সকালে শীলভদ্রর পর সন্ধ্যায় দল ছাড়লেন উত্তর কাঁথির বিধায়ক! বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মালদা, মেদিনীপুরে অব্যাহত দল ছাড়ার হিড়িক, বাবুলের গুঁতোয় ঘর মুখো জিতেন্দ্র

সকালে শীলভদ্রর পর সন্ধ্যায় দল ছাড়লেন উত্তর কাঁথির বিধায়ক! বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মালদা, মেদিনীপুরে অব্যাহত দল ছাড়ার হিড়িক, বাবুলের গুঁতোয় ঘর মুখো জিতেন্দ্র 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুক্রবার সন্ধ্যায় দল ছাড়লেন কাঁথি উত্তরের বিধায়ক বনশ্রী মাইতি। এদিন সকালেই দল ত্যাগ করেছিলেন ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত। নিজের অফিস থেকে নামিয়ে দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জীর ছবি এবার সেই পথের পথিক হলে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিবেশী কাঁথি উত্তর বিধানসভা ক্ষেত্র থেকে নির্বাচিত বিধায়ক বনশ্রী মাইতি। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে দলে অপমানিত হচ্ছিলেন তিনি। কাঁথিতে ব্রাত্য বসু নির্বেদ রায় এসে মিটিং করে যায় কিন্তু তাঁকে ডাকা হয়না। তাই অপমানের চেয়ে বিধায়ক না থাকাই শ্রেয় মনে করেন তিনি।

ওদিকে কয়েক আগেই পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রাক্তন জেলা যুব সভাপতি গৌতম রায় পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছিলেন , পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে। এবার পুরুলিয়ার বলরামপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির প্রাক্তন সভাপতি তথা বলরামপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ সভাপতি সুদীপ মাহাত তৃণমূল দল ছাড়লেন। অপরদিকে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রধান তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ভবেশ চ্যাটার্জীও একই ভাবে এদিন তৃণমূল কংগ্রেস দল ও পদ থেকে ইস্তফাপত্র পাঠালেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে। দলত্যাগী তিন জনেই শুভেন্দু অধকারী ঘনিষ্ট হিসেবেই পরিচিত। দলত্যাগী সুদীপবাবু বলেন “তৃণমূল দলটা এখন পিসি ভাইপোর কোম্পানি হয়ে গেছে। তাছাড়া পুরুলিয়া জেলার বেশ কিছু নেতা তৃণমূল দলটাকে নিজের সম্পত্তি বলে মনে করেন।” তিনি আরও জানান আগামী দিনে দাদার অনুগামী হিসেবে শুভেন্দুবাবুর দেখানো পথেই তিনি হাঁটবেন।

সকালে শীলভদ্রর পর সন্ধ্যায় দল ছাড়লেন উত্তর কাঁথির বিধায়ক! বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মালদা, মেদিনীপুরে অব্যাহত দল ছাড়ার হিড়িক, বাবুলের গুঁতোয় ঘর মুখো জিতেন্দ্র 2

অবস্থা খারাপ বাঁকুড়াতেও। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘তৃণমূল ত্যাগে’র কথা ঘোষণার পরই প্রাক্তন উপ পৌরপ্রধান বুদ্ধদেব মুখার্জী সহ ১২ জন তৃণমূল থেকে গণ ইস্তফা দিলেন। জেলা তৃণমূল সভাপতির উদ্দেশ্যে লেখা ঐ গণ ইস্তফার চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের প্রতি যে অবহেলা এবং সাংগঠনিক কাজ করতে না দেওয়া তার প্রতিবাদে আমরা দল থেকে পদত্যাগ করলাম’। ঐ চিঠিতে ‘কেউ দীর্ঘ ৩৫ বছর উপ পৌরপ্রধান, আবার কেউ ১০ থেকে ২৫ বছরের কাউন্সিলর’ বলে উল্লেখ করেছেন। যাতে প্রাক্তন উপ পৌরপ্রধান বুদ্ধদেব মুখার্জী সহ পর্যায়ক্রমে সই রয়েছে রবিলোচন দে, শ্রীকান্ত ব্যানার্জী, মমতা কুণ্ডু (৮ নম্বর ওয়ার্ড), আনন্দ রায়, উদয় ভকত, সিদ্ধেশ্বর ধীবর, সন্ধ্যা দাস, রাখী ক্ষেত্রপাল, মমতা কুণ্ডু, গোপা মুখার্জী ও চৈতালী চৌধুরী দাসের।

বাঁকুড়ার এই  দল ত্যাগীরা এক চিঠিতে তৃণমূল জেলা সভাপতির কাছে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা ও তা দ্রুত কার্যকরী করার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে মেদিনীপুর পুরসভার প্রাক্তন পৌর প্রধান প্রধান প্ৰণব বসুও শুক্রবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। প্ৰণব অবশ্য গত কয়েকমাস ধরেই বেসুরো গাইছিলেন। শুক্রবার তিনিও তৃনমূলকে পিসি-ভাইপোর দল বলেই কটাক্ষ করেছেন। শনিবার তাঁরও অমিত শাহের সভায় থাকছেন বলেই জানা গেছে।

তবে শুক্রবার তৃনমূলের পাওনা হল জিতেন্দ্র তিওয়ারির ঘরে ফেরা। ২৪ঘন্টা আগেই তিনি দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। বলেছিলেন আসানসোলের প্রতি বঞ্চনা করেছেন রাজ্য সরকার। ফিরাদ হাকিম তাঁকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানালে তিনি প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, ‘যে কলকাতাকে মিনি পাকিস্তান বানাতে চায় তাঁর সঙ্গে আলোচনায় যাবনা। তিনি বিজেপিতে যাবেন এমন সম্ভবনার কথা বলেছিলেন কিন্তু ফোঁস করেছিলেন আসানসোলের সাংসদ মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বলেছিলেন, যাঁর বিরুদ্ধে কর্মীরা লড়াই করে মার খেয়েছেন, হয়ত মারাও গেছেন তাঁকে দলে মেনে নিতে পারবনা। এরপরই সম্ভবত থমকে যান আসানসোলের প্রাক্তন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। শুক্রবার রাতে বিদ্রোহে ইতি দিয়ে জিতেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছেন তিনি বিজেপিতেই আছেন।

তবে এরপরই খারাপ খবর এসেছে মালদা থেকে। সেখানে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করলেন মালদহ গাজলের তৃণমূল বিধায়ক দিপালী বিশ্বাসের স্বামী রঞ্জিত বিশ্বাস। শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়তেই ধস মালদহ তৃণমূল শিবিরে। একের পর এক জেলা নেতা দল ছাড়ছেন। রঞ্জিত বিশ্বাসের পদত্যাগের পর বিধায়ক দিপালী বিশ্বাস সহ অনেকেই তৃনমূল ছাড়ার পথে জানা গেছে।