অনির্বানের বিয়ে! ঝেঁপে একটাই আলোচনা বিধাননগরে

2193
Advertisement

অনির্বান ইসলাম: এমনিতে কথাবার্তা খুব একটা নেই বিধাননগরের ওয়েস্ট এ্যভিনিউর ঈশিতা রায় আর বনশ্রী মুখার্জীর মধ্যে। মুখোমুখি দুটো বাড়ি, রাস্তার এপার ওপার আছড়ে পড়েছে দুটো বাড়িরই ঝুল বারান্দা
সেই বারান্দায় দাঁড়িয়েই আজ বনশ্রীই পাড়লেন কথাটা, ‘শুনেছেন তো?’ ওপাশ থেকে ঈশিতাও যেন উছলে পড়ে ডগমগ, ‘শুনিনি মানে? আরে গোটা কলকাতাতেতো এখন একটাই খবর! টিভি, সোশ্যাল মিডিয়া, এমন কী নিউজ পোর্টালগুলো খুলে দেখুন, ওই একটা বিষয় নিয়েই ঝড় বয়ে যাচ্ছে।”
“আরে কলকাতা ছাড়ুন,আমাদের এই বিধাননগরের কথা বলুন, আফটার অল ও তো আমাদের, এই বিধাননগরেরই ছেলে!’ বনশ্রী গলাটা বাড়িয়ে বলেন। হ্যাঁ, দুজনের কথাটা হচ্ছিল বিধাননগর, মানে মেদিনীপুর শহরের বিধাননগরে।

Advertisement

মেদিনীপুর পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড। জায়গাটা আবার মেদিনীপুরের যাকে বলে পশ এরিয়া বা অভিজাত এলাকা যেখানে প্রতি কাটা জায়গার দাম ১০লাখ থেকে শুরু। ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ঠিকাদার আর শিক্ষক দম্পত্তির বাড়ি গিজগিজ করছে। এই বিধাননগরের দুর্গাপূজার মাঠেই অনির্বানের বড় হওয়া। তেমনটাই বলছিল রুমেলা। রুমেলার সঙ্গে কথা হচ্ছিল রুষসীর। দুজনেই গোপ কলেজ মানে রাজা নরেন্দ্রলাল খান মহিলা কলেজের ফাইনাল ইয়ার। রুমেলা বলল, ‘বিয়ের কার্ডটা দেখেছিস?’ রুষসী লাফিয়ে উঠে বলল, ‘হ্যাঁরে, টেষ্টটাই আলাদা। কেমন রজনীগন্ধার গোছাটা ধরে রয়েছে? আমার মা বলে, তখন বিয়েতে রজনীগন্ধার গোছাটাই প্যাশনেট ছিল। এই সব বোকে টোকে তখন কোথায়?” রুমেলা বলে, “জানিস তো আমার দাদা অনির্বানের সঙ্গে খেলত,এই বিধাননগর মাঠেই! ও নাকি খেলাধুলাতেই তুখোড় ছিল। নাটক সিনেমা অনেক পরে।”

Advertisement
Advertisement

আগামী বৃহস্পতিবার টলিউডের হ্যান্ডসাম ব্যাচেলর হিরো অনির্বাণ ভট্টাচার্যের বিয়ে। নাট্কেরই দুনিয়া থেকে বেছে নিয়েছেন বান্ধবী মধুরিমা গোস্বামীকে। সঙ্গে চার হাত এক হচ্ছে অনির্বাণের। শোনা যাচ্ছে প্রায় এক যুগ সম্পর্ক তাঁদের ! কিন্তু মেদিনীপুর বিধাননগর মানতেই চায়না। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়িতা ভট্টাচার্য পুরো কনফিউজড। আয়ন্তিকাকে বলে, এই তো দু’বছর আগেই ইউনিভার্সিটিতে এল রে! তরুণ কবিদের একটা সাহিত্য অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে। আমিও ছিলাম, বলল, দয়া করে কেউ সেলফি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবেননা। আরও বলল, অনেকদিন পরে মেদিনীপুরে এলাম। আজ আমার মা আর বোনকে একটু সময় দেব। আমি একটু তাড়াতাড়ি বিদায় নিচ্ছি। শুনে মনেই হলনা প্রেম টেম করে বলে। যে মা বোনের জন্য এতটা ভাবে!’

অয়ন্তিকা রায়ের ভ্রু জোড়ায় কৌতুক নাচে। মজা করে বলে, ‘তুই ফিদা হয়ে গেছিলি বল? কী রে, মনে মনে প্রেমে পড়ে গেছিলি নাকি অনির্বানের?’ ধুর! কি যে বলিস, জয়িতা লজ্জা পায়। অয়ন্তিকার বাড়িও বিধাননগরে। বলে, “আসলে কী বলত অনির্বান ভট্টাচার্যর বাড়িটা এখন বিধাননগর নয় পাশের শরৎপল্লীতে। তবে ছোটবেলাতে ওর এখানেই বেশি আড্ডা ছিল। ওর জেঠুর বাড়ি বিধাননগরে। ওখানে খুব যাওয়া আসা ছিল। শুনেছি চার্চ স্কুলে পড়ত। আর ফ্যামিলিটা একটু লেফট র‍্যাডিকেল যাকে বলে তাই ওই ভ্যালুজ গুলো বয়ে বেড়ায়। ওর জেঠু তো এবার আমাদের এ পাড়া থেকেই লেফট ক্যান্ডিডেট হওয়ার কথা ছিল পৌর নির্বাচনে।”

আগামী ২৬ নভেম্বর রেজিস্ট্রি বিয়ে করছেন অনির্বাণ, ভেন্যু সল্টলেকের ন্যাশনাল মাইম ইনস্টিটিউট। পরের দিন ২৭ নভেম্বর বিয়ের অনুষ্ঠানের জায়গাতেই রিসেপশনের আয়োজন করা হয়েছে। মেদিনীপুর থেকে প্রায় ১২৫কিলোমিটার দুরে হচ্ছে অনির্বানের বিয়ে কিন্তু তাতে কী? মেদিনীপুরের একমাত্র আলোচনা সেই বিয়েই। এবছরও নবমীর দিন রাতে বিধাননগরের মাঠে পুজো দেখতে এসেছিলেন। প্রতিবারই আসেন। সামনের বার নিশ্চই মাধুরিমাকে নিয়েই আসবেন। চলছে সেই আলোচনাও। বিয়ে কলকাতায় তাই তাঁদের বিয়েতে থাকতে পারছেনা কিন্তু তাতে খেদ নেই মেদিনীপুরের। মেদিনীপুরকে গর্বের শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন অনির্বান। কলকাতার নাটক, থিয়েটারে এখন এক নম্বর জায়গায় অনির্বান।

আপাতত তাঁর ধারে কাছে কেউ নেই। বিদ্বজনেরা বলছেন, বাংলা আবার এক উৎপল দত্তকে ফিরে পেয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি অগাধ পড়াশুনা তাঁর। বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে তৈরি করেছেন অসামান্য অনুশীলনে।  তাঁর ইংরেজী উচ্চারন শুনে অপর্না সেন বলেছিলেন, মেদিনীপুরের ছেলের মুখে অমন চোস্ত ইংরেজি শুনে আমি থ বনে গিয়েছি। এমন উচ্চারন মেদিনীপুরের কেউ করতে পারে ভাবতেই পারা যায়না। কলকাতার এখনও জানার কত বাকি! এমন ছেলের বিয়েতে মেদিনীপুর একটু মেতে উঠবেনা তাই কী হয়?