা রেশন, চাকরি চাই সঙ্গে বেতন!' মেদিনীপুর শহরের রাজপথ অবরোধ শিক্ষিত বেকারদের 3

আন্দোলনকারী দের অন্যতম শংকর সামন্ত নামের এক যুবক জানান, “আমরা বিনা পয়সায় রেশন চাইনা, আমরা চাই সরকার আমাদের চাকরি দিন আমরা বেতনের টাকায় চাল ডাল কিনে খাব। গত চার বছর ধরে সরকার নবম শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেনীতে নিয়োগের কোনোও বিজ্ঞপ্তি বের করেননি। তাহলে আমরা কোথায় যাব? এ কোন রাজ্যে রয়েছি আমরা যেখানে বছরের পর বছর ধরে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বের হয়না!”

বেলা বারোটা নাগাদ শুরু হওয়া জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ অবরোধ শুরু হওয়ার পর যানজটে আটকে যাওয়া বহু মানুষকেই এদিন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। অনেক সময় এই ধরনের অবরোধে মানুষ বিরক্ত হন কিন্তু মঙ্গলবার দেখা গেল বিরক্ত হওয়ার পরিবর্তে মানুষ দাঁড়িয়ে তাঁদের কথা শুনেছেন। আসলে অনেকেই নিজের ঘরে থাকা বেকার যুবকটির প্রতিচ্ছবি যেন দেখতে পেয়েছেন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে। জেলাশাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দিয়ে অবরোধ তুলে নিয়ে ফিরে যান ওই যুবক-যুবতীরা। রাজ্যের ১০টি জেলায় এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে বিক্ষোভ কারীরা জানালেন।