নির্বাচনের মুখে আদিবাসী বিদ্রোহের আঁচ পেল সরকার! অবরুদ্ধ মেদিনীপুর শহর

1065
নির্বাচনের মুখে আদিবাসী বিদ্রোহের আঁচ পেল সরকার! অবরুদ্ধ মেদিনীপুর শহর 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন যত সামনে আসছে ততই নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন তীব্র করছে বিভিন্ন সংগঠন, গণসংঠন গুলি। এবার সেই পথে দেখা গেল আদিবাসী জনজাতিদের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহালকে। মঙ্গলবার ৩১ দফা দাবি নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসকের দরবারের স্মারকলিপি প্রদান করতে এসে কার্যত নজির বিহীন সমাবেশ ঘটালেন তাঁরা আর তারফলে অবরুদ্ধ হয়ে গেল পুরো মেদিনীপুর শহরই। শুধু তাই নয়, আন্দোলনের সম্মুখভাগে নেতারা এদিন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচনের আগে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে লোকসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হবে অর্থাৎ জঙ্গলমহলে ব্যাপক সমর্থন হারাবে শাসকদল।

এদিন সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মানুষ হাজির হতে শুরু করেন মেদিনীপুর শহরের মূল চারটি প্রবেশ দ্বারে। ম্যাটাডোর, মিনিট্রাক, ট্রেকার, মারুতি ভ্যান, মিনিবাস ইত্যাদি নানা বিধ যানে কাতারে কাতারে মানুষ জমায়েত হন আমতলা, ধর্মা, কেরানীচটি, রাঙামাটি, তাঁতিগেড়িয়া এলাকায়। খড়গপুর, দাঁতন, নারায়নগড়, কেশিয়াড়ি, ডেবরা, পিংলা, সবং, দাসপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, গড়াবেতা, গোয়ালতোড়, শালবনি জেলার সর্বত্র থেকেই হাজারে হাজারে মানুষ সমবেত হয়েছে নারী পুরুষ নির্বিশেষে।

নির্বাচনের মুখে আদিবাসী বিদ্রোহের আঁচ পেল সরকার! অবরুদ্ধ মেদিনীপুর শহর 2

চিরাচরিত পোশাকে সজ্জিত আদিবাসী পুরুষ রমনীরা যেমন ধামসা মাদল নিয়ে এসেছিলেন তেমনি এসেছেন তাঁদের ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র তীরধনুক, টাঙি ইত্যাদি বহন করে। শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ থেকে তাঁরা সারিবদ্ধভাবে জেলা শাসকের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। তাঁদের প্রাথমিক জমায়েতে শুরুতেই স্তব্ধ হয়ে গেছিল মেদিনীপুর শহর ঘেঁষা রানীগঞ্জ-বালেশ্বর ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক। কোনোও রকমের দুর্ঘটনা বা সংঘাত এড়ানোর জন্য পুলিশ বন্ধ করে দেয় ওই সড়ক। ফলে জাতীয় সড়ক স্তব্ধ হয়ে যায় কয়েকঘন্টা। এছাড়া শহরের ভেতরে ও বাইরে যাওয়ার সমস্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবরুদ্ধ হয়ে যায় গোটা শহর।

এদিকে জেলা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার সময় দপ্তরের সম্মুখভাগ ক্ষুদিরাম মোড়, এআইসি মোড়, বিদ্যাসাগর মূর্তি সংলগ্ন মোড় থেকে শুরু করে সংলগ্ন পুরো অংশই জনপ্লাবনে ছেয়ে যায়। ফলে শহরের অভ্যন্তরেও ওই অংশ দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হয়নি কোনও গাড়ি।

আন্দোলনকারীদের নেতৃত্ব জানান, তাঁরা কোনও নতুন দাবি উত্থাপন করতে আসেননি বরং বিগত কয়েকবছর ধরে সরকার তাঁদের যে দাবিগুলো পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে তাঁকেই বাস্তবায়িত করার দাবি নিয়ে আজ আগে মঙ্গলবার রাজ্যের ১৬ টি জেলাতে নিজেদের দাবি আদায় করত জেলা শাসকের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন৷ তাঁদের হুশিয়ারী- দাবি পুরন না হলে রাজ্য সরকার ২০১৯ নির্বাচনে যে ফলাফল পেয়েছেন সেটাই এবারও পাবেন ৷

সংগঠনের অন্যতম নেতা মনোরঞ্জন মুর্মু বলেন, ‘ সরকার বলেছিল ২০১৮ সাল থেকে সাঁওতালি ভাষায় পরিপূর্ণ পঠন পাঠন চালু করবেন কিন্তু তা চালু করা তো দূরের কথা সরকার তার পরিকাঠামোই গড়ে তুলতে পারেননি।’
তাঁরা দাবি করেছেন, রাজ্যে তপসিলিদের ভুয়ো সার্টিফিকেটে ভরে গিয়েছে ৷ যেকারনে প্রকৃত প্রাপকরা বঞ্চিত হচ্ছেন, তাই ভুয়ে সার্টিফিকেট বাতিল করতে হবে ৷ মনোরঞ্জন মুর্মু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, যে সমস্ত আইন সরকার প্রণয়ন করছেন তাতে আদিবাসী, বনবাসীরা নিজেদের জল জঙ্গল মাটির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছে বলেই আমাদের আশঙ্কা। আমরা আমাদের মাটি, আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো রকম আপোষ করবনা। এসবই আবার নতুন করে সরকারকে জানাতে এসেছি। এই দাবি না মানলে সরকারকে মূল্য দিতে হবে।”  দাবি পত্র প্রদান করে ফিরে যাওয়ার আগে তাঁদের হুঁশিয়ারি, এবার দাবি পূরণ না হলে সরকার তার প্রতিক্রিয়া হাড়ে হাড়ে টের পাবে।