কেশিয়াড়ীতে মিঠুনের রোড-শো ! ‘দাদা’কে দেখতে উপচে পড়ল ভিড়, ‘যারা বাংলায় থেকে বাংলার কথা ভুলে যান তারাই বহিরাগত!’ বললেন মিঠুন

310
কেশিয়াড়ীতে মিঠুনের রোড-শো ! 'দাদা'কে দেখতে উপচে পড়ল ভিড়, 'যারা বাংলায় থেকে বাংলার কথা ভুলে যান তারাই বহিরাগত!' বললেন মিঠুন 1

কেশিয়াড়ীতে মিঠুনের রোড-শো ! 'দাদা'কে দেখতে উপচে পড়ল ভিড়, 'যারা বাংলায় থেকে বাংলার কথা ভুলে যান তারাই বহিরাগত!' বললেন মিঠুন 2নিজস্ব সংবাদদাতা: বাঙালির ভালোবাসার ‘দাদা’দের “একজন হলে মিঠুন চক্রবর্তী বা ‘মিঠুন দা’কে দেখার জন্য ঢল নামল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ীতে। বৃহস্পতিবারই প্রথম ২০২১ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার শুরু করলেন এমএলএ কিংবা মিনিষ্টার ফাটাকেষ্ট আর শুরুতেই জমিয়ে দিলেন প্রচার। এদিন কেশিয়াড়ীর কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ড থেকে বিজেপি প্রার্থী সোনালী মুর্মুকে সঙ্গে নিয়ে হুড খোলা গাড়িতে রোড-শো শুরু করেন তুলকালামের নায়ক। প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সেই রোড-শো শেষ হয় কেশিয়াড়ী থানার সামনে। সত্তর ছুঁইছুঁই ‘মিঠুনদা’কে দেখতে আসা মানুষের ভিড়ে ঠাসা এই রাস্তা পেরুতে ১ঘন্টার বেশি সময় নেয় আশি এবং নব্বই দশকের এই নায়কের গাড়ি।

এদিন বাঁকুড়ার শালতোড়া থেকেই তাঁর প্রচার শুরু করেছেন মিঠুন। সেখানে রোড-শো শেষ করে তিনি যান পুরুলিয়ার মানবাজারের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে রোড-শো করতে। মানবাজার থেকেই তাঁর হেলিকপ্টার রওনা দেয় কেশিয়াড়ীর
কেশিয়াড়ী উদ্দেশ্যে। চৈত্রের চড়া দুপুরে কেশিয়াড়ীর বিমলেশ্বর মাঠে তাঁর হেলিকপ্টার এসে নামে আড়াইটার কিছু পরে। ঝাঁ ঝাঁ রোদ মাথায় নিয়ে তখনই কেশিয়াড়ী বাজার এলাকার দখল নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ওখান থেকে গাড়ি করে কেন্দ্রীয় বাস স্ট্যান্ডে এসে পৌঁছান। ৩টা নাগাদ প্রার্থীকে নিয়ে হুড খোলা গাড়িতে শুরু করেন রোড-শো। পুরো রাস্তারই দু-পাশ, আশেপাশের বাড়ি গুলোর ছাদ পিঠ বোঝাই করে তখন উপচে পড়া জনতা। সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে কখনও হাত নেড়েছেন, কখনও প্রণাম জানিয়েছেন চিত্র তারকা। যদিও কোনো কথা বলেননি তিনি।

কেশিয়াড়ীতে মিঠুনের রোড-শো ! 'দাদা'কে দেখতে উপচে পড়ল ভিড়, 'যারা বাংলায় থেকে বাংলার কথা ভুলে যান তারাই বহিরাগত!' বললেন মিঠুন 3

এদিন শালতোড়ায় তাঁকে দেখতে গিয়ে জনতার ভিড় এমনই ছিল যে সমস্যায় পড়তে হয় প্রশাসনকে। হেলিপ্যাড ময়দানেই মানুষের ভিড়ে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জেরে হেলিকপ্টারে ১৫ মিনিট বসেছিলেন মিঠুন। পরে জিপে করে শালতোড়ায় প্রচার শুরু করেন। যদিও শালতোড়া, মানবাজারের ভিড় কে ছাপিয়ে গেছিল পশ্চিমমেদিনীপুরের কেশিয়াড়ীর রোড-শো। মহানায়ক কে দেখার জন্য সু-শৃঙ্খলিত মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আবাল বৃদ্ধ বনিতা রাজনীতির রঙ নির্বিশেষে ভিড় করেছে শুধু তাঁকে দেখতে।

তিন কেন্দ্রেই এই ভিড় আপ্লুত এবং আবেগ তাড়িত করেছে অন্যায় অবিচারের নায়ককে। শুধুমাত্র মিঠুন চক্রবর্তীকে একবারের জন্য নিজের চোখে দেখবেন। সেই আশা নিয়েই তিন কেন্দ্রের মানুষজন নির্দিষ্ট রাস্তার ধারে ভিড় করেছিলেন এদিন। যা দেখে আপ্লুত মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি বলেছেন, এইসব মানুষের ভালবাসার কথা তিনি সবসময়ই বলেন। বাংলার মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক হিরো কিংবা ফ্যানের সম্পর্ক নয়। তাঁর সঙ্গে বাংলার মানুষের সম্পর্ক আত্মার এবং হৃদয়ের বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিন বহিরাগত বিতর্কে নাম না করে মিঠুন চক্রবর্তী তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। তিনি বলেছেন, তাহলে তো মাদার টেরিজা, সিস্টার নিবেদিতাও বহিরাগত। তিনিও বহিরাগত। পাল্টা তিনি বলেছেন, যাঁরা বাংলায় থেকে বাংলার মানুষের কথা ভুলে গিয়েছেন, তাঁরাই বহিরাগত। এদিন তিনি বলেছেন, বাঙালি হিসেবে তিনি গর্বিত। নীতির লড়াই করতেই তাঁর রাজনীতিতে যোগদান বলে জানিয়ে মিঠুন বলেছেন, গরিব মানুষদের জন্য এই ময়দানে নামা। বাংলার মানুষদের ন্যায্য অধিকার দেওয়াটা তাঁর প্রতিশ্রুতি।